বাংলাদেশ

ইউনূসের ’তিন শূন্য তত্ত্ব’ যে কারণে শুভংকরের ফাঁকি

প্রকৌশলী এম. হোসেন,লেখক: ফেলো, ইন্সটিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইইবি)

  • 12:27 am - August 04, 2026
  • পঠিত হয়েছে:৩৫ বার
ইউনূসের ’তিন শূন্য তত্ত্ব’ যে কারণে শুভংকরের ফাঁকি।

মেলবোর্ন, ৩ আগস্ট: নোবেল শান্তি পুরস্কার জয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস তাঁর ‘আ ওয়ার্ল্ড অব থ্রি জিরোস’ (২০১৭) গ্রন্থে যে ‘তিন শূন্যের তত্ত্ব’—শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব ও শূন্য নিট কার্বন নিঃসরণ—উপস্থাপন করেছেন, তা দেশে-বিদেশে বহুল আলোচিত। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দায়িত্ব পালনকালেও তিনি বারবার এই তত্ত্বকে বাংলাদেশের রূপান্তরের দার্শনিক ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরেছেন। কিন্তু দুটি প্রশ্ন থেকেই যায়— প্রথম প্রশ্নটি হলো, এই ‘তিন শূন্য’ কি সত্যিই কোনো মৌলিক তাত্ত্বিক আবিষ্কার, নাকি জাতিসংঘের ইতোমধ্যে স্বীকৃত বিশ্ব-উন্নয়ন এজেন্ডারই (এমডিজি ও এসডিজি) এক নতুন চটকদার মোড়কমাত্র? দ্বিতীয় প্রশ্নটি হলো, বাংলাদেশ বা বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে ইউনূসের ‘তিন শূন্য’ তত্ত্ব আদৌ কি ফলপ্রসূ হবে না কি এটাও ক্ষুদ্রঋণের মতোই আরেক শুভংকরের ফাঁকি?

পটভূমি: এমডিজি থেকে এসডিজি

২০০০ সালে জাতিসংঘের সহস্রাব্দ ঘোষণাপত্রের মাধ্যমে আটটি ‘সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা’ বা ‘এমডিজি’ গৃহীত হয়—চরম দারিদ্র্য ও ক্ষুধা নির্মূল, সর্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষা, লিঙ্গ সমতা, শিশু ও মাতৃমৃত্যু হ্রাস, এইচআইভি-ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণ, পরিবেশগত স্থায়িত্ব এবং উন্নয়নের জন্য বৈশ্বিক অংশীদারত্ব নিশ্চিত করা। ২০১৫ সালে এর উত্তরসূরী হিসেবে গৃহীত হয় ১৭টি লক্ষ্য ও ১৬৯টি সুনির্দিষ্ট অভীষ্ট-সংবলিত ‘টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা’ বা ‘এসডিজি’, যার মেয়াদ ২০৩০ সাল পর্যন্ত। একই বছরে স্বাক্ষরিত প্যারিস জলবায়ু চুক্তি এতে যুক্ত করে কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে ‘নিট-জিরো’ বা নিট শূন্য নিঃসরণে পৌঁছানোর সুস্পষ্ট পথরেখা। অর্থাৎ ২০১৫–১৬ সালের মধ্যেই— ইউনূসের গ্রন্থ প্রকাশের অন্তত দুই বছর আগে—বিশ্ব সম্প্রদায় চরম দারিদ্র্য নির্মূল, সবার জন্য কর্মসংস্থান এবং কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে নিট শূন্যে নামিয়ে আনার এই তিনটি অঙ্গীকার আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করে নিয়েছে।

