জাতিসংঘ অধিবেশনের ফাঁকে আরও ১১ বোয়িং উড়োজাহাজ কিনছে বিমান
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহর আধুনিকায়ন ও আন্তর্জাতিক রুট সম্প্রসারণে চলতি বছর দ্বিতীয় দফায় বোয়িংয়ের কাছ থেকে আরও ১১টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করেছে বাংলাদেশ। এর ফলে…
জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদে পাকিস্তানের বক্তব্যের জবাবে দেশটির অর্থনৈতিক সংকট ও কাশ্মীর নীতি নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছে ভারত। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) পরিষদে বক্তব্য দিতে গিয়ে ভারতীয় কূটনীতিক ক্ষিতিজ ত্যাগী বলেন, অন্য দেশের ভূখণ্ড নিয়ে আগ্রহ দেখানো বা সন্ত্রাস রপ্তানির পরিবর্তে পাকিস্তানের উচিত নিজেদের জনগণের উন্নয়ন ও অর্থনীতির দিকে মনোযোগ দেওয়া।
ক্ষিতিজ ত্যাগী বলেন, পাকিস্তানের বর্তমান নীতি দেশটির অর্থনৈতিক সংকট সমাধানে সহায়ক হবে না। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের মানুষের স্বার্থে পাকিস্তানের উন্নয়ন ও অর্থনীতিকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন। জাতিসংঘের পরিষদে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য বা অন্য দেশের ভূখণ্ড নিয়ে অবস্থান নেওয়া পাকিস্তানের অর্থনৈতিক সমস্যার সমাধান করবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পরিস্থিতিও নিজের বক্তব্যে তুলে ধরেন ক্ষিতিজ ত্যাগী। তিনি অভিযোগ করেন, জুন থেকে ওই অঞ্চলে বেসামরিক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে এবং শিক্ষার্থী গ্রেপ্তার ও খাদ্য ও ওষুধ সরবরাহে বাধার মতো ঘটনাও ঘটেছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে পাকিস্তানের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
এদিকে জুনে পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে ওই সময় অন্তত ২০ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার কথা বলা হয়েছিল। তবে পরবর্তী সময়েও ওই অঞ্চলে সহিংসতা ও রাজনৈতিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকার খবর এসেছে।
জম্মু ও কাশ্মীর প্রসঙ্গে ভারত আবারও নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে। ক্ষিতিজ ত্যাগী বলেন, জম্মু ও কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণে থাকা কাশ্মীরের এলাকা খালি করা উচিত। একই সঙ্গে তিনি কাশ্মীরি পণ্ডিতদের বাস্তুচ্যুতি এবং সীমান্তপারের সন্ত্রাসের অভিযোগও তুলে ধরেন। এসব অভিযোগের জবাবে পাকিস্তান ভারতের বক্তব্যকে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। জাতিসংঘের অধিবেশনে পাকিস্তানের প্রতিনিধি ভারতের বিরুদ্ধে কাশ্মীরের জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার দমনের অভিযোগ তোলেন।
এদিকে সিন্ধু পানি চুক্তি নিয়েও দুই দেশের মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক বিরোধ দেখা দিয়েছে। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে পাকিস্তানের পাঠানো একটি চিঠির বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, পাকিস্তান সাম্প্রতিক সালিসি সিদ্ধান্তকে নিজেদের মতো করে উপস্থাপন করেছে।
রণধীর জয়সওয়াল দাবি করেন, পাকিস্তান যে সিদ্ধান্তকে স্থায়ী সালিসি আদালতের রায় হিসেবে তুলে ধরছে, সেটি ভারতের দৃষ্টিতে ওই আদালতের রায় নয়। তাঁর অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট সালিসি আদালত অবৈধভাবে গঠিত এবং ভারত এর কার্যক্রম ও সিদ্ধান্ত স্বীকার করে না।
অন্যদিকে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এর বিপরীত অবস্থান তুলে ধরে বলেছেন, সিন্ধু পানি চুক্তি একটি বাধ্যতামূলক আন্তর্জাতিক চুক্তি এবং সাম্প্রতিক সালিসি সিদ্ধান্তে চুক্তিটি বহাল থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। ফলে চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের অবস্থান এখনো পরস্পরবিরোধী।
জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদে কাশ্মীর, সন্ত্রাসবাদ, মানবাধিকার ও সিন্ধু পানি চুক্তিসহ বিভিন্ন ইস্যুতে দুই দেশের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের মধ্য দিয়ে ভারত-পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক বিরোধ আবারও আন্তর্জাতিক মঞ্চে সামনে এসেছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au