এটি নিয়মিত নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে দেওয়া একটি ‘রিমাইন্ডার’ বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম।ফাইল ছবি
মেলবোর্ন, ২ আগস্ট: রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক বোমা-আতঙ্ক ও সন্দেহজনক বস্তু উদ্ধারের ঘটনার পর পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে জারি করা নিরাপত্তা সতর্কতা কোনো নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম। তাঁর ভাষায়, এটি ছিল সদস্যদের সতর্ক রাখতে দেওয়া নিয়মিত একটি ‘রিমাইন্ডার’।
রোববার দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
শফিকুল ইসলাম বলেন, পুলিশ জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিজেদের নিরাপত্তার বিষয়েও সবসময় সতর্ক থাকে। সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীতে কয়েকটি বোমা-আতঙ্কের ঘটনা এবং গুজব ছড়িয়ে পড়ার পরিপ্রেক্ষিতে মাঠপর্যায়ের সদস্যদের আরও সতর্ক থাকতে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর আগে বিভিন্ন সময়ও একই ধরনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “না, এ ধরনের নির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই। তবে আমাদের সিনিয়র কর্মকর্তারা নিয়মিতভাবে মাঠপর্যায়ের সদস্যদের সতর্ক থাকার নির্দেশনা দিয়ে থাকেন।”
মতিঝিলে উদ্ধার হওয়া আইইডি প্রসঙ্গে ডিবি প্রধান বলেন, ঘটনাটির তদন্ত করছে ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট। ডিবিও সমান্তরালভাবে তথ্য সংগ্রহ ও তদন্ত করছে। জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তদন্তের স্বার্থে এ মুহূর্তে বিস্তারিত কিছু জানানো সম্ভব নয়।
এ ঘটনায় কোনো সংগঠনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনা সাধারণত এককভাবে সংঘটিত হয় না। এর পেছনে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর উদ্দেশ্য কিংবা মতাদর্শ প্রচারের বিষয় থাকতে পারে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এ বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাবে না।
এর আগে শনিবার পুলিশ সদর দপ্তরের অপারেশন্স কন্ট্রোল রুম থেকে মাঠপর্যায়ের সব ইউনিটে নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশনা পাঠানো হয়। সেখানে উল্লেখ করা হয়, উগ্রবাদী সংগঠনের সদস্য বা দুর্বৃত্তরা পুলিশের জিপ, পিকআপ ও বাসসহ বিভিন্ন যানবাহনকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে। তাই দায়িত্ব পালনকালে ও ডিউটি শেষে যানবাহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত, নিয়মিত টহল, নজরদারি এবং সন্দেহজনক ব্যক্তি বা বস্তু শনাক্তে বিশেষ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়।
যদিও এ বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন গণমাধ্যমকে জানান, পুলিশ সদস্যদের সচেতন ও প্রস্তুত রাখতে নিয়মিত এমন নির্দেশনা দেওয়া হয়। এতে জনসাধারণের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।
গত এক সপ্তাহে রাজধানীতে একাধিক বোমা-আতঙ্কের ঘটনা ঘটে। ২৪ জুলাই মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে একটি ছাতার ভেতর থেকে শক্তিশালী আইইডি উদ্ধার করে নিষ্ক্রিয় করে পুলিশ। পরদিন বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে একটি সন্দেহজনক বস্তা ঘিরে আতঙ্ক ছড়ালেও সেখানে কোনো বিস্ফোরক পাওয়া যায়নি। সর্বশেষ শনিবার মিরপুর-১০ ও ফার্মগেট মেট্রোরেল স্টেশনে উদ্ধার হওয়া দুটি সন্দেহজনক ব্যাগ ও বস্তাতেও বিস্ফোরক মেলেনি।
পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, সাম্প্রতিক এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই মাঠপর্যায়ের সদস্যদের নিরাপত্তা ও সতর্কতা জোরদারের নির্দেশনা পুনরায় দেওয়া হয়েছে।