সমুদ্রের ২ হাজার মিটার গভীরেও মিলল প্লাস্টিক দূষণের ভয়াবহ প্রমাণ। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ৭ আগষ্ট: সমুদ্রের গভীরতম ও সবচেয়ে দুর্গম এলাকাও আর প্লাস্টিক দূষণ থেকে মুক্ত নয়। নতুন এক গবেষণায় সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২ হাজার মিটার গভীরে বসবাসকারী শামুক ও ঝিনুকের দেহে মাইক্রো প্লাস্টিকের উপস্থিতি শনাক্ত করেছেন বিজ্ঞানীরা।
কোরিয়া রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বায়োসায়েন্স অ্যান্ড বায়োটেকনোলজির গবেষকরা দক্ষিণ-পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের নর্থ ফিজি বেসিন এবং ভারত মহাসাগরের সেন্ট্রাল ইন্ডিয়ান রিজ এলাকা থেকে সংগ্রহ করা সামুদ্রিক প্রাণীর নমুনা বিশ্লেষণ করে এই তথ্য পেয়েছেন। সামুদ্রিক জীববিজ্ঞানী সে-জু কিম বলেন, প্লাস্টিক দূষণ এখন সমুদ্রের তল দেশের হাইড্রোথার্মাল ভেন্টের মতো বিচ্ছিন্ন বাস্তুতন্ত্রেও পৌঁছে গেছে, যা একসময় পৃথিবীর সবচেয়ে অক্ষত পরিবেশ গুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হতো।
বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী ওয়াটার রিসার্চ-এ প্রকাশিত গবেষণায় দেখা গেছে, পরীক্ষা করা প্রাণীগুলোর ৯২ শতাংশের দেহে ৫ মিলি মিটারের চেয়ে ছোট প্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে। ১২টি নমুনার মধ্যে ১১টিতেই মাইক্রো প্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে। প্রতিটি আক্রান্ত প্রাণীর শরীরে গড়ে ৩ দশমিক ৪২টি প্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে, যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছিল বহুল ব্যবহৃত পলিস্টাইরিন।
গবেষকদের মতে, প্রাণীর খাদ্য গ্রহণের ধরন অনুযায়ী শরীরে প্লাস্টিক জমার স্থানও ভিন্ন। সমুদ্রতল থেকে খাবার সংগ্রহ করা শামুকের পরিপাকতন্ত্রে বেশি প্লাস্টিক পাওয়া গেছে। অন্যদিকে, পানি ছেঁকে খাবার গ্রহণকারী ঝিনুকের শরীরজুড়েই প্লাস্টিকের কণা ছড়িয়ে ছিল।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, প্রশান্ত মহাসাগরের তুলনায় ভারত মহাসাগরের নমুনাগুলোতে মাইক্রোপ্লাস্টিকের ঘনত্ব বেশি।
বিজ্ঞানীদের মতে, গভীর সমুদ্র থেকে প্লাস্টিক বর্জ্য অপসারণ প্রায় অসম্ভব। তাই প্লাস্টিক দূষণ নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো উৎসস্থলেই এর ব্যবহার ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা।