প্রাথমিকের ক্রীড়া শিক্ষায় অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে মার্শাল আর্ট। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২ আগস্ট: প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বাধ্যতামূলক ক্রীড়া শিক্ষায় ‘মার্শাল আর্ট’ অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ, আত্মবিশ্বাস, শৃঙ্খলা ও আত্মনিয়ন্ত্রণ গড়ে তুলতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
শুক্রবার (১ আগস্ট) রাজধানীর বিজয় সরণির র্যাংগস ভবনে বাংলাদেশ কিয়োকুশিন কারাতে সংস্থা আয়োজিত ‘ব্ল্যাক বেল্ট প্রদান’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ তথ্য জানান প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির বাধ্যতামূলক ক্রীড়া শিক্ষার অংশ হিসেবে মার্শাল আর্ট অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এটি শুধু আত্মরক্ষার কৌশল নয়, বরং শিক্ষার্থীদের মধ্যে শৃঙ্খলাবোধ, আত্মবিশ্বাস, ধৈর্য ও ইতিবাচক মানসিকতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, একজন শিক্ষার্থী যখন নিজের ওপর আস্থা অর্জন করে, তখন সে সহিংসতা ও সংঘাত এড়িয়ে গঠনমূলক ভূমিকা রাখতে শেখে। তাই সুস্থ, আত্মবিশ্বাসী ও দেশপ্রেমিক প্রজন্ম গড়ে তুলতে খেলাধুলার পাশাপাশি মার্শাল আর্টের প্রসারও জরুরি।
তিনি সারা দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্প্রসারণে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কারাতে সংগঠনগুলোর প্রতি আহ্বান জানান। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাসও দেন। বক্তব্যে ববি হাজ্জাজ নিজের কারাতে চর্চার স্মৃতিচারণ করে জানান, ১৯৯১ সালে কিয়োকুশিন কারাতে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তার এ যাত্রা শুরু হয়েছিল। সেই সময়ের অনুশীলন ও অভিজ্ঞতা আজও তাকে অনুপ্রাণিত করে। বর্তমান প্রজন্মের কারাতেকাদের পরিবেশনা তাকে তিন দশক আগের স্মৃতিতে ফিরিয়ে নিয়ে গেছে বলেও উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, মার্শাল আর্ট শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বের গুণাবলি, আত্মরক্ষার সক্ষমতা ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠান শেষে ব্ল্যাক বেল্ট অর্জনকারী কারাতেকাদের হাতে সনদ ও ব্ল্যাক বেল্ট তুলে দেন প্রতিমন্ত্রী। এ সময় তিনি তাদের অভিনন্দন জানিয়ে ভবিষ্যৎ সাফল্য কামনা করেন।