মানবিক বিভাগে ১০০ ছাত্রের ৫৯ জনই ফেল
মেলবোর্ন, ১০ আগষ্ট: চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে মানবিক বিভাগে ছাত্রদের ফলাফলে বড় ধরনের অবনমন দেখা গেছে। ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা…
মেলবোর্ন, ১০ আগষ্ট: দেশজুড়ে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে বিদ্যুৎ সংকট। তাপমাত্রা কিছুটা বাড়তেই গত কয়েক দিনের তুলনায় রোববার (৯ আগস্ট) লোডশেডিংয়ের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। কোনো কোনো এলাকায় নির্দিষ্ট সময়সূচি ছাড়াই ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। কোথাও ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ১২ ঘণ্টা, আবার কোথাও দিন-রাত মিলিয়ে ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকার অভিযোগ করেছেন গ্রাহকেরা।
বিদ্যুৎ সংকটের কারণে গৃহস্থালি কাজের পাশাপাশি ব্যাহত হচ্ছে কৃষিকাজ, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প উৎপাদন ও স্বাস্থ্যসেবা। বিদ্যুতের অভাবে পোলট্রি খামারে মুরগি মারা যাচ্ছে। অন্যদিকে পর্যাপ্ত বরফ উৎপাদন না হওয়ায় সাগরে মাছ ধরতে যেতে পারছেন না অনেক জেলে। রংপুর, সিলেট, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পরিস্থিতি তুলনামূলক বেশি খারাপ বলে জানা গেছে।
সরকারি বিদ্যুৎ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার (৮ আগস্ট) মধ্যরাত থেকে রোববার রাত পর্যন্ত দিনের বেশির ভাগ সময় দেশে তিন হাজার মেগাওয়াটের বেশি লোডশেডিং হয়েছে। কিছু সময় তা কমলেও আড়াই হাজার মেগাওয়াটের নিচে নামেনি। সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর অভ্যন্তরীণ সূত্রের দাবি, প্রকৃত লোডশেডিংয়ের পরিমাণ কোনো কোনো সময়ে চার হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে গেছে।
বিদ্যুৎ খাত-সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, রোববার বিকেল ৩টায় দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ৫১ মেগাওয়াট। ওই সময় রেকর্ড ৩ হাজার ৬৭১ মেগাওয়াট লোডশেডিং করা হয়। এর আগে ৩ আগস্ট রাত ১টায় সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৫১২ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছিল। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ২০২৩ সালের ২৭ জুন সর্বোচ্চ লোডশেডিংয়ের পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৪১৯ মেগাওয়াট।
শুধু বিকেলেই নয়, রোববার সকাল ও দুপুরেও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল না। দুপুর ১২টায় ১৫ হাজার ৭৩৫ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে ৩ হাজার ৩১২ মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হয়। এর আগে শনিবার রাত ১২টায় একই পরিমাণ চাহিদার বিপরীতে লোডশেডিং ছিল ৩ হাজার ৬০৮ মেগাওয়াট। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় প্রায় ১৭ হাজার মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে লোডশেডিং ছিল ২ হাজার ৪৩৭ মেগাওয়াট।
বিদ্যুৎ খাতের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চলমান গ্যাস সংকটই বিদ্যুৎ ঘাটতির অন্যতম প্রধান কারণ। বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে আগে প্রতিদিন প্রায় ৯৯ থেকে ১০০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হলেও বর্তমানে দেওয়া হচ্ছে প্রায় ৬৮ কোটি ঘনফুট। ফলে গ্যাসনির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না।
গ্যাস থেকে আগে যেখানে পাঁচ থেকে ছয় হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হতো, বর্তমানে তা কমে গড়ে সাড়ে তিন হাজার মেগাওয়াটে নেমে এসেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিটের যান্ত্রিক ত্রুটি। ইউনিটটি বন্ধ থাকায় কেন্দ্রটি থেকে বর্তমানে প্রায় ৫০০ থেকে ৫৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। পাশাপাশি ভারত থেকে আদানি গ্রুপের বিদ্যুৎ সরবরাহও কমেছে।
বিদ্যুৎ সংকটের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে দেশের বিভিন্ন গ্রাম ও শহরাঞ্চলে। রাজশাহীর বাঘা উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের গ্রামাঞ্চলে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে কৃষক, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থীসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, কোনো কোনো এলাকায় দিনে-রাতে মিলিয়ে প্রায় ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। এতে কৃষিকাজ, ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে।
