পাকিস্তানে যাত্রীবাহী বাস খাদে, নিহত অন্তত ৪০। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ৩ জুলাই- পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বেলুচিস্তান প্রদেশে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় গভীর খাদে পড়ে অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত আটজন। শুক্রবার সকালে বেলুচিস্তানের শেরানি জেলা থেকে খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে প্রবেশের পরপরই দুর্ঘটনাটি ঘটে। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বেলুচিস্তান প্রাদেশিক সরকারের মুখ্যমন্ত্রীর গণমাধ্যম ও রাজনৈতিক বিষয়ক সহকারী শাহিদ রিন্দ এক বিবৃতিতে জানান, প্রাথমিক তথ্যে অন্তত ৪০ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই মুখ্যমন্ত্রী সরফরাজ বুগতির নির্দেশে জরুরি উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়। বেলুচিস্তান ও খাইবার পাখতুনখাওয়া, দুই প্রদেশের জেলা প্রশাসন, উদ্ধারকারী দল এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো যৌথভাবে উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করা হবে। বাসটি কীভাবে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায়, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
শেরানির ডেপুটি কমিশনার ওয়ালি খান কাকার জানান, বাসটি বেলুচিস্তানের রাজধানী কোয়েটা থেকে ৩৬ জন যাত্রী নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল। তবে পথিমধ্যে বিকল হয়ে যাওয়া আরেকটি বাসের কয়েকজন যাত্রীও এতে ওঠেন। ফলে দুর্ঘটনার সময় বাসটিতে মোট কতজন যাত্রী ছিলেন, তা নিয়ে শুরুতে বিভ্রান্তি তৈরি হয়।
অন্যদিকে খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের জরুরি সেবা সংস্থা রেসকিউ ১১২২ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার সময় বাসটিতে মোট ৪৮ জন যাত্রী ছিলেন।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঝোব জরুরি সেবা বিভাগ ও রেসকিউ ১১২২-এর উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। আহত আটজনকে উদ্ধার করে ঝোব জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিহতদের মরদেহ প্রথমে নিকটবর্তী একটি গ্রামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়া হলেও পরে সেগুলো ঝোব জেলা সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধার অভিযান এখনও অব্যাহত রয়েছে।
দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি। এক শোকবার্তায় তিনি নিহতদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন।
বেলুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী সরফরাজ বুগতিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। তিনি বলেন, উদ্ধার কার্যক্রম আরও জোরদার করা, আহতদের সর্বোত্তম চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই কঠিন সময়ে বেলুচিস্তান সরকার দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত সব পরিবারের পাশে থাকবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
পাকিস্তানের দুর্গম পার্বত্য সড়কগুলোতে প্রায়ই ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। অতিরিক্ত গতি, সংকীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি সড়ক, যানবাহনের ত্রুটি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতাকে এসব দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে মনে করা হয়। শুক্রবারের এই দুর্ঘটনাও সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে প্রাণঘাতী সড়ক দুর্ঘটনাগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।