শূন্যত্রয়ীর এসডিজি প্রতিরূপ

ইউনূসের প্রস্তাবিত শূন্যগুলো এসডিজির সঙ্গে এতোটাই সরাসরি মিলে যায় যে সেগুলোকে একপ্রকার প্রতিরূপ বলাই সঙ্গত। ‘শূন্য দারিদ্র্য’ কার্যত এসডিজি-১ (‘নো পোভার্টি’)-এরই বক্তব্য; এর প্রথম অভীষ্ট (টার্গেট ১.১) ২০৩০ সালের মধ্যে চরম দারিদ্র্য সম্পূর্ণ নির্মূলের কথা স্পষ্ট করেই বলে। ‘শূন্য বেকারত্ব’ হলো এসডিজি-৮-এর ‘সবার জন্য পূর্ণ, উৎপাদনশীল কর্মসংস্থান ও শোভন কাজ’ লক্ষ্যেরই পুনরুচ্চারণ। আর ‘শূন্য নিট কার্বন’ এসডিজি-১৩ (জলবায়ু পদক্ষেপ) ও এসডিজি-৭ (সাশ্রয়ী ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানি)-এর সরাসরি প্রতিধ্বনি, যার প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি প্যারিস চুক্তির ‘নিট-জিরো’ অঙ্গীকার। সামাজিক ব্যবসা ও যুব-উদ্যোক্তানির্ভর যে সমাধানকে ইউনূস তরুণদের ‘মহাশক্তি’ বলে অভিহিত করেছেন, তা-ও এসডিজি-৪ (শিক্ষা), এসডিজি-৫ (লিঙ্গ সমতা), এসডিজি-৯ (শিল্প ও উদ্ভাবন), এসডিজি-১৬ (সুশাসন) ও এসডিজি-১৭ (বৈশ্বিক অংশীদারত্ব)-এর সঙ্গে সরলরেখায় মিলে যায়। সুতরাং ধারণার স্তরে নতুন কিছুই এখানে নেই; বরং ১৭টি লক্ষ্যকে তিনটি আকর্ষণীয় শ্লোগানে গুছিয়ে আনা হয়েছে মাত্র।

বাংলাদেশের অর্জন সাম্প্রতিক বিপরীত স্রোত

এমডিজির যুগে বাংলাদেশ আটটির মধ্যে পাঁচটি লক্ষ্য ২০১৪ সালের মধ্যেই অর্জন করেছিল—প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিট ভর্তির হার প্রায় ৯৮.৫ শতাংশ, পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের খর্বতা (স্টান্টিং) ১৯৯৬–৯৭ সালের ৬০ শতাংশ থেকে নেমে এমআইসিএস ২০১৯ অনুযায়ী ২৮ শতাংশে, এবং পাঁচোর্ধ্ব শিশুমৃত্যু ২০২২–২৩ সালে প্রতি হাজার জীবিত জন্মে প্রায় ৩১-এ। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের এসডিএসএন বাংলাদেশকে ‘এসডিজি প্রোগ্রেস অ্যাওয়ার্ড’ও দিয়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক চিত্র উল্টো দিকে মোড় নিয়েছে। বিশ্বব্যাংকের ‘বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট’ (অক্টোবর ২০২৫) অনুযায়ী, জাতীয় দারিদ্র্যের হার ২০২২ সালের ১৮.৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৪ সালে ২০.৫ ও ২০২৫ সালে ২১.২ শতাংশে উঠেছে; চরম দারিদ্র্য ৭.৭ থেকে ৯.৩ শতাংশে। পিপিআরসি’র ‘স্টেট অব দ্য রিয়েল ইকোনমি’ সমীক্ষা (অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে, ৮,০৬৭টি পরিবারের ওপর জরিপ, প্রকাশ ২৬ আগস্ট ২০২৫) আরও কঠোর চিত্র দিয়েছে—দারিদ্র্য ২৭.৯৩ শতাংশ, চরম দারিদ্র্য ৯.৩৫ শতাংশ। সংস্থাটির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমানের ভাষায়, ‘এটি কেবল দারিদ্র্যের ফিরে আসার গল্প নয়, বহুমাত্রিক ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ারও গল্প।’ বিশ্বব্যাংকের ২০২৫ সালের ‘পোভার্টি অ্যান্ড ইক্যুইটি অ্যাসেসমেন্ট’ বলছে, আয়বৈষম্যের ‘গিনি সহগ’ ৫১ থেকে ৫৪-তে উঠেছে; এক বছরেরও বেশি সময় ধরে মূল্যস্ফীতি দুই অঙ্কে; ২০২৩–২৪ সালে হারিয়ে গেছে প্রায় ২০ লাখ চাকরি— যার সিংহভাগই নারী ও তরুণদের। এই বাস্তবতাই প্রমাণ করে—তাত্ত্বিক শ্লোগান যতই বদলাক, কাঠামোগত নীতি, পর্যাপ্ত অর্থায়ন ও কর্মসংস্থানের সুনির্দিষ্ট কৌশল ছাড়া কোনো ‘শূন্যে’ পৌঁছানো সম্ভব নয়।

