সরকার চায় ঐক্য, একটি মহল ছড়াচ্ছে বিভ্রান্তি: প্রধানমন্ত্রী
দেশের সব মানুষকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্য গড়ে তুলতে চায় সরকার। তবে সরকার যখন সবাইকে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে, তখন একটি মহল দেশে বিভ্রান্তি ছড়ানোর…
মেলবোর্ন, ১২ জুন- শেখ হাসিনা—বঙ্গবন্ধুর কন্যা, পাঁচ বারের প্রধানমন্ত্রী। তাঁর নাম উচ্চারণ করলেই সামনে ভেসে ওঠে মৃত্যুর মুখ থেকে ফেরা, ষড়যন্ত্র ভেঙে ঘুরে দাঁড়ানো, আর কোটি মানুষের চোখের পানি মুছিয়ে দেওয়ার গল্প। এটি কোনো রাজনৈতিক প্রবন্ধ নয়। এটি এক মানবিক আখ্যান। বিশ্ব ইতিহাসে তাঁর অবদান, মাইলফলক, দূরদর্শিতা, কারিশমা—সবই এখানে ধরা পড়ে, কিন্তু সবচেয়ে বড় পরিচয় তিনি একজন মা, একজন মানুষ।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট। ভোরবেলা মুজিবকন্যা জার্মানিতে ছিলেন। রাতারাতি পরিবার, ঘর, সবকিছু হারিয়ে গেল। বাবা শেখ মুজিবুর রহমান শিখিয়েছিলেন—“জনগণই শক্তি, জনগণই ভরসা”। সেই শিক্ষা বুকে নিয়ে তিনি ৬ বছর নির্বাসন কাটালেন। ভারতে বসে তিনি দেখলেন দেশ কেমন করে পিছিয়ে যাচ্ছে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা কেমন করে মুছে ফেলার চেষ্টা হচ্ছে। ১৯৮১ সালের ১৭ মে ঢাকায় ফিরলেন। বিমানবন্দর থেকে মানিক মিয়া এভিনিউ পর্যন্ত লাখো মানুষের ঢল। সেদিন তিনি বলেছিলেন, “আমি বাবার খুনিদের বিচার চাই, আর বাংলাদেশের মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে চাই।” পিতার মত ছিল সহজ—দেশের মানুষকে ভালোবাসো, নিজেকে বিলিয়ে দাও। মেয়ে সেই পথেই হাঁটলেন।
২০১৭ সালের আগস্ট। মিয়ানমারের রাখাইনে জাতিগত নিধন শুরু হলো। ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে ঢুকল। বিশ্ব নেতারা আলোচনা করছিলেন, সীমান্ত বন্ধ করার কথা ভাবছিলেন। শেখ হাসিনা তখন বললেন, “এরা আমারই মানুষ। ওদের ফেরানো যাবে না।” সীমান্ত খুলে দিলেন। কক্সবাজারের পাহাড় কেটে আশ্রয় হলো, ত্রাণ গেল, শিশুদের জন্য স্কুল হলো। জাতিসংঘ তাঁকে “মাদার অব হিউম্যানিটি” উপাধি দিল। বিশ্ব ইতিহাসে খুব কম রাষ্ট্রনেতা আছেন যারা নিজের দেশ গরিব হওয়া সত্ত্বেও অন্য জাতির জন্য ঘর খুলে দিয়েছেন। এটি শুধু রাজনীতি নয়, এটি মানবিকতার সর্বোচ্চ নজির।
