মহাকাশে ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপ, খুঁজবে মহাবিশ্বের অজানা রহস্য। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১২ আগস্ট: মহাবিশ্বের দৃশ্যমান নক্ষত্র, গ্রহ, গ্যাস ও ধূলিকণা মিলে মোট ভর ও শক্তির মাত্র প্রায় ৫ শতাংশ। বাকি বিশাল অংশ জুড়ে থাকা ডার্ক ম্যাটার ও ডার্ক এনার্জির প্রকৃতি এখনো বিজ্ঞানীদের কাছে অনেকটাই অজানা। এই রহস্যের উত্তর খুঁজতে আগামী ৩০ আগস্ট নাসা উৎক্ষেপণ করতে যাচ্ছে ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপ।
নাসার পরবর্তী প্রজন্মের এই মহাকাশ টেলিস্কোপের ঐতিহাসিক মিশনে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় রয়েছেন বাংলাদেশি জ্যোতির্বিজ্ঞানী লামিয়া আশরাফ মওলা। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটসের ওয়েলেসলি কলেজের হুইটিন অবজারভেটরিতে জ্যোতির্বিজ্ঞানী হিসেবে কাজ করছেন। নাসার প্রথম প্রধান জ্যোতির্বিজ্ঞানী এবং হাবল স্পেস টেলিস্কোপের ‘জননী’ হিসেবে পরিচিত ন্যান্সি গ্রেস রোমানের নামেই নতুন এই টেলিস্কোপের নামকরণ করা হয়েছে।
রোমান স্পেস টেলিস্কোপের দৃশ্যমান এলাকা হাবল স্পেস টেলিস্কোপের তুলনায় অন্তত ১০০ গুণ বড় হবে। উন্নত প্রযুক্তির কারণে হাবলের কাছাকাছি আকারের হলেও এর ওজন হাবলের তুলনায় প্রায় এক-চতুর্থাংশ কম। টেলিস্কোপটির মূল আয়নার ওজন মাত্র ১৮৬ কেজি।
নাসার পরিকল্পনা অনুযায়ী, পুরো মিশনজুড়ে রোমান স্পেস টেলিস্কোপ প্রায় ১০০ কোটি বা ১ বিলিয়ন গ্যালাক্সি থেকে আসা আলো পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ করতে সক্ষম হবে। এর মাধ্যমে মহাবিশ্বের গঠন, বিবর্তন এবং ডার্ক এনার্জির প্রকৃতি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার আশা করছেন বিজ্ঞানীরা।
শুধু দূরবর্তী গ্যালাক্সি পর্যবেক্ষণই নয়, নক্ষত্রের তীব্র আলো আড়াল করে তার আশপাশে থাকা অপেক্ষাকৃত ক্ষীণ বস্তু সরাসরি দেখার সক্ষমতাও থাকবে এই টেলিস্কোপের। ফলে সৌরজগতের বাইরের গ্রহ বা এক্সোপ্ল্যানেট এবং গ্রহ তৈরির সময় গড়ে ওঠা মহাজাগতিক ডিস্ক পর্যবেক্ষণের নতুন সুযোগ তৈরি হবে। রোমান স্পেস টেলিস্কোপ আমাদের গ্যালাক্সিতে থাকা গ্রহ ব্যবস্থা গুলোর ওপর একটি বড় ধরনের পরিসংখ্যান ভিত্তিক জরিপ চালাবে। এর মাধ্যমে মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সিতে গ্রহের বৈচিত্র্য, গঠন ও বিস্তারের বিষয়ে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যেতে পারে।
জ্যোতির্বিজ্ঞানের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে এই টেলিস্কোপ বিশেষ ভূমিকা রাখবে-ডার্ক এনার্জি, সৌরজগতের বাইরের গ্রহ এবং ইনফ্রারেড বা অবলোহিত জ্যোতির্বিজ্ঞান। এসব ক্ষেত্রের জটিল প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই রোমান স্পেস টেলিস্কোপের বড় একটি অংশের পর্যবেক্ষণ পরিচালিত হবে। পৃথিবী থেকে প্রায় ১৫ লাখ কিলোমিটার দূরে, সূর্যের বিপরীত দিকে একটি বিশেষ কক্ষপথে অবস্থান করবে টেলিস্কোপটি। সেখান থেকে নক্ষত্রের তীব্র আলো আড়াল করে তার চারপাশের ক্ষীণ ও ছোট বস্তু পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে।
বর্তমানে টেলিস্কোপটির মূল নির্মাণ ও পরীক্ষা মেরিল্যান্ডের গডার্ড স্পেস ফ্লাইট সেন্টারে সম্পন্ন হওয়ার পর চূড়ান্ত প্রস্তুতির জন্য ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টারে নেওয়া হয়েছে। সব প্রস্তুতি শেষ হলে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ৩০ আগস্ট মহাকাশে যাত্রা করবে ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপ।
বিজ্ঞানীদের প্রত্যাশা, হাবল ও জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের পর্যবেক্ষণকে আরও বিস্তৃত করে মহাবিশ্বের অদৃশ্য ও রহস্যময় অংশ সম্পর্কে নতুন তথ্য সামনে আনবে রোমান স্পেস টেলিস্কোপ।