তিন শূন্যের চটক বনাম তাত্ত্বিক দুর্বলতার খতিয়ান 

প্রাতিষ্ঠানিক ও কল্যাণকামী অর্থনীতিবিদ, উন্নয়ন গবেষক এবং নীতিনির্ধারকসহ বামপন্থী অর্থনীতিবিদরা তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ ও বিশ্বব্যাপী মাইক্রোফিন্যান্স বা সামাজিক ব্যবসার মাঠপর্যায়ের ফলাফল মূল্যায়নের মাধ্যমে ইউনূসের ‘তিন শূন্য তত্ত্বের’ সমালোচনা তুলে ধরেছেন। এখানে এমন সমালোচকদের ঐতিহাসিক ও তাত্ত্বিক রূপরেখার কিছুটা তুলে ধরা হলো।

১. দারিদ্র্য বিমোচনে কাঠামোগত সংস্কারের অভাব

কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিখ্যাত উন্নয়ন অর্থনীতিবিদ হা-জুন চ্যাং এবং রাজনৈতিক অর্থনীতিবিদ আমিলকার হেরেরা এমন সমালোচনার অগ্রভাগে আছেন। হা-জুন চ্যাং তাঁর ‘টুয়েন্টি থ্রি থিংস দে ডোন্ট টেল ইউ অ্যাবাউট ক্যাপিটালিজম গ্রন্থে এবং বিভিন্ন প্রবন্ধে দেখিয়েছেন যে, দারিদ্র্য কোনো ব্যক্তিগত অলসতা বা পুঁজির অভাবে তৈরি হওয়া বিচ্ছিন্ন সমস্যা নয়; এটি একটি রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক ব্যবস্থার ফসল। ড. ইউনূসের মডেল ব্যক্তিকে ‘উদ্যোক্তা’ বানানোর মাধ্যমে দারিদ্র্য দূর করতে চায়, যা মূলত নব্য-উদারতাবাদী চিন্তাধারাকে সমর্থন করে। সমালোচকদের মতে, ভূমি সংস্কার, কর ব্যবস্থার পরিবর্তন এবং সম্পদ বণ্টনের মতো রাষ্ট্রীয় বা কাঠামোগত সংস্কার ছাড়া দারিদ্র্যের স্থায়ী সমাধান অসম্ভব।

২. বেকারত্ব বনাম বাধ্যতামূলক আত্মসংস্থান

ড. ইউনূসের তত্ত্বের মূল ভিত্তি হলো—”সব মানুষ জন্মগতভাবে উদ্যোক্তা”। কিন্তু শ্রম অর্থনীতিবিদদের মতে, এটি একটি বিপজ্জনক সাধারণীকরণ। সবার ব্যবসায়িক দক্ষতা বা ঝুঁকি নেওয়ার মানসিকতা থাকে না। উন্নয়ন অর্থনীতিবিদ ডেভিড রূডম্যান তাঁর বিখ্যাত বই ‘ডিউ ডিলিজেন্স: অ্যন ইমপেরিয়াল অ্যাসেসমেন্ট অব মাইক্রোফিনান্স’-এ বিষয়টিতে আলোকপাত করেছেন। রূডম্যান ও অন্যান্য বিশ্লেষকরা দেখিয়েছেন, অনেক ক্ষেত্রে ক্ষুদ্রঋণ বা সামাজিক উদ্যোগের মাধ্যমে মানুষ বাধ্য হয়ে “আত্মকর্মসংস্থানে” নামতে বাধ্য হয় (Survivalist Entrepreneurship), যা মূলত এক ধরণের ছদ্মবেশী বেকারত্ব। একটি দেশের টেকসই উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন আনুষ্ঠানিক এবং প্রাতিষ্ঠানিক মজুরিভিত্তিক শ্রম (Formal Wage Employment), যেখানে শ্রমিকের অধিকার ও নিরাপত্তা সুরক্ষিত থাকে।

