রাজশাহীর পবায় শিশুকে যৌন হয়রানির অভিযোগে জামায়াতের রোকন আটক
মেলবোর্ন,০১আগস্ট: রাজশাহীর পবা উপজেলায় ৯ বছর বয়সী এক শিশুকন্যাকে যৌন হয়রানির অভিযোগে ওমর ফারুক নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। তিনি জামায়াতে ইসলামীর বড়গাছি ইউনিয়নের একটি…
মেলবোর্ন, ৩১ জুলাই: দেশের বরেণ্য সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, চিত্রশিল্পী, টেলিভিশন নির্মাতা ও পুতুল নাচের পথিকৃৎ মুস্তাফা মনোয়ার আর নেই। নিউমোনিয়া জনিত জটিলতায় রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার (২৯ জুন) সকালে তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯০ বছর। তাঁর মৃত্যুতে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
পারিবারিক সূত্র জানায়, ফুসফুসে গুরুতর ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ নিয়ে গত ১৪ জুন রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন মুস্তাফা মনোয়ার। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়া হয়। একপর্যায়ে অবস্থার কিছুটা উন্নতি হওয়ায় ভেন্টিলেটর সাপোর্ট খুলে নেওয়া হলেও পরে আবার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টার পরও তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি বলে জানান তাঁর স্ত্রী মেরী মনোয়ার।
১৯৩৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর মাগুরা জেলার শ্রীপুর উপজেলার নাকোল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন মুস্তাফা মনোয়ার। তাঁর পৈতৃক নিবাস ঝিনাইদহ জেলার শৈলকূপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে। তিনি খ্যাতিমান কবি গোলাম মোস্তফা ও জমিলা খাতুনের সন্তান। নারায়ণগঞ্জ গভর্নমেন্ট হাইস্কুল থেকে মাধ্যমিক পাস করার পর কলকাতার স্কটিশ চার্চ কলেজে ভর্তি হন। পরে কলকাতা চারু ও কারুকলা মহাবিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে ১৯৫৯ সালে ফাইন আর্টসে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অর্জন করেন। তাঁর জলরঙের চিত্রকর্মের প্রশংসা করেছিলেন বিশ্বখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা সত্যজিৎ রায়ও।
১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় বাংলা ভাষার পক্ষে কার্টুন আঁকার কারণে তাঁকে এক মাস কারাবরণ করতে হয়। সেই অভিজ্ঞতা তাঁর শিল্পচর্চা ও সাংস্কৃতিক ভাবনায় গভীর প্রভাব ফেলেছিল। দেশে ফিরে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের আহ্বানে ১৯৬০ সালে তৎকালীন আর্ট কলেজে শিক্ষকতা শুরু করেন। পরে পাকিস্তান টেলিভিশনের ঢাকা কেন্দ্রে যোগ দিয়ে বাংলা সংস্কৃতি বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ১৯৭১ সালের ২৩ মার্চ পাকিস্তান দিবসে টেলিভিশনে পাকিস্তানের পতাকা প্রদর্শন না করার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের অন্যতম রূপকারও ছিলেন তিনি।
দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশনের উপ-মহাপরিচালক, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক, জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনের (এফডিসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বাংলাদেশে পাপেট শো বা পুতুলনাচকে জনপ্রিয় করে তোলার ক্ষেত্রে তাঁর অবদান অনন্য। তাঁর সৃষ্ট জনপ্রিয় পাপেট চরিত্র ‘পারুল’ পরবর্তীতে দক্ষিণ এশিয়ার বহুল পরিচিত অ্যানিমেশন চরিত্র ‘মীনা’ তৈরির অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করে। এছাড়া বাংলাদেশ টেলিভিশনের জনপ্রিয় শিশুতোষ অনুষ্ঠান ‘নতুন কুঁড়ি’র রূপকারও ছিলেন তিনি।
টেলিভিশন নাটক নির্মাণেও তিনি বিশেষ কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন। তাঁর নির্দেশিত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘রক্তকরবী’ এবং মুনীর চৌধুরীর অনূদিত ‘মুখরা রমণী বশীকরণ’ নাটক আন্তর্জাতিক পর্যায়েও প্রশংসিত হয়।
চিত্রকলা, টেলিভিশন, শিশুতোষ অনুষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক বিকাশে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৪ সালে বাংলাদেশ সরকার তাঁকে একুশে পদকে ভূষিত করে। দেশ-বিদেশের অসংখ্য সম্মাননা ও পুরস্কারে ভূষিত এই গুণী শিল্পীর মৃত্যুতে সাংস্কৃতিক অঙ্গনের অপূরণীয় ক্ষতি হলো।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au