চাঁদে ‘মুন বেস’ গড়তে ভারতকে আমন্ত্রণ নাসার
মেলবোর্ন, ১৩ আগস্ট: চাঁদের মাটিতে ভবিষ্যতে স্থায়ী অবকাঠামো গড়ে তোলার উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। এই ‘মুন বেস’ প্রকল্পে ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা…
মেলবোর্ন, ১৩ আগষ্ট- আকাশপ্রেমীদের জন্য আজ এক বিরল মহাজাগতিক দৃশ্যের দিন। ইউরোপ, আটলান্টিক মহাসাগরীয় অঞ্চল এবং উত্তর আমেরিকার কিছু অংশ থেকে দেখা যাচ্ছে পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ। তবে ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ থেকে এই গ্রহণ সরাসরি দেখা যাচ্ছে না।
বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা ৩৪ মিনিটে শুরু হয়েছে সূর্যগ্রহণ। প্রায় ২৬৪ মিনিট ধরে বিভিন্ন অঞ্চলে এর প্রভাব দেখা যাবে। রাশিয়া ও উত্তর মেরুর কাছাকাছি অঞ্চল থেকে চাঁদের ছায়ার পথ শুরু হয়ে গ্রিনল্যান্ডের উপকূল পেরিয়ে ইউরোপের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আইসল্যান্ডের রাজধানী রেইকিয়াভিক থেকেও পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখা যাচ্ছে।
আইসল্যান্ডের জন্য এবারের গ্রহণটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ১৯৫৪ সালের পর দেশটির বাসিন্দারা এবার আবার সরাসরি পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখার সুযোগ পাচ্ছেন। এরপর ২১৯৬ সালের আগে সেখানে এমন পূর্ণগ্রাস আর দেখা যাবে না।
গ্রহণের শেষ পর্যায়ে স্পেনের উত্তরাঞ্চল, পর্তুগালের কিছু এলাকা এবং বালেয়ারিক দ্বীপপুঞ্জে সূর্যাস্তের ঠিক আগে পূর্ণগ্রাস দেখা যাবে। তবে পূর্ণগ্রাসের স্থায়িত্ব কোনো নির্দিষ্ট স্থানে সর্বোচ্চ প্রায় ২ মিনিট ১৮ সেকেন্ডের মতো।
শুধু পূর্ণগ্রাসের পথেই নয়, পৃথিবীর বিস্তীর্ণ অঞ্চলে আংশিক সূর্যগ্রহণও দেখা যাচ্ছে। যুক্তরাজ্য ও আয়ারল্যান্ডের বিভিন্ন এলাকায় সূর্যের প্রায় ৯০ থেকে ৯৬ শতাংশ পর্যন্ত চাঁদের আড়ালে চলে যাচ্ছে। কানাডার অধিকাংশ এলাকা, আলাস্কা এবং যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কিছু অংশ থেকেও আংশিক গ্রহণ দেখা যাচ্ছে।
পূর্ণগ্রাসের সময় চাঁদ যখন পুরোপুরি সূর্যকে ঢেকে ফেলে, তখন দিনের আলো কয়েক মিনিটের জন্য অনেকটা গোধূলির মতো হয়ে যায়। পরিবেশে নেমে আসে শীতলতা এবং তাপমাত্রাও কয়েক ডিগ্রি পর্যন্ত কমে যেতে পারে।
বিজ্ঞানীদের কাছেও পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সূর্যের তীব্র আলোর কারণে সাধারণ সময়ে এর বাইরের বায়ুমণ্ডল বা করোনা সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা কঠিন। কিন্তু পূর্ণগ্রাসের সময় সূর্যের করোনা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ফলে বিজ্ঞানীরা সূর্যের গঠন, বায়ুমণ্ডল এবং বিভিন্ন সৌরক্রিয়া সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহের সুযোগ পান।
বাংলাদেশ থেকে সরাসরি এই মহাজাগতিক দৃশ্য দেখা না গেলেও আন্তর্জাতিক মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ও পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রগুলোর সরাসরি সম্প্রচারের মাধ্যমে ঘরে বসেই গ্রহণটি দেখা যাবে। এ ছাড়া মোবাইল ফোনে ক্রোম ব্রাউজার বা গুগল অ্যাপে ইংরেজিতে ‘solar eclipse 2026’ লিখে সার্চ করলেও এ নিয়ে বিশেষ দৃশ্য ও তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
সূত্র: নিউসায়েন্টিস্ট
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au