হ্যাটট্রিকের পর বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার কাতারে মেসি
মেলবোর্ন, ১৭ জুন- ফিফা বিশ্বকাপের মঞ্চে আবারও নিজের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিলেন লিওনেল মেসি। আলজেরিয়ার বিপক্ষে দুর্দান্ত এক হ্যাটট্রিক করে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় যৌথভাবে…
মেলবোর্ন, ১৭ জুন- যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি ও সমঝোতা চুক্তির অগ্রগতির খবরের মধ্যেই ইসরায়েলের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বেন গুরিয়ন থেকে মার্কিন সামরিক জ্বালানি সরবরাহকারী বিমানের একটি অংশ সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা প্রশমনের সম্ভাব্য ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মঙ্গলবার ইসরায়েলি গণমাধ্যম চ্যানেল ১২-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক চূড়ান্ত হওয়ার খবরের পর যুক্তরাষ্ট্র বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে মোতায়েন থাকা তাদের প্রায় ২০ শতাংশ রিফুয়েলিং বা আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই সমঝোতা বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘদিনের সংঘাতের অবসান এবং স্থায়ী যুদ্ধবিরতির পথ সুগম হতে পারে।
তবে সরিয়ে নেওয়া বিমানগুলো ইসরায়েলের বাইরে অন্য কোনো দেশে স্থানান্তর করা হবে, নাকি ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর ঘাঁটিতে নেওয়া হবে, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এর আগে গত রোববার ইসরায়েলের পরিবহনমন্ত্রী মিরি রেজেভ ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, বিমানগুলো দেশটির সামরিক বিমানঘাঁটিতে স্থানান্তর করা হতে পারে।
রেজেভ জানান, বর্তমানে বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের ৭২টি রিফুয়েলিং বিমান অবস্থান করছে। এসব বিমান বিমানবন্দরের পার্কিং এলাকার প্রায় অর্ধেক জায়গা দখল করে রেখেছে। ফলে এসব বিমানের আংশিক স্থানান্তর বিমানবন্দরের কার্যক্রমেও কিছুটা স্বস্তি আনতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছিল। গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এর জবাবে তেহরানও ইসরায়েল ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা হামলা চালায়। একই সঙ্গে বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের ওপরও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।
এই সংঘাতের ফলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি মারাত্মকভাবে অবনতির দিকে যায়। বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানে তিন হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত ৮ এপ্রিল ওয়াশিংটন ও তেহরান একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। এরপর উভয় পক্ষ সংঘাতের স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে একটি রূপরেখা চুক্তি নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নেয়।
কূটনৈতিক সূত্রগুলোর দাবি, আগামী ১৯ জুন সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এই চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হতে পারে। যদি তা বাস্তবায়িত হয়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা হ্রাসের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
এদিকে ইসরায়েল থেকে মার্কিন রিফুয়েলিং বিমানের আংশিক প্রত্যাহারকে অনেক পর্যবেক্ষক সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দেখছেন। যদিও এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে কূটনৈতিক মহলে জল্পনা-কল্পনা অব্যাহত রয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au