৩. সামাজিক ব্যবসার সীমাবদ্ধতা ও স্কেলাবিলিটি

ড. ইউনূসের ‘সামাজিক ব্যবসা’ মডেলে বিনিয়োগকারীরা লভ্যাংশ বা ডিভিডেন্ড নিতে পারেন না (শুধুমাত্র মূল পুঁজি ফেরত পাবেন)। কিন্তু আন্তর্জাতিক সাময়িকী ‘স্ট্যানফোর্ড সোশ্যাল ইনোভেশন রিভিউ’ (SSIR)-এ প্রকাশিত নানা নিবন্ধে এবং উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ অ্যালান পমেরলয়ের (Alan Pomeroy) আলোকপাতে এর সমালোচনা উঠে এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই মডেলটি অত্যন্ত অনমনীয় ও তাত্ত্বিক। পুঁজিবাদী অর্থনৈতিক কাঠামোতে যেখানে মূলধনের প্রবাহ চলে মুনাফার টানে, সেখানে লভ্যাংশ ছাড়া বড় আকারের বিনিয়োগ আকর্ষণ করা অসম্ভব। এছাড়া ভারী শিল্প যেমন: বিদ্যুৎ, ইস্পাত বা বড় অবকাঠামো যা একটি দেশের মূল চালিকাশক্তি, তা লভ্যাংশহীন সামাজিক ব্যবসার মডেলে পরিচালনা করা বাস্তবসম্মত নয়।

৪. রাষ্ট্র ও সরকারি নীতির ভূমিকা উপেক্ষা:

নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন এবং প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ ও লেখক জঁ ড্রেজ (Jean Drèze) ইউনূসের তত্ত্বে রাষ্ট্রকে পাশ কাটিয়ে চলার নীতির সমালোচনা করেছেন। অমর্ত্য সেন তার ‘ক্ষমতায়ন ও উন্নয়ন’ দর্শনে সবসময় রাষ্ট্র পরিচালিত সামাজিক খাতগুলোর — শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দিয়েছেন। তিনি সরাসরি ড. ইউনূসের ব্যক্তিগত উদ্যোগের প্রশংসা করলেও, এই ধারার সমালোচকরা মনে করেন— ইউনূসের মডেল রাষ্ট্রকে এক ধরনের ‘অকার্যকর’ বা ধীরগতির প্রতিষ্ঠান হিসেবে রেখে বাইপাস করতে চায়। কিন্তু ইতিহাস বলে, ইউরোপের কল্যাণমুখী রাষ্ট্রগুলো বা পূর্ব এশিয়ার (যেমন: দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান) উন্নয়ন মূলত শক্তিশালী রাষ্ট্রীয় নীতি ও সামাজিক খাতের বিপুল সরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমেই এসেছে, বেসরকারি এনজিও বা ক্ষুদ্র ব্যবসা দিয়ে নয়।

৫. শূন্য কার্বন নিঃসরণের বাস্তবসম্মত রোডম্যাপের অভাব

বৈশ্বিক পরিবেশ আন্দোলনের তাত্ত্বিক ও জলবায়ু অর্থনীতিবিদগণ বিশেষত জেসন হিকেল (Jason Hickel) তাঁর ‘ডিগ্রোথ’ (Degrowth) দর্শনে এর সমালোচনা তুলে ধরেছেন। ২০৫০ সালের মধ্যে ‘নিট-জিরো’ কার্বন নিঃসরণের স্বপ্ন অত্যন্ত প্রশংসনীয় হলেও জলবায়ু অর্থনীতিবিদদের মতে এক্ষেত্রে রোডম্যাপে বাস্তবতার ঘাটতি রয়েছে। বাংলাদেশ বা আফ্রিকার মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোকে তাদের বিপুল জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মান বাড়াতে এখনো জ্বালানি ও শিল্পায়নের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণের মূল অপরাধী উন্নত বিশ্ব এবং বহুজাতিক কর্পোরেশনগুলো। তাত্ত্বিকদের মতে, গ্লোবাল ক্যাপিটালিস্ট মেকানিজমে কঠোর আইনি নিয়ন্ত্রণ ছাড়া কেবল স্থানীয় পর্যায়ে সামাজিক ব্যবসা গড়ে তুলে জলবায়ু পরিবর্তনের বৈশ্বিক বিপর্যয় রোধ করা একটি অলীক কল্পনা।

