শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন নির্ধারিত সময়েই অনুষ্ঠিত হবে: জয়
মেলবোর্ন, ৫ আগষ্ট: আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন নির্ধারিত সময়েই অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়। সোমবার (৪ আগস্ট) বাংলাদেশ…
মেলবোর্ন, ৫ আগষ্ট- দেশজুড়ে জ্বালানি সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় দীর্ঘ লোডশেডিংয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। মধ্যরাতের পরও দেশের বিভিন্ন এলাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। এর মধ্যেই নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে গ্রাহকদের অভিযোগ করা ‘ভুতুড়ে’ বিদ্যুৎ বিল। অনেকের ক্ষেত্রে স্বাভাবিক বিলের তুলনায় তিন থেকে পাঁচ গুণ পর্যন্ত বেশি বিল এসেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অতিরিক্ত বিল নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার মুখে বিদ্যুৎ বিভাগ প্রথমে দেওয়া কঠোর ভাষার সতর্কবার্তা প্রত্যাহার করে নতুন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে।
সরকারি বিদ্যুৎ সঞ্চালন প্রতিষ্ঠান পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশের (পিজিসিবি) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত ১৪৩টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে অন্তত ৬২টি জ্বালানির সংকটে রয়েছে। এর মধ্যে ২৬টি গ্যাসভিত্তিক, ৩৩টি তরল জ্বালানিভিত্তিক এবং দুটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে।
গত ২২ জুলাই এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনালে দুর্ঘটনার পর জাতীয় গ্যাস সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদন আরও ব্যাহত হয়। গত সপ্তাহে দৈনিক গড় বিদ্যুৎ ঘাটতি দাঁড়ায় প্রায় ১ হাজার ৪৮২ মেগাওয়াট, যেখানে আগের সপ্তাহে এই ঘাটতি ছিল ৩২০ মেগাওয়াট।
রোববার দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৫ হাজার ২৬৪ মেগাওয়াট। বিপরীতে উৎপাদন ও সরবরাহ ছিল ১৩ হাজার ২০১ মেগাওয়াট। ফলে ঘাটতি দাঁড়ায় দুই হাজার মেগাওয়াটেরও বেশি। ঘণ্টাভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, ১ আগস্ট ঘাটতি বেড়ে ২ হাজার ১৭৪ মেগাওয়াটে পৌঁছে এবং রোববার ভোরে তা প্রায় তিন হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত হয়। সোমবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্তও প্রতি ঘণ্টায় দুই হাজার মেগাওয়াটের বেশি ঘাটতি ছিল।
এই ঘাটতির কারণে বিতরণ কোম্পানিগুলোকে দেশের বিভিন্ন এলাকায় পালাক্রমে দীর্ঘ সময় লোডশেডিং করতে হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্রামীণ এলাকার মানুষ। একই সঙ্গে শিল্পকারখানাগুলোও বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটে উৎপাদন কমিয়ে দিতে বা ডিজেলচালিত জেনারেটরের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হচ্ছে। অনেক প্রতিষ্ঠান উৎপাদনসূচি পরিবর্তন করেছে, কেউ কেউ অতিরিক্ত ছুটিও ঘোষণা করেছে। এতে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে রপ্তানিমুখী শিল্পেও চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
বিদ্যুৎ সংকটের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন এলাকায় অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল নিয়ে গ্রাহকদের ক্ষোভ বাড়ছে।
রাজধানীর মগবাজারের বাসিন্দা ও দৈনিক গুড মর্নিং পত্রিকার সম্পাদক এনায়েত হোসেন খান জানান, তাঁর বাসার মাসিক বিদ্যুৎ বিল সাধারণত চার থেকে পাঁচ হাজার টাকার মধ্যে থাকলেও এবার বিল এসেছে ১৫ হাজার টাকারও বেশি। অভিযোগ নিয়ে বিদ্যুৎ অফিসে যোগাযোগ করলেও সন্তোষজনক কোনো সমাধান পাননি। বিদ্যুৎ সংযোগ সচল রাখতে বাধ্য হয়ে পুরো বিল পরিশোধ করেছেন।

লোডশেডিং। প্রতীকী ছবি
রাজধানীর শেওড়াপাড়ার বাসিন্দা মনিরুল ইসলামের অভিযোগ, ফেব্রুয়ারিতে তাঁর বিদ্যুৎ বিল ছিল ৪২৮ টাকা। এরপর মার্চ, এপ্রিল ও মে মাসের বিল একত্রে এসেছে ৪ হাজার ৬১০ টাকা। ব্যবহৃত ইউনিট প্রায় একই থাকলেও বিল কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ায় তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন।
লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার মুদি দোকানি আলাউল ইসলাম বলেন, গত মাসে তাঁর বিদ্যুৎ বিল ছিল ৬৭৭ টাকা, চলতি মাসে তা বেড়ে হয়েছে ২ হাজার ৩৭৭ টাকা। একই এলাকায় বেলাল হোসেনের ৩০০ টাকার জায়গায় ১ হাজার ৭০০ টাকা, আদনান শরীফের ১ হাজার ৫০০ টাকার জায়গায় ৭ হাজার ১৯০ টাকা এবং মোস্তাফিজুর রহমানের ৫০০ টাকার জায়গায় ১ হাজার ৫০০ টাকা বিল এসেছে বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি জানান, অতিরিক্ত বিলের প্রতিবাদ জানাতে এলাকাবাসী বিদ্যুৎ অফিসে গেলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে।
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটের বাসিন্দা আশরাফুল ইসলাম বলেন, আগে যেখানে প্রতি মাসে তাঁর বিল ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকার মধ্যে থাকত, এবার তা বেড়ে তিন হাজার টাকায় দাঁড়িয়েছে। একই এলাকার অন্য গ্রাহকদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের অভিযোগ রয়েছে। অনেকেই বলছেন, দিনের বড় একটি অংশ বিদ্যুৎহীন থাকার পরও মাস শেষে কয়েক গুণ বেশি বিল হাতে পাচ্ছেন।
এদিকে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল নিয়ে অভিযোগকারীদের উদ্দেশে প্রথমে কঠোর ভাষার একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বিদ্যুৎ বিভাগ। সেখানে বলা হয়, অতিরিক্ত বিল নিয়ে মিথ্যা তথ্য বা অপপ্রচার চালালে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই বক্তব্য প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। অনেকেই প্রশ্ন তোলেন, ভুক্তভোগী গ্রাহকদের অভিযোগ প্রকাশ বা গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশকেও কি তাহলে অপপ্রচার হিসেবে বিবেচনা করা হবে?
সমালোচনার মুখে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিদ্যুৎ বিভাগ নতুন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। সংশোধিত বিজ্ঞপ্তিতে আগের সতর্কবার্তা বাদ দিয়ে বলা হয়, কোনো গ্রাহকের অতিরিক্ত বিল সংক্রান্ত অভিযোগ থাকলে প্রমাণসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানানো হয়।
ভুতুড়ে বিলের অভিযোগ প্রসঙ্গে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, অধিকাংশ ক্ষেত্রে ভুল বোঝাবুঝির কারণে এমন অভিযোগ তৈরি হয়েছে। তবে যান্ত্রিক বা মানবিক ত্রুটির কারণে কিছু ক্ষেত্রে বিলে ভুল থাকতে পারে। এসব অভিযোগ সরকার গুরুত্বসহকারে যাচাই করছে এবং প্রতিটি অভিযোগ আলাদাভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে গ্রাহকরা বিভিন্ন সময়ের বিলের সঙ্গে ভুলভাবে তুলনা করছেন। কোথাও নতুন ভাড়াটিয়া এসে অতিরিক্ত বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করায় বিল বেড়েছে। তবুও কোনো ধরনের যান্ত্রিক বা মানবিক ত্রুটি থাকলে তা সংশোধনের জন্য গ্রাহকদের নিকটস্থ বিদ্যুৎ অফিসে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) চেয়ারম্যান রেজাউল করিম বলেন, এখন পর্যন্ত পাওয়া সাত থেকে আটটি অভিযোগ যাচাই করে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বিল সঠিক পাওয়া গেছে। তবে যেকোনো গ্রাহকের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হবে এবং অতিরিক্ত বিল নেওয়া হবে না।
অন্যদিকে, বিদ্যুৎ সংকট ও অতিরিক্ত বিল নিয়ে সরকারের সমালোচনা করেছে বিরোধী দলগুলো। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, বিদ্যুৎ ব্যবহার না করলেও অনেক গ্রাহকের কাছে অতিরিক্ত বিল পাঠানো হচ্ছে এবং এ বিষয়ে সরকারের কার্যকর তদারকি নেই। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ বিদ্যুৎ সংকট, গ্যাসের ঘাটতি ও মূল্যস্ফীতির মধ্যে চরম দুর্ভোগে রয়েছে, অথচ সরকার এসব সমস্যা সমাধানের পরিবর্তে অন্য বিষয় নিয়ে ব্যস্ত রয়েছে।
সূত্রঃ ডয়চে ভেলে
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au