খুরশীদ ইরফান আহমেদের মৃত্যুতে আসকের শোক।ছবি: সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ৩ আগস্ট: বিশিষ্ট মানবাধিকারকর্মী, শিশু অধিকার আন্দোলনের পথিকৃৎ এবং আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য খুরশীদ ইরফান আহমেদের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। শনিবার (২ আগস্ট) এক শোকবার্তায় আসক জানায়, তাঁর মৃত্যুতে তারা একজন দূরদর্শী প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, প্রজ্ঞাবান সহযাত্রী এবং দীর্ঘদিনের শুভানুধ্যায়ীকে হারিয়েছে। একই সঙ্গে দেশের মানবাধিকার আন্দোলন হারিয়েছে এমন একজন নিবেদিতপ্রাণ সংগঠককে, যিনি সারা জীবন ন্যায়বিচার, মানবিক মর্যাদা এবং প্রান্তিক মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন।
শোকবার্তায় আসক উল্লেখ করে, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই খুরশীদ ইরফান আহমেদ সংগঠনটির আদর্শিক ভিত্তি সুদৃঢ় করা, প্রাতিষ্ঠানিক বিকাশ এবং মানবাধিকারভিত্তিক কার্যক্রম সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী বাংলাদেশে নারী ও শিশুর অধিকার প্রতিষ্ঠা, জীবনমান উন্নয়ন এবং মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনে তাঁর অবদান বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
সংস্থাটি জানায়, তাঁর উদ্যোগেই আসকের শিশু অধিকার ইউনিট প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তীকালে এই ইউনিট শিশু অধিকার সুরক্ষা, নির্যাতনের শিকার শিশুদের সহায়তা এবং শিশুবান্ধব নীতি ও আইন প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সুবিধাবঞ্চিত ও ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের অধিকার রক্ষায় তাঁর দূরদর্শিতা ও নিষ্ঠা ভবিষ্যতেও মানবাধিকারকর্মীদের অনুপ্রাণিত করবে বলে উল্লেখ করা হয়।
আসক আরও জানায়, নির্যাতন, সহিংসতা ও মানসিক আঘাতের শিকার ব্যক্তি ও পরিবারের পাশে দাঁড়াতে সাইকো-সোশ্যাল কাউন্সেলিং কার্যক্রমের বিকাশ ও প্রাতিষ্ঠানিকীকরণেও খুরশীদ ইরফান আহমেদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, আইনি সহায়তার পাশাপাশি মানসিক পুনর্বাসনও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সেই বিশ্বাস থেকেই তিনি এ খাতে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন।
শোকবার্তায় বলা হয়, খুরশীদ ইরফান আহমেদের প্রজ্ঞা, মানবিকতা, সততা এবং মূল্যবোধনিষ্ঠ নেতৃত্ব আইন ও সালিশ কেন্দ্রের পথচলায় চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তাঁর অবদান ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
সবশেষে সংস্থাটি মরহুমের পরিবারের সদস্য, স্বজন, সহকর্মী এবং শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানায় এবং তাঁর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করে।