উপসংহার

‘তিন শূন্যের তত্ত্ব’কে যখন একটি স্বতন্ত্র ও মৌলিক বিশ্ব-অর্থনৈতিক দর্শন হিসেবে হাজির করা হয়, তখন বিশ্লেষকের দায়িত্ব সততার সঙ্গে বলা—এটি মূলত এসডিজি ও প্যারিস চুক্তিরই ভিন্ন এক অলংকারে নতুন উপস্থাপন। বিশ্বের আজ আরও একটি অধিক্রমী (ওভারল্যাপিং) তত্ত্বের প্রয়োজন নেই; প্রয়োজন ২০৩০-এর সময়সীমা সামনে রেখে এসডিজির ১৬৯টি অভীষ্ট বাস্তবায়নের রাজনৈতিক সদিচ্ছা, বছরে ৪ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থায়ন-ঘাটতি পূরণ এবং বৈশ্বিক আর্থিক কাঠামোর সংস্কার। বাংলাদেশের পথও স্পষ্ট—ক্ষুদ্রঋণের সুদহার ও আদায় পদ্ধতিতে স্বচ্ছ নিয়ন্ত্রণ, শোভন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ, সামাজিক সুরক্ষার সম্প্রসারণ, কর-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধি, ব্যাংক খাতের সংস্কার এবং সর্বোপরি সুশাসন। শ্লোগানের চটক নয়, রূপান্তরের সাহসই আজকের প্রকৃত প্রশ্ন।

 

এই শাখার আরও খবর

বেরোবিতে কেন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ল ছাত্রদল-শিবির

মেলবোর্ন, ৪ আগস্ট : রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) ছাত্রশিবিরের আয়োজিত একটি আলোকচিত্র প্রদর্শনীকে কেন্দ্র করে ইসলামী ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের…

ঢাকায় মাদ্রাসার বাথরুমে মিলল শিক্ষার্থীর লাশ

মেলবোর্ন, ৪ আগস্ট: ঢাকার কদমতলীর শনিরআখড়া এলাকার একটি মাদরাসার বাথরুম থেকে নাঈম ইসলাম শেখ (১২) নামে এক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেল…

জুলাইয়ে রাজনৈতিক ও মব সহিংসতায় নিহত ২৩,নারী-শিশুসহ আহত ৪৭৩

মেলবোর্ন, ৪ আগস্ট: চলতি বছরের জুলাই মাসে সারা দেশে রাজনৈতিক সহিংসতা, মব সহিংসতা, নারী ও শিশু নির্যাতন, সাংবাদিক হয়রানি এবং শ্রমিক নির্যাতনসহ বিভিন্ন ঘটনায় মানবাধিকার পরিস্থিতি উদ্বেগজনক…

শেখ হাসিনার রাজনৈতিক বক্তব্য ঠেকাতে ভারতের সহযোগিতা চাইল বাংলাদেশ

মেলবোর্ন, ৪ আগস্ট: ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কোনো ব্যক্তি যেন ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, সে বিষয়ে ভারত সরকারের…

অবসরের পরও লাভবান রাহানে, বিসিসিআইয়ের সর্বোচ্চ পেনশন পাচ্ছেন সাবেক অধিনায়ক

মেলবোর্ন, ৪ আগস্ট : আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিলেও ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) সঙ্গে সম্পর্ক পুরোপুরি শেষ হচ্ছে না অজিঙ্কা রাহানের। বোর্ডের পেনশন নীতিমালার আওতায়…

জি-স্কপের নতুন যুগ্ম সমন্বয়ক বাচ্চু মিয়া ও আসাদুজ্জামান রিপন

মেলবোর্ন, ৪ আগস্ট: দেশের তৈরি পোশাক শিল্পে শ্রমিকদের অধিকার, ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও মর্যাদা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করা গার্মেন্টস শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (জি-স্কপ)-এর নতুন যুগ্ম…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au