শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে চট্টগ্রামে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো বিক্ষোভে নেমেছেন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।ছবি: সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১৫ জুলাই- বন্যাকবলিত এলাকায় এইচএসসি পরীক্ষা আয়োজনের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে চট্টগ্রামে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও পরীক্ষার্থীরা। আন্দোলনকারীরা দাবি করেছেন, বন্যাদুর্গত শিক্ষার্থীদের বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা না করেই পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাই এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত করে নতুন সময়সূচি ঘোষণা এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুর ৩টার দিকে চট্টগ্রাম নগরের ২ নম্বর গেট এলাকায় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। এ সময় তারা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং নিজেদের দাবির পক্ষে অবস্থান জানান।
বিক্ষোভে শিক্ষার্থীরা “দফা এক, দাবি এক, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ” স্লোগান দিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যান। তাদের অভিযোগ, বন্যাকবলিত অঞ্চলের হাজারো শিক্ষার্থী এখনও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেনি। অনেকের বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, শিক্ষা উপকরণ নষ্ট হয়েছে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থাও স্বাভাবিক নয়। এমন পরিস্থিতিতে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের প্রতি অন্যায়।
আন্দোলনকারীরা বলেন, তাদের এই আন্দোলনের সূচনা হয়েছে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড এবং নগরের ২ নম্বর গেট এলাকা থেকে। তাই এই আন্দোলনের ন্যায্য সমাপ্তিও এখান থেকেই হবে। তারা সব শিক্ষার্থীকে ঐক্যবদ্ধ থেকে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।
এর আগে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকাল ১১টা থেকে চট্টগ্রাম নগরের মুরাদপুরে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এইচএসসি পরীক্ষার্থী ও শিক্ষার্থীরা। সেখানে তারা বন্যাকবলিত এলাকায় অনুষ্ঠিতব্য এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত এবং নতুন করে পরীক্ষার সময়সূচি ঘোষণার দাবিতে বিক্ষোভ করেন।
তবে মঙ্গলবার বিকেলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিকেল ৩টার দিকে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের একাংশ চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের প্রধান ফটক খুলে ফেলেন। এ সময় ফটকের সামনে থাকা কয়েকটি ব্যারিকেড ও অন্যান্য স্থাপনায় ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। এতে শিক্ষা বোর্ড এলাকায় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
শিক্ষার্থীদের দাবি, বন্যাকবলিত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে পরীক্ষা পুনর্নির্ধারণ করা জরুরি। একই সঙ্গে তারা অভিযোগ করেন, সংকটময় পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ বিবেচনায় না নেওয়ায় শিক্ষামন্ত্রীর নৈতিক দায় রয়েছে।
এদিকে আন্দোলন ঘিরে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড এবং আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে। পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এখন পর্যন্ত আন্দোলনকারীদের দাবির বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে নতুন কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।