ইরানে বিপ্লবী গার্ডের দুই সেনাকে গুলি করে হত্যা
মেলবোর্ন,৩০ জুন- ইরানের পশ্চিমাঞ্চলে ইরাক সীমান্তসংলগ্ন পাভেহ শহরে সশস্ত্র হামলায় ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) দুই সদস্য নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (৩০ জুন) ভোরে তাদের বাড়িতে…
মেলবোর্ন,৩০ জুন- সিন্ধু পানিচুক্তি (ইনডাস ওয়াটার্স ট্রিটি) নিয়ে ভারতের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে আবারও কঠোর অবস্থানের কথা জানাল পাকিস্তান। ইসলামাবাদের দাবি, চুক্তি অনুযায়ী পাকিস্তানের প্রাপ্য পানির প্রবাহে বাধা দেওয়ার যেকোনো চেষ্টা মেনে নেওয়া হবে না এবং এমন উদ্যোগের জবাব কঠোরভাবে দেওয়া হবে।
এক সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী মুসাদিক মালিক অভিযোগ করেন, ভারত পাকিস্তানের ন্যায্য পানির অংশ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, পাকিস্তানের পানির অধিকার খর্বের যেকোনো উদ্যোগ আন্তর্জাতিক চুক্তি ও আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী এবং তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
বরাত দিয়ে তিনি বলেন, ভারতের শীর্ষ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে এমন বক্তব্য দেওয়া হয়েছে যে, পাকিস্তানে এক ফোঁটা পানিও যেতে দেওয়া হবে না। তার মতে, এ ধরনের অবস্থান শুধু দুই দেশের সম্পর্কের জন্যই নয়, আন্তর্জাতিক নদী ব্যবস্থাপনার নীতির সঙ্গেও সাংঘর্ষিক।
মুসাদিক মালিক বলেন, পাকিস্তানের ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ মানুষ সরাসরি কৃষির ওপর নির্ভরশীল। ফলে পানিপ্রবাহে কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি হলে কৃষি উৎপাদন, খাদ্যনিরাপত্তা, কর্মসংস্থান এবং জাতীয় অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তিনি জানান, পাকিস্তানের মোট অর্থনীতির প্রায় এক-চতুর্থাংশ কৃষি খাতের ওপর নির্ভরশীল।
ভারতের উদ্দেশে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, পাকিস্তান আগেও স্পষ্ট করেছে, তাদের প্রাপ্য পানি কেড়ে নেওয়ার যেকোনো চেষ্টা কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে। তার ভাষায়, ‘কেউ যদি আমাদের পানির ওপর হাত বাড়ায়, সেই হাত কেটে ফেলা হবে।’
তিনি আরও বলেন, বিশ্বের বহু আন্তঃসীমান্ত নদীতে কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি না থাকলেও উজান থেকে ভাটিতে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় থাকে। সেখানে সিন্ধু নদীর মতো আন্তর্জাতিক চুক্তির আওতাধীন নদীর পানি আটকে দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।
তবে এনডিটিভি জানিয়েছে, পাকিস্তানের কয়েকটি গণমাধ্যমে এসব বক্তব্য প্রকাশিত হলেও তারা স্বাধীনভাবে বক্তব্যগুলোর সত্যতা যাচাই করতে পারেনি।
একই সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার বলেন, সিন্ধু পানিচুক্তি এখনো আইনগতভাবে কার্যকর রয়েছে এবং এটি কোনো পক্ষ একতরফাভাবে স্থগিত, বাতিল বা সংশোধন করতে পারে না। তার দাবি, আন্তর্জাতিক আইনও এ বিষয়ে পাকিস্তানের অবস্থানকে সমর্থন করে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির একাধিকবার স্পষ্ট করেছেন যে, পাকিস্তানের জন্য পানি কেবল একটি প্রাকৃতিক সম্পদ নয়, এটি জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি ‘রেডলাইন’।
এদিকে এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, কয়েক সপ্তাহ আগে ভারতের কেন্দ্রীয় পানিসম্পদমন্ত্রী সি. আর. পাটিল এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, আগামী দেড় থেকে দুই বছরের মধ্যে সিন্ধু নদীর পানিতে ভারতের প্রাপ্য অংশ পুরোপুরি ব্যবহার করা হবে এবং ভারতের জন্য বরাদ্দ এক ফোঁটা পানিও পাকিস্তানে যেতে দেওয়া হবে না। তার ওই বক্তব্যের পরই পাকিস্তানের পক্ষ থেকে নতুন করে এ কঠোর প্রতিক্রিয়া এসেছে।
অন্যদিকে এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তান বর্তমানে তীব্র পানিসংকটের মুখোমুখি। বিশেষ করে সিন্ধ ও বেলুচিস্তান অঞ্চলে পানির ঘাটতির কারণে কৃষি উৎপাদন, জীবিকা এবং স্থানীয় অর্থনীতি চাপে পড়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তানের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ পানির সংকটের প্রভাব ভোগ করছে। যদিও ইসলামাবাদ এ পরিস্থিতির জন্য ভারতের পদক্ষেপকে দায়ী করছে, বিভিন্ন বিশ্লেষকের মতে দুর্বল পানি ব্যবস্থাপনা, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং অভ্যন্তরীণ পানি বণ্টন ব্যবস্থার ত্রুটিও দেশটির বর্তমান সংকটের অন্যতম প্রধান কারণ।
সুত্রঃ এনডিটিভি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au