২০১২ সাল। বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতুর ঋণ বাতিল করল। দেশের অনেকেই বললেন, “এই সেতু হবে না।” শেখ হাসিনা হাসলেন। বললেন, “নিজের টাকায় করব।” ৩০,১৯৩ কোটি টাকা। নিজস্ব অর্থায়নে সেতু হলো। ২০২ সালের ২৫ জুন যখন তিনি নিজে টোল দিয়ে সেতু পার হলেন, সেদিন বাংলাদেশ শুধু একটি সেতু পায়নি, পেয়েছিল আত্মমর্যাদা। বিশ্বকে দেখিয়ে দিলেন—ষড়যন্ত্র করে উন্নয়ন থামানো যায় না। পদ্মা সেতু আজ বিশ্ব ইতিহাসের পাতায় লেখা আছে “সাহসী সিদ্ধান্তের মাইলফলক” হিসেবে।
২০০৮ সালের নির্বাচনে তিনি স্লোগান দিলেন “ডিজিটাল বাংলাদেশ, ভিশন ২০২১”। তখন অনেকে হাসত। বলত, “গ্রামের মানুষ মোবাইলই ঠিকমতো চালাতে পারে না, ডিজিটাল কী বুঝবে?” ২০২৪ সালে এসে দেখা গেল—১৩ কোটি মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করে, ইউনিয়ন পর্যায়ে ডিজিটাল সেন্টার, অনলাইনে জমি রেজিস্ট্রি, ই-পাসপোর্ট। তিনি শুধু আজকের কথা ভাবেননি, ভেবেছেন ২০৩০ রোডম্যাপ, ভিশন ২০৪১, স্মার্ট বাংলাদেশ। জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে তিনি আন্তর্জাতিক ফোরামে বারবার কথা বলেছেন। কারণ তিনি জানেন—সমুদ্রের পানি ১ ফুট বাড়লে বাংলাদেশের ২০% জমি ডুবে যাবে। তাই তিনি “ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরাম”-এর চেয়ার হয়ে গরিব দেশগুলোর কণ্ঠ হয়ে উঠলেন।
মানুষের ভাষায় কথা বলা তাঁর কারিশমা মঞ্চের বক্তৃতায় নয়, মানুষের সঙ্গে মিশে যাওয়ায়। একবার এক বৃদ্ধা মা তাঁর কাছে এসে বললেন, “মা, আমার ছেলেটার চাকরি নাই।” তিনি সেই মাকে জড়িয়ে ধরে বললেন, “চিন্তা কইরেন না মা, আপনার ছেলে আমারও ছেলে।” এই যে মা ডাক—এটাই তাঁর কারিশমা। গোপালগঞ্জের কোটালিপাড়ায় ২০০০ সালের ২১ জুলাই ৭৬ কেজি বোমা পুঁতে রাখা হয়েছিল। সেদিন তিনি গেলেন, জনসভা করলেন। বোমা ফাটেনি। পরে বলেছিলেন, “আল্লাহ আমারে রাখছে মানুষের জন্য।” এই বিশ্বাস, এই নির্ভীকতা—এটাই মানুষকে টানে।২০০৪ ২১ আগস্ট গুলিস্তান ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা শিকার হয়েও আল্লাহ পাক ইচ্ছায় প্রাণে বেঁচে জান। এভাবে ২৩ বার দেশবিরোধী একটি চক্র তাঁকে মেরে ফেলতে চেষ্টা করেছিল। রাখে আল্লাহ মারে কে?
