মেলবোর্ন, ৪ আগস্ট: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স) ব্যবহার করে তৈরি করা টেক্সট, ছবি, ভিডিও, অডিওসহ সব ধরনের ডিজিটাল কন্টেন্টে স্পষ্টভাবে লেবেল বা পরিচিতিমূলক চিহ্ন ব্যবহারের নতুন বিধিমালা কার্যকর করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। ব্যবহারকারীরা যাতে সহজেই বুঝতে পারেন কোন কন্টেন্ট বাস্তব এবং কোনটি এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি বা পরিবর্তিত, সে লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
নতুন বিধিমালার আওতায় চ্যাটবট, জেনারেটিভ এআই এবং অন্যান্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সেবা পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যবহারকারীদের শুরুতেই জানাতে হবে যে তারা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। পাশাপাশি এআই দিয়ে তৈরি বা সম্পাদিত যেকোনো টেক্সট, ছবি, ভিডিও কিংবা অডিওতে এমন লেবেল বা ওয়াটারমার্ক যুক্ত করতে হবে, যাতে সাধারণ ব্যবহারকারীরা সহজেই সেটি শনাক্ত করতে পারেন।
বিশেষভাবে ডিপফেক কন্টেন্টের ক্ষেত্রে কঠোর নিয়ম আরোপ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। বাস্তব মানুষের মতো দেখালেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে তৈরি বা পরিবর্তন করা ছবি, ভিডিও, অডিও কিংবা লেখার ক্ষেত্রে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে যে সেগুলো এআই-সৃষ্ট বা এআই-পরিবর্তিত। এর মাধ্যমে ভুয়া তথ্য, বিভ্রান্তি এবং প্রতারণামূলক কন্টেন্টের বিস্তার কমানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
নতুন নিয়মে আরও বলা হয়েছে, আবেগ শনাক্তকরণ (ইমোশন রিকগনিশন) এবং বায়োমেট্রিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যবহারকারীকে আগেই তা জানাতে হবে। অর্থাৎ, কোনো ব্যক্তি যদি এমন প্রযুক্তির আওতায় আসেন, তাহলে তাকে আগে থেকেই বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত করতে হবে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন সতর্ক করেছে, নতুন বিধিমালা অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিয়ম ভঙ্গের ক্ষেত্রে বড় অঙ্কের আর্থিক জরিমানার পাশাপাশি অন্যান্য প্রশাসনিক ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে।
তবে কিছু ক্ষেত্রে এই বিধিমালায় ছাড় রাখা হয়েছে। শৈল্পিক, সৃজনশীল, ব্যঙ্গাত্মক এবং সম্পূর্ণ কাল্পনিক কাজের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট শর্তে লেবেল ব্যবহারের নিয়ম কিছুটা শিথিল করা হয়েছে, যাতে সৃজনশীল প্রকাশ বাধাগ্রস্ত না হয়।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন জানিয়েছে, বর্তমানে ব্যবহৃত সব এআই সিস্টেমকে চলতি বছরের ২ ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন বিধিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে না পারলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে আইনি ও আর্থিক জটিলতার মুখোমুখি হতে হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুত বিস্তার লাভ করা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধ, ভুয়া তথ্যের বিস্তার কমানো এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই সিদ্ধান্ত বিশ্বব্যাপী এআই নিয়ন্ত্রণে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।