মেলবোর্ন, ১৬ জুলাই- বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে শেষ মুহূর্তের নাটকীয় জয়ে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে উঠেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। আটলান্টায় অনুষ্ঠিত শ্বাসরুদ্ধকর এই ম্যাচে লিওনেল মেসির অসাধারণ নৈপুণ্যে শেষ পর্যন্ত ভেঙে যায় ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন। ফলে ১৯৬৬ সালের পর আবারও শিরোপা জয়ের অপেক্ষা দীর্ঘায়িত হলো ইংল্যান্ডের।
ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দল আক্রমণাত্মক ফুটবল খেললেও প্রথমে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। দীর্ঘ সময় ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে ফাইনালের স্বপ্ন দেখছিল থ্রি লায়ন্সরা। তবে ম্যাচের শেষ ভাগে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়ায় আর্জেন্টিনা।
৮৫তম মিনিটে সমতাসূচক গোল করে ম্যাচে ফেরে লিওনেল স্কালোনির দল। এরপর যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে লিওনেল মেসির অসাধারণ একটি আক্রমণ থেকে আসে জয়সূচক গোল। ম্যাচে আর্জেন্টিনার দুই গোলেই সরাসরি অবদান রাখেন মেসি। তার নিখুঁত পাস ও সৃষ্টিশীল খেলাই শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগ ভেঙে দেয় এবং দলকে পৌঁছে দেয় আরেকটি বিশ্বকাপ ফাইনালে।
এই জয়ের মাধ্যমে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা। শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ হবে স্পেন, যারা অপর সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করেছে। আগামী সোমবার অনুষ্ঠিত হবে বহুল প্রতীক্ষিত এই ফাইনাল।
অন্যদিকে, আরেকটি বিশ্বকাপ ব্যর্থতার পর ইংল্যান্ডে শুরু হয়েছে ব্যাপক হতাশা ও সমালোচনা। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে লিড ধরে রাখতে না পারা, রক্ষণভাগের ভুল এবং কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিয়ে ইতোমধ্যেই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন সমর্থক ও ফুটবল বিশ্লেষকেরা। বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হওয়ার পর ইংল্যান্ড দলের পারফরম্যান্স নিয়ে এখন দেশজুড়ে চলছে মূল্যায়ন ও আলোচনা।
ম্যাচ শেষে আর্জেন্টিনার ফুটবলারদের উদযাপনও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ইংল্যান্ডকে হারানোর পর উদযাপনের সময় কয়েকজন খেলোয়াড় একটি ব্যানার প্রদর্শন করেন, যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই এটিকে খেলোয়াড়সুলভ আচরণের পরিপন্থী বলে সমালোচনা করেছেন।
সব মিলিয়ে নাটকীয় এই জয়ের মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসে আরেকটি স্মরণীয় অধ্যায় যোগ করল আর্জেন্টিনা। এখন তাদের সামনে লক্ষ্য, স্পেনকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মুকুট ধরে রাখা।