মেলবোর্ন, ১৬ জুলাই- ভূমধ্যসাগরের লিবিয়ার পূর্ব উপকূলে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের বহনকারী একটি নৌকা ডুবে অন্তত ৫০ জন নিখোঁজ হয়েছেন। নৌকাটিতে মোট প্রায় ৬০ জন যাত্রী ছিলেন। তাদের মধ্যে মাত্র ১০ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে লিবিয়ার কোস্ট গার্ড।
কোস্ট গার্ড কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাতে পূর্ব লিবিয়ার উপকূলীয় শহর তোব্রুক থেকে একটি ইঞ্জিনচালিত কাঠের নৌকা ইতালির উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। নৌকাটিতে প্রায় ৬০ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী ছিলেন। যাত্রার কিছুক্ষণ পরই নৌকাটি ভূমধ্যসাগরে ডুবে যায়। প্রবল স্রোতে অধিকাংশ যাত্রী ভেসে যান এবং মাত্র ১০ জন সাঁতরে কাছাকাছি বারদা দ্বীপে পৌঁছাতে সক্ষম হন।
পরে কোস্ট গার্ড সদস্যরা ওই দ্বীপ থেকে জীবিত ১০ জনকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যান। নিখোঁজদের উদ্ধারে সমুদ্রজুড়ে তল্লাশি চালানো হলেও শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তাদের কোনো সন্ধান মেলেনি।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে লিবিয়ার উপকূল থেকে ইউরোপে যাওয়ার পথে একের পর এক নৌকাডুবির ঘটনা ঘটছে। গত জুন মাসেও একই অঞ্চলে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের বহনকারী আরেকটি নৌকা ডুবে অন্তত ৫১ জন নিখোঁজ হন।
গত এক দশকে ভূমধ্যসাগর হয়ে ইউরোপে পৌঁছানোর চেষ্টা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। রাজনৈতিক অস্থিরতা, দারিদ্র্য, সংঘাত ও সহিংসতা থেকে পালিয়ে দক্ষিণ এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য এবং উত্তর আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের হাজারো মানুষ মানবপাচারকারীদের সহায়তায় লিবিয়া হয়ে ইউরোপে যাওয়ার ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রায় নামছেন। তবে ছোট ও অনিরাপদ নৌকায় এই সমুদ্রপথ পাড়ি দিতে গিয়ে প্রতিবছর বহু মানুষ প্রাণ হারান বা নিখোঁজ হন।
জাতিসংঘের অভিবাসনবিষয়ক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন (আইওএম)-এর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৬ মে পর্যন্ত শুধু লিবিয়ার উপকূলেই ৮০০-এর বেশি অভিবাসনপ্রত্যাশী নিখোঁজ হয়েছেন। সংস্থাটি বলছে, ইউরোপগামী এই সমুদ্রপথ বিশ্বের অন্যতম প্রাণঘাতী অভিবাসন রুট হিসেবে রয়ে গেছে।
সূত্র : এএফপি