১১৫ দিন আটকে থাকার পর হরমুজ প্রণালি পার হলো ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’
মেলবোর্ন, ২৩ জুন- দীর্ঘ ১১৫ দিনের অনিশ্চয়তা শেষে অবশেষে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের জাহাজ ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’। গতকাল সোমবার দিবাগত রাত তিনটার…
মেলবোর্ন, ২৩ জুন- আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের নেতারা। সোমবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন দাবি ও উদ্বেগের বিষয় তুলে ধরা হয়।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর ও সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মার নেতৃত্বে আট সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল বৈঠকে অংশ নেয়। এ সময় সংখ্যালঘুবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকারও উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আসন্ন দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন দাবি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এর মধ্যে অর্পিত সম্পত্তি আইন-সংক্রান্ত বিষয়ও গুরুত্ব পায়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, বর্তমান সরকার সব নাগরিকের সমান অধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে। তিনি অভিযোগ করেন, পূর্ববর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে কক্সবাজারের রামু, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর এবং কুমিল্লাসহ বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছিল। বর্তমান সরকার এ ধরনের ঘটনার ক্ষেত্রে দ্রুত ও কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বৈঠকে প্রতিনিধি দল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সংঘটিত অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা দ্রুত জানানো ও সমাধানের জন্য একটি নির্দিষ্ট ‘ফোকাল পয়েন্ট’ কর্মকর্তা নিয়োগের প্রস্তাব উত্থাপন করে। এ বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, প্রস্তাবটি দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
আলোচনায় গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে রামমন্দির নির্মাণের বিষয়ও উঠে আসে। পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে কিছু জনসম্মুখের বক্তব্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়, যেগুলো জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও সাম্প্রদায়িক স্থিতিশীলতার জন্য ক্ষতিকর হিসেবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতিতে বিশ্বাস করে। দেশের সব নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব হলেও শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার দায়িত্ব সবার। তিনি রাজনৈতিক দল, বিভিন্ন সম্প্রদায় এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানান এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে বা সামাজিক শান্তি বিনষ্ট করতে পারে এমন বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেন।
বৈঠকে অংশ নেওয়া নেতারা আসন্ন দুর্গাপূজাকে শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ পরিবেশে উদযাপনের জন্য সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন। তারা আশা প্রকাশ করেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করতে সরকার আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, দুর্গাপূজার আগে সরকার ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের মধ্যে এ ধরনের সরাসরি সংলাপ পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। এছাড়া সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং উৎসবমুখর পরিবেশ নিশ্চিত করতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au