যশোরের অভয়নগরেও বিদ্যুৎ সংকটে সরাসরি ক্ষতির মুখে পড়েছে পোলট্রি খাত। নওয়াপাড়া পৌরসভার বুইকরা গ্রামের একটি খামারে শনিবার সকালে প্রায় আট ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় চার শতাধিক মুরগি মারা যায়। খামারিরা জানিয়েছেন, তীব্র গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ না থাকায় অতিরিক্ত তাপের কারণে মুরগিগুলোর মৃত্যু হয়েছে।
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় লোডশেডিংয়ের কারণে বিপাকে পড়েছেন জেলেরা। আলীপুর-মহিপুর মৎস্যবন্দরে বিদ্যুৎ সংকটে বরফ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে। বাড়তি দাম দিয়েও প্রয়োজনীয় বরফ পাওয়া যাচ্ছে না। ১৫০ টাকার একটি ক্যান বরফ এখন ৩০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। বরফের অপেক্ষায় ঘাটে নোঙর করে আছে শত শত মাছধরা ট্রলার। ফলে ইলিশ মৌসুমে জেলেদের সাগরে যাত্রাও ব্যাহত হচ্ছে।
কুড়িগ্রাম ও সুনামগঞ্জেও দীর্ঘ সময়ের লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন গ্রাহকেরা। সুনামগঞ্জের বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলে দিন-রাত মিলিয়ে ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে। কুড়িগ্রামে নির্দিষ্ট সময়সূচি ছাড়াই ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় ব্যাহত হচ্ছে ব্যবসা-বাণিজ্য, উৎপাদন ও গৃহস্থালি কর্মকাণ্ড।
রংপুরে ঘন ঘন বিদ্যুৎবিভ্রাটে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। দিনে ও রাতে সমানতালে লোডশেডিংয়ের কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যের পাশাপাশি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের সেবাও ব্যাহত হচ্ছে। গরমে শিশু ও বয়স্কদের ভোগান্তি বেড়েছে। বিদ্যুৎনির্ভর ছোট কারখানাগুলোর উৎপাদনও ব্যাহত হচ্ছে।
সিলেটেও চাহিদার তুলনায় জাতীয় গ্রিড থেকে কম বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়ায় ঘাটতি তৈরি হয়েছে। শনিবার ২২৪ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ ছিল ১৮১ মেগাওয়াট। ফলে ৪৩ মেগাওয়াট ঘাটতি সামাল দিতে নগর ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় দফায় দফায় লোডশেডিং করতে হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জের বন্দরেও বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি নাজুক বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম। তাঁর দাবি, সেখানে ঘণ্টায় তিন থেকে চারবার পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে। বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণে লোডশেডিং করতেই হলে তা যেন পরিকল্পিতভাবে করা হয়, সে আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
বিদ্যুৎ সংকটের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে দেশের চলমান গ্যাস ঘাটতির। মহেশখালীর ক্ষতিগ্রস্ত এলএনজি টার্মিনাল এখনো পুরোপুরি সচল হয়নি। বর্তমানে ওই টার্মিনাল থেকে প্রায় ২৮ কোটি ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে। দ্বিতীয় বয়লার চালু করা সম্ভব হলে আরও প্রায় ৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
দুর্ঘটনার আগে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন প্রায় ২৬৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হতো। গত ২১ জুলাই মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালে আগুন লাগার পর সরবরাহ কমে প্রায় ২১২ কোটি ঘনফুটে নেমে যায়। বর্তমানে সরবরাহ বেড়ে প্রায় ২৩৫ কোটি ঘনফুট হয়েছে। তবে দেশের দৈনিক প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট চাহিদার তুলনায় এই সরবরাহ এখনো অনেক কম।
জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া, পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ থাকা এবং ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি কমে যাওয়ার প্রভাব একসঙ্গে পড়েছে জাতীয় বিদ্যুৎ ব্যবস্থায়। ফলে চাহিদার সঙ্গে উৎপাদনের ঘাটতি তৈরি হয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় তীব্র লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au