ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় ফিলিস্তিনি গোলরক্ষক নিহত
মেলবোর্ন, ৩ জুলাই- ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় জাতীয় পর্যায়ের ফুটবল গোলরক্ষক সালিম আল-আশকার নিহত হয়েছেন। ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (পিএফএ) বরাত দিয়ে তুরস্কের বার্তা…
মেলবোর্ন, ৩ জুলাই- ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একসঙ্গে পাঁচটি নবজাতকের জন্ম দিয়েছেন এক প্রসূতি। তবে সময়ের আগেই জন্ম হওয়ায় এবং অত্যন্ত কম ওজন নিয়ে জন্মগ্রহণ করায় পাঁচ নবজাতকের মধ্যে চারজনই মারা গেছে। বর্তমানে একটি শিশু জীবিত রয়েছে, যা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে।
হাসপাতাল ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকেল ৫টা ২০ মিনিট থেকে ৫টা ৫০ মিনিটের মধ্যে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লেবার ওয়ার্ডে অস্ত্রোপচার ছাড়াই পাঁচটি শিশুর জন্ম হয়। পাঁচ নবজাতকের মধ্যে তিনজন ছেলে ও দুইজন মেয়ে ছিল।
প্রসূতির স্বামী মাহামুদুল হাসান ডলার (৩০) ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার ডাঙ্গী ইউনিয়নের ভবুকদিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি বর্তমানে সিঙ্গাপুরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। প্রায় দেড় বছর আগে তাঁর বিয়ে হয় নগরকান্দার কোদালিয়া-শহীদনগর ইউনিয়নের বড় কাজুলী গ্রামের চাঁদনী বেগমের (২২) সঙ্গে। বিয়ের কয়েক মাস পরই তিনি গর্ভবতী হন এবং পরে চিকিৎসকদের মাধ্যমে জানা যায়, তাঁর গর্ভে পাঁচটি সন্তান রয়েছে।
হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, ওই প্রসূতিকে বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা ১০ মিনিটে স্বজনরা হাসপাতালে নিয়ে আসেন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে প্রথম সন্তান জন্ম নেয়। এরপর প্রায় ৩০ মিনিটের মধ্যে বাকি চারটি শিশু জন্মগ্রহণ করে।
হাসপাতালের লেবার ওয়ার্ডের জ্যেষ্ঠ নার্স মিনতি সরকার জানান, শিশুদের গর্ভকাল ছিল সাড়ে ছয় মাসের কিছু বেশি। নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই জন্ম হওয়ায় নবজাতকদের ওজন মাত্র ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রামের মধ্যে ছিল।
চিকিৎসকরা জানান, এ ধরনের শিশুকে এক্সট্রিমলি লো বার্থ ওয়েট বা অত্যন্ত কম ওজনের নবজাতক হিসেবে ধরা হয়, যাদের বেঁচে থাকার জন্য নিবিড় নবজাতক পরিচর্যা কেন্দ্র (এনআইসিইউ) প্রয়োজন হয়।
নবজাতক ও শিশু ওয়ার্ডের ইন্টার্ন চিকিৎসক প্রীতিরাজ পাল চৌধুরী বলেন, পাঁচটি শিশুই জন্মের সময় জীবিত ছিল। তবে উন্নত চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত এনআইসিইউ সুবিধা না থাকায় তাদের ঢাকায় স্থানান্তরের পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু পরিবার তা গ্রহণ করেনি।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, জন্মের পর রাতের বিভিন্ন সময়ে চারটি শিশু মারা যায়। শুক্রবার ভোররাতে সর্বশেষ একটি ছেলে শিশুর মৃত্যু হয়। বর্তমানে জীবিত থাকা একমাত্র ছেলে শিশুটি অক্সিজেন সহায়তায় চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এ ধরনের বিরল ও জটিল প্রসবের ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। চিকিৎসকেরা বলছেন, সময়ের আগেই জন্ম এবং অতি কম ওজনই নবজাতকদের মৃত্যুর প্রধান কারণ।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au