মুজাফফরাবাদে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, নিহত সবাই
মেলবোর্ন, ১১ জুন- পাকিস্তানের আজাদ জম্মু ও কাশ্মীর অঞ্চলের মুজাফফরাবাদের কাছে সেনাবাহিনীর একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে এতে থাকা সব সামরিক সদস্য নিহত হয়েছেন। উড্ডয়নের সময়…
মেলবোর্ন, ১১ জুন- দেশের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে জাতীয় সংসদে হাজির হচ্ছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। স্বাধীন বাংলাদেশের ৫৫তম এই বাজেটকে বর্তমান সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ অর্থনৈতিক রূপরেখা হিসেবে দেখা হচ্ছে। নতুন বাজেটে একদিকে যেমন রাজস্ব আদায়ের উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, অন্যদিকে ভর্তুকি ব্যয় কমিয়ে রপ্তানি ও রেমিট্যান্স খাতে প্রণোদনা বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আবাসন খাতে অপ্রদর্শিত অর্থ বা কালো টাকা বৈধ করার সুযোগও রাখা হচ্ছে।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের মোট আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এর বিপরীতে সরকারের মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) একাই সংগ্রহ করতে হবে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রাগুলোর একটি।
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় আগামী অর্থবছরে প্রায় ১ লাখ ৭ হাজার কোটি টাকা বেশি রাজস্ব আদায় করতে হবে। অর্থনীতিবিদদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ধারাবাহিকভাবে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থতার প্রেক্ষাপটে এই লক্ষ্য অর্জন এনবিআরের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
প্রস্তাবিত বাজেটে কর রাজস্ব থেকে মোট ৬ লাখ ২৯ হাজার কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে এনবিআরের মাধ্যমে আদায় হবে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা এবং এনবিআর-বহির্ভূত কর রাজস্ব থেকে আসবে ২৫ হাজার কোটি টাকা। এছাড়া কর-বহির্ভূত উৎস থেকে সরকারের আয় ধরা হয়েছে ৬৬ হাজার কোটি টাকা।
এবারও রাজস্ব আয়ের সবচেয়ে বড় উৎস হিসেবে থাকছে মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট)। এই খাত থেকে ২ লাখ ২৮ হাজার ৯১৫ কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে। আয়কর, মুনাফা ও মূলধনী মুনাফার ওপর কর থেকে আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৯ হাজার ৮৩৫ কোটি টাকা। এছাড়া সম্পূরক শুল্ক থেকে ৮২ হাজার ২৮৩ কোটি টাকা, আমদানি শুল্ক থেকে ৬১ হাজার ৯৩৯ কোটি টাকা, আবগারি শুল্ক থেকে ৭ হাজার ২৮৫ কোটি টাকা এবং রপ্তানি শুল্ক থেকে ৯৯ কোটি টাকা আদায়ের পরিকল্পনা রয়েছে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকার ধীরে ধীরে আমদানি নির্ভর কর কাঠামো থেকে সরে এসে অভ্যন্তরীণ উৎসভিত্তিক রাজস্ব কাঠামো শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে। তবে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধীরগতি এবং ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে চাপের কারণে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সহজ হবে না।
প্রস্তাবিত বাজেটে আয়-ব্যয়ের মধ্যে প্রায় ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি থাকছে। এই ঘাটতি পূরণে সরকার বৈদেশিক ও অভ্যন্তরীণ উভয় উৎস থেকেই ঋণ গ্রহণ করবে। বাজেট অনুযায়ী, বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে।
অভ্যন্তরীণ ঋণের মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশ আসবে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে। এ খাত থেকে সরকার ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেবে। বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য উৎস থেকে।
এদিকে আগামী অর্থবছরে ভর্তুকি খাতে ব্যয় কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। প্রস্তাবিত বাজেটে ভর্তুকি বাবদ বরাদ্দ রাখা হয়েছে প্রায় ৮৯ হাজার ৫৩৮ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ ছিল ৯৫ হাজার ৩১ কোটি টাকা। অর্থাৎ প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা কমানো হচ্ছে। আর ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রকৃত ব্যয়ের তুলনায় এ খাতে বরাদ্দ কমছে প্রায় ১৯ হাজার কোটি টাকা।
সরকারি কর্মকর্তাদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি ও সারের দাম স্থিতিশীল থাকার সম্ভাবনা এবং গ্যাস-বিদ্যুতের মূল্য সমন্বয়ের কারণে ভর্তুকির চাপ কমতে পারে। ফলে বাজেটেও এর প্রতিফলন রাখা হয়েছে।
তবে ভর্তুকি কমলেও বাড়ানো হচ্ছে রপ্তানি ও রেমিট্যান্স খাতের প্রণোদনা। আগামী অর্থবছরে রপ্তানি প্রণোদনা, পাট খাতের সহায়তা এবং প্রবাসী আয় উৎসাহিত করতে মোট ১৬ হাজার ২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। চলতি অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ ছিল ১৫ হাজার ২২৫ কোটি টাকা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করা এবং রপ্তানি আয় বাড়ানোর লক্ষ্যে সরকার এই খাতগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।
এবারের বাজেটের সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর একটি হচ্ছে কালো টাকা বা অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করার সুযোগ। প্রস্তাবিত অর্থবিলে আবাসন খাতে জমি, ফ্ল্যাট বা ভবন কেনাবেচার ক্ষেত্রে দলিলমূল্যের চেয়ে বেশি প্রকৃত মূল্য থাকলে সেই অতিরিক্ত অর্থ নিয়মিত কর পরিশোধের মাধ্যমে বৈধ করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, কোনো ব্যক্তি স্বপ্রণোদিত হয়ে এই অতিরিক্ত অর্থের ওপর প্রযোজ্য আয়কর পরিশোধ করলে পরবর্তীতে ওই অর্থের উৎস নিয়ে কোনো প্রশ্ন তোলা যাবে না। তবে যদি এ ধরনের বিষয়ে আগে থেকেই তদন্ত বা কার্যক্রম শুরু হয়ে থাকে, তাহলে নিয়মিত করের পাশাপাশি অতিরিক্ত ২০ শতাংশ কর দিতে হবে। আদালতে ইতোমধ্যে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিরা এই সুবিধা পাবেন না।
অর্থনীতিবিদদের একাংশ মনে করছেন, বিনিয়োগ ও আবাসন খাতে অর্থ প্রবাহ বাড়াতে এই উদ্যোগ নেওয়া হলেও কালো টাকা সাদা করার সুযোগ নিয়ে আবারও বিতর্ক সৃষ্টি হতে পারে।
জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে বৃহস্পতিবার বিকেলে এই বাজেট উপস্থাপন করা হবে। বর্তমান সরকারের মেয়াদে অর্থমন্ত্রী হিসেবে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর এটিই প্রথম বাজেট, ফলে অর্থনীতি, বিনিয়োগ, রাজস্ব এবং সামাজিক সুরক্ষা খাতে সরকারের ভবিষ্যৎ নীতির দিকনির্দেশনা হিসেবেও বাজেটটি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au