মেলবোর্ন, ১৩ জুন- বিশ্বকাপের মঞ্চে ব্রাজিল মানেই ইতিহাস, ঐতিহ্য আর শিরোপার গৌরব। বিশ্বের একমাত্র দল হিসেবে প্রতিটি ফুটবল বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার কৃতিত্ব রয়েছে তাদের। পাঁচবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়ে বিশ্বকাপের সবচেয়ে সফল দলও ব্রাজিল। তবে ২০০২ সালের পর থেকে আর শিরোপার দেখা পায়নি সেলেসাওরা। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে অপেক্ষার পর এবার ষষ্ঠ বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন, অর্থাৎ ‘হেক্সা’ পূরণের লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামছে ব্রাজিল।
নতুন কোচ কার্লো আনচেলোত্তির নেতৃত্বে বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল পরাশক্তি। অভিজ্ঞ এই ইতালীয় কোচের অধীনে নতুন উদ্দীপনা ফিরে পেয়েছে দলটি। তাঁর অধীনে খেলা ১০ ম্যাচে ব্রাজিল পাঁচটি জয়, দুটি ড্র এবং তিনটি হার পেয়েছে। বিশ্বকাপে দলের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য দীর্ঘদিনের শিরোপা খরা কাটিয়ে আবারও ফুটবল বিশ্বের শীর্ষে ওঠা।
স্কোয়াডে ফিরেছেন দলের অন্যতম বড় তারকা নেইমার। দীর্ঘ সময় চোটের কারণে মাঠের বাইরে থাকলেও তাঁকে ঘিরে সমর্থকদের প্রত্যাশা অনেক। তবে বর্তমান সময়ে ব্রাজিলের আক্রমণভাগের সবচেয়ে বড় ভরসা রাফিনিয়া ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। ইউরোপিয়ান ফুটবলে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা এই দুই তারকার ওপর বড় আস্থা রাখছেন আনচেলোত্তি। পাশাপাশি তরুণ প্রতিভা এনদ্রিক, গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেলি ও মাতেয়োস কুনিয়ারাও আক্রমণভাগকে আরও শক্তিশালী করেছে।
ব্রাজিল দলের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার মার্কিনিয়োস। শক্তিশালী রক্ষণভাগ, অভিজ্ঞ মিডফিল্ড এবং তারকাসমৃদ্ধ আক্রমণভাগ নিয়ে ভারসাম্যপূর্ণ একটি দল গড়েছেন আনচেলোত্তি।
ফিফা র্যাংকিংয়ের ষষ্ঠ স্থানে থাকা ব্রাজিল খেলবে ‘সি’ গ্রুপে। এই গ্রুপে তাদের প্রতিপক্ষ মরক্কো, হাইতি ও স্কটল্যান্ড। গ্রুপপর্বের প্রথম ম্যাচে ১৪ জুন নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সিতে মরক্কোর মুখোমুখি হবে ব্রাজিল। এরপর ২০ জুন ফিলাডেলফিয়ায় হাইতির বিপক্ষে এবং ২৪ জুন মায়ামিতে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে খেলবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
বিশ্বকাপে ব্রাজিলের গোলরক্ষক হিসেবে রয়েছেন আলিসন, এদেরসন ও ওয়েভারতন। রক্ষণভাগে আছেন মার্কিনিয়োস, ব্রেমার, গ্যাব্রিয়েল, অ্যালেক্স সান্দ্রো, দানিলো, লিও পেরেইরা, ইবানেজ, ওয়েসলি, দগলাস সান্তোসসহ একঝাঁক অভিজ্ঞ ও তরুণ ফুটবলার।
মিডফিল্ডে দায়িত্ব সামলাবেন কাসেমিরো, ব্রুনো গিমারেস, লুকাস পাকেতা, ফাবিনহো ও দানিলো সান্তোস। আর আক্রমণভাগে নেইমার, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, রাফিনিয়া, গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেলি, এনদ্রিক, ইগর থিয়াগো, মাতেয়োস কুনিয়া, লুইস হেনরিকে ও রায়ানের মতো খেলোয়াড়রা প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে ভীতি ছড়াবেন।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে পাঁচবার শিরোপা জেতা ব্রাজিলের সামনে এবার নতুন ইতিহাস গড়ার সুযোগ। আনচেলোত্তির কৌশল, নেইমারের অভিজ্ঞতা এবং ভিনিসিয়ুস-রাফিনিয়াদের দুর্দান্ত ফর্ম মিলিয়ে সেলেসাও সমর্থকদের স্বপ্ন এখন একটাই, বহু প্রতীক্ষিত ‘হেক্সা’ জয়।