সাভারে মসজিদের মাঠে প্রেশারকুকার বোমা, নিষ্ক্রিয় করল পুলিশ
মেলবোর্ন, ১২ আগষ্ট: ঢাকার সাভারের সাধাপুর এলাকায় একটি মসজিদের মাঠে পাওয়া প্রেশারকুকারে রাখা বোমা নিষ্ক্রিয় করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট। বুধবার (১২…
মেলবোর্ন, ১২ আগষ্ট: জুলাই আন্দোলনের সময় ‘গুলি করি, মরে একটা, বাকিডি যায় না’ বক্তব্য দিয়ে আলোচনায় আসা ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ওয়ারী বিভাগের সাবেক উপকমিশনার মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইনকে চাকরি থেকে চূড়ান্তভাবে বরখাস্ত করেছে সরকার। একই সঙ্গে আরও পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তাকেও চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।
বুধবার (১২ আগস্ট) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ছয় কর্মকর্তার চাকরিচ্যুতির বিষয়ে পৃথক ছয়টি প্রজ্ঞাপন জারি করে।
বরখাস্ত হওয়া অন্য পাঁচ কর্মকর্তা হলেন ডিএমপির উত্তরা বিভাগের সাবেক উপকমিশনার কাজী আশরাফুল আজীম, সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার ও সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. গোলাম রুহানী এবং কক্সবাজারের উখিয়ায় ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাজন কুমার দাস।
‘পলায়নের’ অভিযোগে বরখাস্ত
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ছয় কর্মকর্তাই কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালায় এ ধরনের অননুমোদিত অনুপস্থিতিকে ‘পলায়ন’ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।
তদন্তে কাজী আশরাফুল আজীম ও রাজন কুমার দাসের বিরুদ্ধে ‘অসদাচরণ’-এর অভিযোগও প্রমাণিত হয়েছে।প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, প্রত্যেক কর্মকর্তার চাকরিচ্যুতি কার্যকর হবে যেদিন থেকে তাঁরা কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন, সেই তারিখ থেকে।
ইকবাল হোসাইনের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ
মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইন বর্তমানে খুলনা রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত পুলিশ সুপার এবং এর আগে ডিএমপির ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, তিনি ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট থেকে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। তাঁর বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানায় এবং ই-মেইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি দায়িত্বে ফেরেননি।পরে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয় এবং কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি কোনো লিখিত জবাব দেননি এবং জবাব দেওয়ার জন্য সময়ও চাননি।
তদন্তে তাঁর বিরুদ্ধে ‘পলায়নের’ অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে মত দেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। তদন্ত প্রতিবেদনসহ সংশ্লিষ্ট নথি পর্যালোচনার পর তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্তের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এরপর দ্বিতীয় দফায় কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও তিনি কোনো জবাব দেননি। সরকারি কর্ম কমিশনের মতামত ও রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট থেকে তাঁর চাকরিচ্যুতি কার্যকর করা হয়েছে।
এর আগে একই অভিযোগে গত বছরের ২৩ জুলাই ইকবাল হোসাইনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। এক বছরের বেশি সময় পর এবার তাঁকে চাকরি থেকে চূড়ান্তভাবে বরখাস্ত করা হলো।
যে বক্তব্যে আলোচনায় আসেন ইকবাল
২০২৪ সালের জুলাইয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলিতে হতাহতের ঘটনা নিয়ে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের সঙ্গে কথা বলার সময় ইকবাল হোসাইনের একটি বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
প্রায় ৪৩ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে তাঁকে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে পুলিশের গুলিতে হতাহতের পরিস্থিতি সম্পর্কে বলতে শোনা যায়। তাঁর বক্তব্যের একটি অংশ ছিল, ‘গুলি করি, মরে একটা, আহত হয় একটা। একটাই যায় স্যার, বাকিডি যায় না।’
ভিডিওতে তৎকালীন পুলিশের মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন ও স্বরাষ্ট্রসচিব জাহাঙ্গীর আলমকেও উপস্থিত থাকতে দেখা যায়।
তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এবারের প্রজ্ঞাপনে ইকবালের ওই বক্তব্য বা জুলাই আন্দোলনের সময়কার কোনো কর্মকাণ্ডকে চাকরিচ্যুতির কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, তাঁর বিরুদ্ধে মূল অভিযোগ ছিল কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা।
বরখাস্ত অন্য পাঁচ কর্মকর্তা
কাজী আশরাফুল আজীম: ২০২৪ সালের ৪ জুলাই থেকে ১৪ আগস্ট পর্যন্ত ডিএমপির উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার ছিলেন। বদলির পর ১৪ আগস্ট ডিএমপির দায়িত্ব ছাড়লেও চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে যোগ দেননি। তদন্তে তাঁর বিরুদ্ধে ‘অসদাচরণ’ ও ‘পলায়নের’ অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ১৪ আগস্ট ২০২৪ থেকে চাকরিচ্যুতি কার্যকর করা হয়েছে।
বিপ্লব কুমার সরকার: ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার। সাময়িক বরখাস্ত অবস্থায় বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত ছিলেন। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট থেকে কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। ওই তারিখ থেকেই তাঁর চাকরিচ্যুতি কার্যকর হয়েছে।
সুদীপ কুমার চক্রবর্তী: সাবেক যুগ্ম কমিশনার। তিনিও সাময়িক বরখাস্ত অবস্থায় বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত ছিলেন। একাধিকবার কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার নোটিশ দেওয়া হলেও তিনি দায়িত্বে ফেরেননি। ২০২৪ সালের ২২ আগস্ট থেকে অনুপস্থিত থাকায় ওই তারিখ থেকেই তাঁর চাকরিচ্যুতি কার্যকর করা হয়েছে।
রাজন কুমার দাস: কক্সবাজারের উখিয়ায় ৮ এপিবিএনের সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার। ২০২৪ সালের ২৫ থেকে ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত পাঁচ দিনের নৈমিত্তিক ছুটি নেওয়ার পর ৩১ ডিসেম্বর তাঁর কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তিনি আর দায়িত্বে ফেরেননি। তদন্তে ‘অসদাচরণ’ ও ‘পলায়নের’ অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ থেকে তাঁকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
মো. গোলাম রুহানী: ডিএমপির সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার। ২০২৪ সালের ১০ আগস্ট পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সহকারী সচিব হিসেবে প্রেষণে যোগ দিতে ডিএমপির দায়িত্ব ছাড়েন। পরে তাঁকে খাগড়াছড়ির এপিবিএন ও বিশেষায়িত প্রশিক্ষণকেন্দ্রে বদলি করা হলেও সেখানে যোগ দেননি। ১১ আগস্ট ২০২৪ থেকে অনুপস্থিত থাকায় ওই তারিখ থেকেই তাঁর চাকরিচ্যুতি কার্যকর করা হয়েছে।
সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ছয় কর্মকর্তার ক্ষেত্রেই দীর্ঘদিনের অননুমোদিত অনুপস্থিতি ও সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় তদন্তের ভিত্তিতে চাকরি থেকে চূড়ান্ত বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au