রাশিয়ার তেল-গ্যাসের ক্রেতা দেশগুলোতে ১০০% শুল্কের পথ খুলল যুক্তরাষ্ট্র
মেলবোর্ন, ৮ আগষ্ট: রাশিয়া থেকে তেল বা প্রাকৃতিক গ্যাস কেনা বিশ্বের শীর্ষ পাঁচ দেশের ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে…
মেলবোর্ন, ৮ আগষ্ট: বগুড়া সদর থানা থেকে লুট হওয়া ৩৯টি আগ্নেয়াস্ত্রের মধ্যে ১৭টি উদ্ধার করা সম্ভব হলেও এখনো ২২টি অস্ত্রের কোনো সন্ধান মেলেনি। একই সঙ্গে থানার মামলার আলামত হিসেবে রাখা দুই শতাধিক মোটরসাইকেলেরও হদিস পাওয়া যায়নি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সদর থানায় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের পর এসব অস্ত্র ও যানবাহন লুট করা হয়েছিল।
পুলিশ জানিয়েছে, লুট হওয়া অস্ত্রগুলোর মধ্যে পিস্তল, রাইফেল, সাবমেশিন গান, লাইট মেশিনগান ও শটগান ছিল। অস্ত্রের পাশাপাশি কয়েক হাজার রাউন্ড গুলি ও কার্তুজও লুট করা হয়। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিভিন্ন সময়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় ১৭টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করলেও বাকি ২২টি অস্ত্র এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহীম আলী জানিয়েছেন, লুট হওয়া অস্ত্র ও গুলি উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অবশিষ্ট অস্ত্রগুলোও উদ্ধার করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বিকেলে বগুড়া শহরের কবি নজরুল ইসলাম সড়কে অবস্থিত সদর থানায় একদল লোক হামলা চালায়। একই সময়ে সদর ভূমি অফিস, সদর উপজেলা পরিষদ, জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়সহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনাতেও হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে সেনাবাহিনীর নিরাপত্তায় পুলিশ সদস্যরা সদর থানা থেকে সরে যান। এরপর হামলাকারীরা থানায় ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। একপর্যায়ে অস্ত্রাগারের তালা ভেঙে বিভিন্ন ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ গুলি নিয়ে যায় তারা।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ওই সময় সদর থানা থেকে মোট ৩৯টি আগ্নেয়াস্ত্র লুট করা হয়। এর মধ্যে সদর থানা পুলিশের ৩৬টি এবং পুলিশ লাইনসের সদস্যদের তিনটি অস্ত্র ছিল। লুট হওয়া অস্ত্রের তালিকায় ছিল পাঁচটি পিস্তল, ১২টি রাইফেল, পাঁচটি এসএমজি ও এলএমজি এবং ১৭টি শটগান।
এ ছাড়া থানার চত্বরে থাকা পুলিশের চার থেকে পাঁচটি যানবাহন আগুনে পুড়ে যায়। একই সময় মামলার আলামত হিসেবে থানায় রাখা দুই শতাধিক মোটরসাইকেলও লুট করা হয়। এসব মোটরসাইকেলের বেশির ভাগেরই এখন পর্যন্ত সন্ধান পাওয়া যায়নি।
পুলিশের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, লুট হওয়া অস্ত্র ও গুলি অপরাধীদের হাতে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এসব অস্ত্র পরবর্তী সময়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহার হতে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
ওই কর্মকর্তা আরও দাবি করেন, বগুড়া শহরের চেলোপাড়া এলাকায় একটি রাজনৈতিক দলের এক নেতা সদর থানা থেকে লুটের ঘটনার নেতৃত্ব বা দায়িত্বে ছিলেন বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে। তার ভাষ্য, ওই ব্যক্তিকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হলে লুট হওয়া অস্ত্র, গুলি ও মোটরসাইকেলগুলোর বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক নেতার বক্তব্য প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।
এদিকে লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার না হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বগুড়ার সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন ইসলাম তুহিন। তিনি বলেন, থানার অস্ত্রাগার থেকে লুট হওয়া আগ্নেয়াস্ত্র এখনো উদ্ধার না হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
হুমায়ুন ইসলাম তুহিনের মতে, লুট হওয়া অস্ত্র অপরাধীদের হাতে থাকলে ভবিষ্যতে সেগুলো ব্যবহার করে বড় ধরনের অপরাধ সংঘটিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই আইনশৃঙ্খলা কমিটি ও পুলিশকে দ্রুত এসব অস্ত্র উদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
বগুড়া সদর থানার ওসি ইব্রাহীম আলী বলেন, অস্ত্রাগার থেকে লুট হওয়া ৩৯টি আগ্নেয়াস্ত্রের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে ১৭টি উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি ২২টি অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন, লুট হওয়া অস্ত্রগুলো উদ্ধারের জন্য পুলিশ কাজ করছে।
তবে থানায় নতুন দায়িত্ব নেওয়ায় ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ঠিক কতসংখ্যক গুলি ও কার্তুজ লুট হয়েছিল, সে বিষয়ে তার কাছে বিস্তারিত তথ্য নেই বলেও জানান ওসি।
দুই বছর পেরিয়ে গেলেও বিপুলসংখ্যক আগ্নেয়াস্ত্র ও মামলার আলামত হিসেবে রাখা মোটরসাইকেল উদ্ধার না হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। এখন এসব অস্ত্র ও যানবাহন উদ্ধারে পুলিশের অভিযান কতটা কার্যকর হয়, সেটিই দেখার বিষয়।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au