তিনি লন্ডনে থাকতে পারতেন, বিলাসী জীবন কাটাতে পারতেন। ১৯৭৫-এর পর সুযোগ ছিল। করেননি। কারণ তাঁর রক্তে মিশে আছে বাংলাদেশ। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশি বিদেশি ষড়যন্ত্রে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে তিনি ভারতে চলে যান। এখনো তিনি ভারতে অবস্থান করছেন। তবুও মানুষের জন্য, দেশের জন্য তাঁর মন কাঁদে। জনগণের জন্য করার চেষ্টা করেন। প্রায় দুই বছর হতে চললো তিনি দেশের বাইরে। আর এদিকে যারা রাস্তায় নেমেছিল, তারাই এখন বলে—“আমরা শেখ হাসিনাকে তাড়িয়ে ভুল করেছি। রাস্তায় নামা উচিত হয়নি। আগে বুঝতে পারিনি।” দেশপ্রেম মানে শুধু পতাকা তোলা নয়, দেশের মানুষের পেটের খাবার নিশ্চিত করা, সন্তানের স্কুল নিশ্চিত করা। তিনি সেটাই করেছেন।
একবার এক শিশু ক্যান্সারে আক্রান্ত। পরিবার প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি লিখল। তিনি নিজে ফোন করে হাসপাতালে ভর্তির ব্যবস্থা করালেন। করোনার সময় যখন সারা বিশ্ব লকডাউন, তিনি ৩১ দফা প্রণোদনা প্যাকেজ দিলেন। গার্মেন্টস শ্রমিক থেকে কৃষক—কেউ যেন না খেয়ে মরে। বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা—৫ কোটি মানুষ সরাসরি উপকার পায়। ক্ষমতা তাঁর কাছে মানে জনগণের সেবা। ২০০৯-২০২৪, টানা ১৫ বছরে তিনি দেখিয়েছেন—সরকার মানে দরবার নয়, সরকার মানে সেবার কারখানা।
একবার তিনি এক এতিমখানায় গেলেন। শিশুরা তাঁকে আঁকা ছবি দিল। একটি ছবিতে লেখা “মা, তুমি আমাদের প্রধানমন্ত্রী”। তিনি ছবিটি বুকে জড়িয়ে কেঁদে ফেললেন। আরেকবার ঘূর্ণিঝড় সিডরের পর তিনি সুন্দরবনের উপকূলে গেলেন। কাদামাখা পা নিয়ে মানুষের ঘরে ঢুকলেন। বললেন, “আমি তোমাদের মা, ভয় পেও না।” এই আখ্যানগুলো পাঠ্যবইয়ে নেই, কিন্তু মানুষের হৃদয়ে আছে।
বিশ্ব ইতিহাসে নেতা অনেক আসে। কেউ যুদ্ধ জেতে, কেউ অর্থনীতি গড়ে। কিন্তু খুব কম মানুষ আছেন যারা ক্ষমতার চেয়ারে বসেও মায়ের আসন ধরে রাখেন। শেখ হাসিনা তাদের একজন। তাঁর জীবন বলে—দূরদর্শিতা মানে ভবিষ্যৎ দেখা, কারিশমা মানে মানুষের হৃদয় ছোঁয়া, দেশপ্রেম মানে নিজেকে বিলিয়ে দেওয়া, মানবিক হওয়া মানে অন্যের কান্না নিজের কান্না ভাবা।
পিতা শেখ মুজিব স্বপ্ন দেখেছিলেন সোনার বাংলা। মেয়ে সেই স্বপ্নকে রোডম্যাপ দিয়েছেন। ১৯৯৬-২০০১ ছিল প্রথম পাঠ। ২০০৯-২০২৪ ছিল উন্নয়নের মহাকাব্য। এখন দেশ এক সংকটে। মানুষ বুঝতে পারছে—ষড়যন্ত্র করে সরকার ফেলা যায়, কিন্তু মা’কে ফেরানো যায় না।
শেখ হাসিনার মানবিক আখ্যান শেষ হয় না। কারণ যতদিন বাংলাদেশ থাকবে, ততদিন একজন মা’র গল্প থাকবে—যিনি মৃত্যুর ২৩ বার ফাঁদ পেরিয়ে, ষড়যন্ত্র ভেঙে, মানুষের জন্য বেঁচে আছেন। এখনো ৫ আগস্টের পর ভারতে অবস্থান করছেন, তবুও তাঁর মন পড়ে আছে বাংলার ঘরে ঘরে। বিশ্ব ইতিহাস তাঁকে মনে রাখবে “ মানবতার মা” হিসেবে, “পদ্মা সেতুর রুপকার ” হিসেবে, “ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা” হিসেবে। কিন্তু বাংলার মানুষ তাঁকে মনে রাখবে সবচেয়ে সহজ নামে—“শেখ হাসিনা, আমাদের মা”।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au