আওয়ামী লীগের ৭৭ বছর: রূপান্তরের যে উত্তরাধিকারকে উপেক্ষা করতে পারে না বিশ্ব
মেলবোর্ন, ২৩ জুন- প্রতিষ্ঠার ৭৭ বছর পূর্তি উপলক্ষে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক যাত্রা এবং বাংলাদেশের রাষ্ট্র ও সমাজ গঠনে দলটির ভূমিকা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। দেশের…
মেলবোর্ন, ২৩ জুন- বাংলাদেশ থেকে জাপানে আম রপ্তানির সম্ভাবনা আরও জোরালো হয়েছে। এ লক্ষ্যে জাপানের একটি বাণিজ্য প্রতিনিধি দল নওগাঁর পোরশা উপজেলায় আমের বাগান ও রপ্তানি অবকাঠামো পরিদর্শন করেছে। তারা বাংলাদেশের আম উৎপাদন, মান নিয়ন্ত্রণ, প্যাকেজিং ও রপ্তানি ব্যবস্থার বিভিন্ন ধাপ সরেজমিনে মূল্যায়ন করেন।
ঢাকায় জাপান দূতাবাসের ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত এ সফরে চারজন জাপানি আমদানিকারক ও ব্যবসায়িক প্রতিনিধি অংশ নেন। তারা পোরশা উপজেলার বন্ধুপাড়ায় অবস্থিত সরকার অনুমোদিত জিএপি (গুড অ্যাগ্রিকালচারাল প্র্যাকটিসেস) সনদপ্রাপ্ত ফ্রুটস মিউজিয়াম অ্যাগ্রো ফার্মের আম্রপালি, বারি-৪, কাটিমন ও কলা আমের বাগান পরিদর্শন করেন।
প্রায় ৫০ বিঘা বা ৬ দশমিক ৭ হেক্টর আয়তনের এই বাগানটি দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক রপ্তানি বাজারের মানদণ্ড পূরণের প্রস্তুতি নিয়ে আসছে। পরিদর্শন শেষে প্রতিনিধি দলের সদস্য কাওয়ামোতো বলেন, জাপানে আমের বিপুল চাহিদা রয়েছে। আমরা জাপানি আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের পক্ষে বাংলাদেশের রপ্তানি ব্যবস্থার প্রতিটি ধাপ মূল্যায়ন করছি। সবকিছু আমাদের মানদণ্ড পূরণ করলে জাপান উল্লেখযোগ্য পরিমাণ আম আমদানি করবে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালে বাংলাদেশ থেকে আম রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ১৮৮ টন, যা আগের বছরের ১ হাজার ৩২১ টনের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। রপ্তানিকারকদের ধারণা, চলতি মৌসুমে রপ্তানি প্রায় ৩ হাজার টনে পৌঁছাতে পারে, কারণ মালয়েশিয়ার পাশাপাশি জাপানও সম্ভাবনাময় নিয়মিত বাজার হিসেবে এগিয়ে আসছে।
বাংলাদেশে বছরে প্রায় ২৪ থেকে ২৫ লাখ টন আম উৎপাদিত হলেও এর তুলনায় রপ্তানির পরিমাণ এখনও খুবই কম। ফলে আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণকে কৃষি খাতের জন্য বড় সম্ভাবনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
জাপানি কর্তৃপক্ষ এরই মধ্যে ১৬টি কোয়ারেন্টাইন-সম্পর্কিত পোকামাকড় ও রোগবালাই বিষয়ে অতিরিক্ত বৈজ্ঞানিক তথ্য চেয়েছে, যেগুলো আগের নথিতে পুরোপুরি অন্তর্ভুক্ত ছিল না। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের স্বাভাবিক কারিগরি প্রক্রিয়ার অংশ।
সফরকালে প্রতিনিধি দল নওগাঁ, রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ অঞ্চলের গ্রেডিং সুবিধা, বাছাই লাইন, প্যাকেজিং কার্যক্রম এবং বিভিন্ন ট্রিটমেন্ট সেন্টারও পরিদর্শন করে।
ফার্মটির মালিক রাইহান সিদ্দিক প্রতিনিধি দলের সামনে বাগানের চাষাবাদ পদ্ধতি, নিরাপদ কৃষি চর্চা এবং জিএপি সনদ-সংক্রান্ত নথিপত্র উপস্থাপন করেন। তিনি জানান, নওগাঁর আম ইতোমধ্যে ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে। গত বছর বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো চীনে আম রপ্তানি করেছে। এখন লক্ষ্য জাপান।
তিনি বলেন, জাপানে রপ্তানি শুরু করতে পারলে দেশের কৃষকরা ব্যাপকভাবে লাভবান হবেন।
জাপানে তাজা আম রপ্তানির জন্য প্রয়োজনীয় ভেপার হিট ট্রিটমেন্ট (বাষ্পীয় তাপ চিকিৎসা) সুবিধাও বাংলাদেশে চালু হয়েছে। ঢাকার গাবতলীতে এ ধরনের একটি কেন্দ্র বর্তমানে কার্যকর রয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জাপানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে অবশিষ্ট কারিগরি ও পেস্ট-রিস্ক বিষয়গুলো নিয়ে নিয়মিত আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তারা জানান, পোরশা অঞ্চলের চাষিদের জিএপি মানদণ্ড অনুসরণে নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেওয়া হয়। বন্ধুপাড়ার বাগানটি দীর্ঘদিন ধরে মানসম্মত চাষাবাদের রেকর্ড ধরে রাখায় জাপানি প্রতিনিধিদের সফরের জন্য এটি নির্বাচন করা হয়।
তবে রপ্তানি বিশেষজ্ঞদের মতে, জাপানের মতো উচ্চমূল্যের বাজারে টেকসই অবস্থান তৈরি করতে হলে বাংলাদেশের ঠান্ডা সরবরাহব্যবস্থা (কোল্ড চেইন), ফসল-পরবর্তী ব্যবস্থাপনা এবং বৃহৎ পরিসরে রপ্তানি সক্ষমতা আরও উন্নত করতে হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, জাপানের বাজারে প্রবেশাধিকার পাওয়া শুধু বাণিজ্যিক সাফল্যই নয়, বরং এটি হবে বাংলাদেশের আম জাপানের কঠোর খাদ্য নিরাপত্তা, কোয়ারেন্টাইন ও নিয়ন্ত্রক মানদণ্ড পূরণ করতে সক্ষম—এর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। বর্তমানে এ বিষয়ে কারিগরি পর্যালোচনা ও নীতিগত আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au