চাঁদের বুকে আছড়ে পড়ল স্পেসএক্সের ৪ টনের রকেট, তৈরি হতে পারে ৩০ মিটারের বিশাল গর্ত। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ৬ আগষ্ট: ইলন মাস্কের মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের ফ্যালকন-৯ রকেটের প্রায় চার টন ওজনের দ্বিতীয় ধাপ (আপার স্টেজ) অনিয়ন্ত্রিত ভাবে চাঁদের বুকে আছড়ে পড়েছে। মহাকাশে দীর্ঘদিন ভেসে থাকার পর ঘণ্টায় প্রায় ৮ হাজার ৭৪৭ কিলোমিটার গতিতে চাঁদের পৃষ্ঠে আঘাত হানে রকেটের এই অংশটি। এতে পৃথিবীর কোনো ঝুঁকি না থাকলেও ঘটনাটিকে চাঁদের ভূতাত্ত্বিক গঠন ও মহাকাশ বর্জ্য নিয়ে গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখছেন বিজ্ঞানীরা।
২০২৫ সালের ১৫ জানুয়ারি স্পেস এক্সের ফ্যালকন-৯ রকেটে করে ফায়ার ফ্লাই অ্যারোস্পেসের ‘ব্লু গোস্ট’ এবং জাপানের আইস্পেসের ‘রেজিলিয়েন্স’ নামের দুটি চন্দ্রযান উৎক্ষেপণ করা হয়। প্রথম ধাপ সফলভাবে পৃথিবীতে ফিরে এলেও দ্বিতীয় ধাপটি চন্দ্রযান দুটি নির্ধারিত পথে পাঠানোর পর মহাকাশেই পরিত্যক্ত অবস্থায় থেকে যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সৌর বিকিরণ এবং পৃথিবী-চাঁদসহ বিভিন্ন মহাজাগতিক বস্তুর মাধ্যাকর্ষণের প্রভাবে ধীরে ধীরে রকেটটির গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে শেষ পর্যন্ত এটি চাঁদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এর আগে ব্লু গোস্ট সফলভাবে চাঁদে অবতরণ করলেও রেজিলিয়েন্স ল্যান্ডার অবতরণের সময় ব্যর্থ হয়।
নাসার তথ্য অনুযায়ী, এই সংঘর্ষে চাঁদের পৃষ্ঠে প্রায় ২০ থেকে ৩০ মিটার ব্যাসের একটি নতুন গর্ত সৃষ্টি হতে পারে। সংঘর্ষের স্থানটি চাঁদের আইনস্টাইন ক্র্যাটারের কাছাকাছি বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নাসা জানিয়েছে, এ ঘটনায় পৃথিবীর জন্য কোনো ঝুঁকি নেই। তবে ভবিষ্যতে মহাকাশে থাকা বিভিন্ন বস্তুর গতিপথ আরও নিখুঁতভাবে পর্যবেক্ষণ ও পূর্বাভাস দেওয়ার কাজে এই ঘটনার তথ্য ব্যবহার করা হবে।
বিজ্ঞানীরা জানান, চাঁদের আলোকিত অংশে সংঘর্ষ হওয়ায় ঘটনাটি খালি চোখে বা সাধারণ টেলিস্কোপে দেখা সম্ভব হয়নি। তবে বিশেষ টেলিস্কোপে সংঘর্ষের ফলে ছড়িয়ে পড়া ধূলিকণার প্রতিফলিত আলো পর্যবেক্ষণ করা গেছে। পরে নাসার লুনার রিকনসেন্স অরবিটার ওই স্থানের বিস্তারিত ছবি সংগ্রহ করবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, চাঁদে নিয়মিত উল্কাপিণ্ড আঘাত হানলেও মানুষের তৈরি কোনো বড় মহাকাশযানের অংশ এভাবে আছড়ে পড়ার ঘটনা খুবই বিরল।
বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলেছেন, ভবিষ্যতে চাঁদে স্থায়ী গবেষণা কেন্দ্র বা মানব বসতি গড়ে উঠলে এ ধরনের মহাকাশ বর্জ্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। কারণ, চাঁদের কোনো বায়ুমণ্ডল না থাকায় সংঘর্ষের সময় ছিটকে যাওয়া পাথর ও ধূলিকণা কয়েকশ কিলোমিটার দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে।
এছাড়া পৃথিবীর কক্ষপথে ক্রমবর্ধমান মহাকাশ বর্জ্য নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। গবেষকদের মতে, ভবিষ্যতে নিরাপদ মহাকাশ অভিযান নিশ্চিত করতে ব্যবহৃত রকেটের অংশগুলো কীভাবে নিরাপদে অপসারণ বা ধ্বংস করা যায়, সে বিষয়ে আন্তর্জাতিক ভাবে কার্যকর নীতি ও প্রযুক্তি উন্নয়ন এখন সময়ের দাবি।