জাপানে ৭.১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, ধসে পড়া বিপণিবিতানে আটকা বহু মানুষ
মেলবোর্ন, ২৯ জুলাই: জাপানের দক্ষিণাঞ্চলীয় কুমামোতো অঞ্চলে ৭ দশমিক ১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে একটি বহুতল বিপণিবিতানের একাংশ ধসে পড়েছে। এতে ভবনটির ভেতরে বহু মানুষ আটকা…
মেলবোর্ন, ২৯ জুলাই: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) শিক্ষার্থীবান্ধব ও স্বচ্ছ আবাসিক সিট নীতিমালা প্রণয়নের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটের সভা ঘেরাও করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নেতারা। কয়েক ঘণ্টার অবস্থান কর্মসূচির পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে ডাকসুর চার প্রতিনিধি সিন্ডিকেট সভায় আলোচনায় অংশ নেন।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সিন্ডিকেট সভা চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে এ কর্মসূচি শুরু হয়। পরে রাত ৮টা ১৫ মিনিটের দিকে আলোচনার জন্য ডাকসুর চার প্রতিনিধি সভাকক্ষে প্রবেশ করেন।
আলোচনায় অংশ নেওয়া চার প্রতিনিধি হলেন, ডাকসুর ছাত্র পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ, সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের, ক্যারিয়ার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম এবং শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল সংসদের সহ-সভাপতি (ভিপি) আহসান হাবীব ইমরোজ।
স্লোগানে মুখর প্রশাসনিক ভবন
ঘেরাও কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন। তাদের মধ্যে ছিল, “আদু ভাইয়ের ঠিকানা, এই ক্যাম্পাসে হবে না”, “গণরুমের পায়তারা, রুখে দেবে ছাত্ররা”, “আবাসনে রি-অ্যাড, চলবে না চলবে না”, “বিতর্কিত সিট নীতিমালা, চলবে না চলবে না” এবং “স্বচ্ছ নীতিমালা, দিতে হবে দিয়ে দাও”।
‘রি-অ্যাডমিশনের সুযোগে হলে আধিপত্য ফিরতে পারে’
ডাকসুর ছাত্র পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ অভিযোগ করেন, তিনবার পর্যন্ত রি-অ্যাডমিশনের সুযোগ রেখে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ সময় হলে থাকার ব্যবস্থা করার চেষ্টা চলছে।
তিনি বলেন, “আমরা জানতে পেরেছি, তিনবার রি-অ্যাডের মাধ্যমে আট বছর পর্যন্ত হলে থাকার সুযোগ তৈরির পাঁয়তারা হচ্ছে। এমন সুযোগ দেওয়া হলে অনেকে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে ইচ্ছাকৃতভাবে রি-অ্যাডমিশন নেবে এবং হলের সিট ছাড়বে না। এর ফলে আবারও গণরুম ও গেস্টরুম সংস্কৃতি ফিরে আসতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, সিন্ডিকেট সভায় সিট বরাদ্দ নীতিমালা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে বলে তারা জানতে পেরেছেন। শিক্ষার্থীদের স্বার্থবিরোধী কোনো সিদ্ধান্ত হতে দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।
আসিফ আব্দুল্লাহর দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার প্রথম দিন থেকেই প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য আবাসিক সিট নিশ্চিত করতে হবে।
শিক্ষার্থীদের দাবি কী
ডাকসু নেতাদের দাবি, অনার্সে দুই বছর এবং মাস্টার্সে এক বছর পর্যন্ত রি-অ্যাডমিশনের মাধ্যমে আবাসিক সুবিধা বহাল রাখার পরিকল্পনা হলে দীর্ঘমেয়াদি অবস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। এতে নিয়মিত শিক্ষার্থীরা আবাসিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন এবং হলকেন্দ্রিক প্রভাব বিস্তারের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।
তাদের মতে, পুনঃভর্তি বা দীর্ঘদিন হলে অবস্থানকারী শিক্ষার্থীদের বিষয়ে সুস্পষ্ট, স্বচ্ছ ও শিক্ষার্থীবান্ধব নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে, যাতে নতুন ও নিয়মিত শিক্ষার্থীদের আবাসন অধিকার নিশ্চিত হয়।
প্রশাসনের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা, পরে আলোচনায় সমাধানের উদ্যোগ
ঘেরাও কর্মসূচির একপর্যায়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলতে এলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ড. এনামুল হক সজিবের সঙ্গে ডাকসু প্রতিনিধিদের বাকবিতণ্ডা হয়।
পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাঁচজন প্রতিনিধিকে সিন্ডিকেট সভায় অংশ নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। তবে ডাকসুর সাহিত্য সম্পাদক মোসাদ্দেক আলী ইবনে মোহাম্মদ প্রথমে সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বলেন, তারা সভাকক্ষে যেতে চান না; বরং সিন্ডিকেট সদস্যদের বাইরে এসে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলতে হবে।
পরবর্তীতে রাত ৮টা ১৫ মিনিটের দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আবারও আলোচনার আহ্বান জানালে প্রক্টরিয়াল বডির সহযোগিতায় ডাকসুর চার প্রতিনিধি সিন্ডিকেট সভাকক্ষে প্রবেশ করেন। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে সিট নীতিমালা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au