অবসরের দুদিন আগে বাসা থেকে পুলিশ কর্মকর্তা মনোজ কান্তি দাসের মরদেহ উদ্ধার
মেলবোর্ন, ৩১ জুলাই: অবসরে যাওয়ার মাত্র দুই দিন আগে সিলেট নগরীর নিজ বাসা থেকে পুলিশের এক কর্মকর্তার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই, ২০২৬)…
মেলবোর্ন, ৩০ জুলাই: ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা দেশে এসে আত্মসমর্পণ করতে চাইলে আত্মসমর্পণের আগেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে আইন মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের (ডিবিএলএ) সঙ্গে বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট) এবং ব্র্যাকের সামাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনি সুরক্ষা কর্মসূচির পৃথক দুটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফেরার বিষয়ে বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে দেওয়া বক্তব্য প্রসঙ্গে সাংবাদিকরা সরকারের অবস্থান জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাঁর প্রত্যর্পণের চেষ্টা করছে। তবে তিনি দেশে ফিরলে আইন তার নিজস্ব গতিতেই চলবে।
তিনি বলেন, “একজন ফাঁসির আসামিও যদি বাংলাদেশের নাগরিক হন এবং দেশের আইনের প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে আত্মসমর্পণ করতে চান, তাহলে তাঁর সেই অধিকার রয়েছে। তবে আত্মসমর্পণের আগেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে। আমরা আইনের ব্যত্যয় করে কিছু করব না। আইন যেভাবে ক্ষমতা দিয়েছে, সেভাবেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
শেখ হাসিনার কাছে বর্তমানে বাংলাদেশি পাসপোর্ট না থাকায় তিনি কীভাবে দেশে ফিরবেন, এমন প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, “তিনি কীভাবে আসবেন, সেটা তাঁর বিষয়। বাংলাদেশের সীমানায় প্রবেশ করার পর আইন অনুযায়ী যা করার, সেটাই করা হবে।”
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে যা বললেন
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি এখনো সরকারের আলোচনায় আসেনি। তিনি জানান, সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে।
তিনি বলেন, “বিশেষ অধিবেশন ডাকার প্রয়োজনীয়তা আপাতত দেখছি না। কারণ আগামী নিয়মিত অধিবেশন সংবিধান নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই অনুষ্ঠিত হবে। তবে সরকার প্রয়োজন মনে করলে বিশেষ অধিবেশন ডাকতে পারে।”
বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি জোরদারে সরকারের উদ্যোগ
অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী বলেন, আদালতের মামলার জট কমাতে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে সরকার কাজ করছে। এ লক্ষ্যে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে আইনি সহায়তা ও মধ্যস্থতা কার্যক্রম পরিচালনাকারী বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে অংশীদারত্ব গড়ে তোলা হয়েছে।
তিনি জানান, এক পর্যালোচনায় দেখা গেছে, দেশের ২০টি জেলায় নির্দিষ্ট কয়েকটি আইনের আওতায় ২০২৬ সালের মার্চ থেকে মে মাসে নতুন মামলার সংখ্যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬২ শতাংশের বেশি কমেছে। তাঁর মতে, এটি এডিআর কার্যক্রমের ইতিবাচক ফল।
বিচার বিভাগকে উপযুক্ত মামলাগুলো মধ্যস্থতার মাধ্যমে নিষ্পত্তিতে আরও উৎসাহিত করার আহ্বান জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, এতে আদালতের ওপর চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। প্রয়োজনীয় আইনগত সংস্কার আনতেও সরকার প্রস্তুত রয়েছে।
সমঝোতা স্মারকের আওতায় যা হবে
সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, ব্লাস্টের সহযোগিতায় ঢাকা, গাজীপুর ও চট্টগ্রামে পরীক্ষামূলকভাবে কোর্ট প্যারা লিগ্যাল নিয়োগের মাধ্যমে শ্রমিকদের আইনি সহায়তা দেওয়া হবে। পাশাপাশি ব্লাস্ট পরিচালিত সফল মধ্যস্থতাকে আইনগত স্বীকৃতি দেওয়া এবং ব্যর্থ মধ্যস্থতার ক্ষেত্রে আদালতে মামলা করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রত্যয়নপত্র সরবরাহের ব্যবস্থা করা হবে।
অন্যদিকে ব্র্যাকের সামাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনি সুরক্ষা কর্মসূচির সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের আওতায় পেশাদার মধ্যস্থতাকারীদের প্রশিক্ষণ, সনদ প্রদান, সফল মধ্যস্থতার আইনগত স্বীকৃতি, ব্যর্থ মধ্যস্থতার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় প্রতিবেদন প্রদান এবং যৌথ মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
অনুষ্ঠানে আইন ও বিচার বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তর, ব্লাস্ট ও ব্র্যাকের প্রতিনিধিসহ উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au