শ্রমিক আন্দোলন ঘিরে বাংলাদেশে ফের ক্ষমতার পালাবদলের আশঙ্কা কতটা?
বাংলাদেশে তৈরি পোশাকশ্রমিকদের চলমান আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশে আবারও রাজনৈতিক ক্ষমতার পালাবদলের চেষ্টা হতে পারে বলে আশঙ্কার কথা উঠে এসেছে নর্থইস্ট নিউজের একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে।…
মেলবোর্ন, ২৩ জুন- সাইপ্রাসে কাজের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হওয়া ২২ বছর বয়সী বাংলাদেশি শিক্ষার্থী শাহরিয়ার আহমেদ ওরফে ইমনের লাশ উদ্ধার করেছে দেশটির পুলিশ। ১০ দিন নিখোঁজ থাকার পর গত রোববার লারনাকা শহরের কোফিনু এলাকার একটি স্থান থেকে মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় তাঁর গলিত লাশ উদ্ধার করা হয়।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ১১ জুন রাতের পর থেকে তাঁর আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। ওই রাতেই তিনি কাজের উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হন বলে জানা গেছে। এরপর থেকে তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোন ব্যবহার করে পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করা হচ্ছিল।
পরিবারের দাবি অনুযায়ী, শাহরিয়ারের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর ব্যবহার করে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা তাঁর বাবা নাসির মিয়ার কাছে ৩৫ হাজার ইউরো, বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫০ লাখ টাকা দাবি করে। বার্তায় হুমকি দেওয়া হয়, টাকা না দিলে তাকে হত্যা করা হবে এবং তার অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিক্রি করে দেওয়া হবে। প্রথমে পরিবার বিষয়টি হ্যাকিং হিসেবে ধরে নেয়, তবে পরে বিষয়টি জটিল আকার ধারণ করে।
শাহরিয়ার নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার লোচনপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি তিন মাস আগে শিক্ষার্থী ভিসায় সাইপ্রাসে যান এবং লারনাকা শহরের ওরোক্লিনি এলাকায় বসবাস করছিলেন। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয় একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি ছিলেন এবং পাশাপাশি খণ্ডকালীন কাজের চেষ্টা করছিলেন।
নিখোঁজ হওয়ার দিন বিকেলে তিনি মায়ের সঙ্গে শেষ কথা বলেন। তিনি জানান, রাতে একটি কাজে যোগ দিতে যাচ্ছেন। এরপর নির্ধারিত সময়ে কাজের স্থানে পৌঁছে তিনি তাঁর এক সহকর্মীকে লোকেশন পাঠান। কিছু সময় পর তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
পরদিন থেকে তাঁর ব্যবহৃত নম্বর থেকেই পরিবারের সঙ্গে বারবার যোগাযোগ করে মুক্তিপণ দাবি করা হয়। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে স্থানীয় একজন সহকর্মী পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন। পুলিশ মোবাইল লোকেশন অনুসরণ করে অনুসন্ধান চালায়।
পরে তদন্তে শাহরিয়ারের মোবাইল ফোন উদ্ধার এবং একজন বাংলাদেশি তরুণকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে ওই তরুণ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় লাশ উদ্ধার করা হয়। হত্যায় ব্যবহৃত একটি ধারালো অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ বলছে, নিখোঁজ হওয়ার রাতেই শাহরিয়ারকে হত্যা করা হয়। ছুরিকাঘাতে হত্যার পর তাঁর মরদেহ গোপন স্থানে মাটিচাপা দেওয়া হয় এবং এরপর ফোন ব্যবহার করে পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করা হয়, যাতে ঘটনাটি অপহরণ বলে দেখানো যায়।
এদিকে মুক্তিপণের জন্য পরিবারকে চাপ দিতে থাকায় এক পর্যায়ে পরিবার টাকা পাঠাতে রাজি হয় বলে জানায়। দর কষাকষির পর প্রায় পাঁচ লাখ টাকা পরিশোধের সিদ্ধান্ত হয়। তবে টাকা পাঠানোর আগেই পুলিশ লাশ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে।
শাহরিয়ারের পরিবারের সদস্যরা এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছেন। তাঁর মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ছেলেকে যারা হত্যা করেছে তাদের বিচার চান এবং ছেলের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার অনুরোধ জানান।
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, বিষয়টি সাইপ্রাসের পররাষ্ট্র ও অভিবাসন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বাংলাদেশি দূতাবাসের সঙ্গে সমন্বয় করে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। তদন্ত চলছে এবং হত্যাকাণ্ডে আরও কেউ জড়িত আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au