অবসরের দুদিন আগে বাসা থেকে পুলিশ কর্মকর্তা মনোজ কান্তি দাসের মরদেহ উদ্ধার
মেলবোর্ন, ৩১ জুলাই: অবসরে যাওয়ার মাত্র দুই দিন আগে সিলেট নগরীর নিজ বাসা থেকে পুলিশের এক কর্মকর্তার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই, ২০২৬)…
মেলবোর্ন, ৩০ জুলাই: বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে জনগণের নিরাপত্তা, গণতান্ত্রিক পরিবেশ এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ ক্যাথলিক বিশপ সম্মেলনের ইন্টিগ্রাল হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট কমিশনের সচিব ফাদার হুবার্ট লিটন গোমেজ। তিনি মনে করেন, নতুন রাষ্ট্রপতির প্রধান দায়িত্ব হবে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে দেশের স্বার্থে কাজ করা।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফাদার হুবার্ট লিটন গোমেজ বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের মানুষের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন নিরাপত্তা। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন রাষ্ট্রপতি সরকারকে এমন নির্দেশনা দেবেন যাতে দেশের প্রতিটি নাগরিক নিরাপদে বসবাস করতে পারেন।
তিনি বলেন, নতুন রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব শুধু সাংবিধানিক আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। বরং তিনি যেন শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা, জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করা এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা পালন করেন। একই সঙ্গে তিনি রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে থেকে দেশের মানুষের জন্য কাজ করবেন বলেও প্রত্যাশা করেন।
গত সপ্তাহে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করার পর থেকেই দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা ও জল্পনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন মহল থেকে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও উঠেছে। এদিকে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্প্রতি বছরের শেষ নাগাদ দেশে ফেরার ইচ্ছার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। যদিও দেশে ফিরলে তাকে গ্রেপ্তার, কারাদণ্ড কিংবা আরও কঠোর আইনি পরিণতির মুখোমুখি হতে হতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর থেকেই বাংলাদেশ রাজনৈতিক পুনর্গঠনের একটি জটিল সময় অতিক্রম করছে। ওই আন্দোলনের পর আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয় এবং দলটির অনেক শীর্ষ নেতা আত্মগোপনে চলে যান। একই সময়ে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতার বাড়িঘর ও সম্পত্তিতে হামলা, ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে।
২০২৪ সালের জুলাই থেকে আগস্ট পর্যন্ত আন্দোলন দমনে পরিচালিত অভিযানে প্রায় ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ জন নিহত হন বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তর তাদের তদন্তে জানায়, সে সময় নিরাপত্তা বাহিনী এবং তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মাধ্যমে সংঘটিত সহিংসতার ঘটনায় গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন পদত্যাগপত্রে স্বাস্থ্যগত জটিলতার কথা উল্লেখ করেছেন। ৭৭ বছর বয়সী সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে পাঁচ বছরের জন্য দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন।
সংবিধান অনুযায়ী, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। একই সময়ে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল স্পিকারের দায়িত্ব পালন করবেন। আগামী ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদের মাধ্যমে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের কথা রয়েছে।
এদিকে রাষ্ট্রপতি পদত্যাগের পর রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও জোরালো হয়েছে। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন দাবি করেছেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে বিচারের মুখোমুখি করা উচিত। তার অভিযোগ, সাহাবুদ্দিনকে অভিশংসনের মাধ্যমে অপসারণের পরিবর্তে পদত্যাগের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান রাষ্ট্রপতির পদত্যাগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এর মাধ্যমে দেশের ওপর থাকা স্বৈরাচারের একটি কালো অধ্যায়ের অবসান হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের সহিংসতার সময় রাষ্ট্রপতি কোনো প্রতিবাদ জানাননি।
ফাদার হুবার্ট লিটন গোমেজ বলেন, গণতন্ত্রে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সভা-সমাবেশ ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি। সম্প্রতি হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টি ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের সমাবেশ নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বিরোধী দলকে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনে বাধা দেওয়া কোনো গণতান্ত্রিক সরকারের আচরণ হতে পারে না।
তার মতে, বাংলাদেশে দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা করতে হলে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী করা এবং সব রাজনৈতিক পক্ষের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এটাই দেশের শান্তি, উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার ভিত্তি হয়ে উঠতে পারে।
সুত্রঃ ক্রাক্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au