লাকেম্বা মসজিদের মাইকে আজান প্রচারের প্রস্তাব ফের বাধার মুখে
মেলবোর্ন, ১৯ আগষ্ট: অস্ট্রেলিয়ার সিডনির লাকেম্বা মসজিদের মিনার থেকে লাউডস্পিকারে আজান প্রচারের প্রস্তাব আবারও বড় ধরনের বাধার মুখে পড়েছে। শব্দদূষণ নিয়ে উদ্বেগ এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের…
মেলবোর্ন, ১৯ আগষ্ট: সিডনি সোয়ান্সের পাঁচ খেলোয়াড়কে ২০২৬ সালের এএফএল মৌসুমের বাকি সব ম্যাচ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। মেলবোর্নের একটি হোটেলে যৌন নিপীড়নের অভিযোগের ঘটনায় ক্লাবের নিজস্ব তদন্তের পর রাইলি বাইস, নিক ব্লেকি, আইজ্যাক হিনি, জেমস জর্ডান ও চ্যাড ওয়ার্নারের বিরুদ্ধে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বুধবার সিডনি সোয়ান্সের চেয়ারম্যান অ্যান্ড্রু প্রিধাম ও প্রধান নির্বাহী ম্যাথিউ পাভলিচ সংবাদ সম্মেলনে হোটেলকাণ্ড নিয়ে প্রথমবারের মতো বিস্তারিত কথা বলেন। একই সঙ্গে ক্লাবের পক্ষ থেকে সমর্থক, করপোরেট অংশীদার এবং সংশ্লিষ্ট সবার কাছে ক্ষমা চাওয়া হয়।
ঘটনাটি ঘটে ১৭ আগস্ট রাতে মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে এসেনডনের বিপক্ষে দলের জয়ের পর। এরপর সিডনি সোয়ান্সের খেলোয়াড়েরা মেলবোর্নের ওয়েলিংটন প্যারেডের পুলম্যান হোটেলে অবস্থান করছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, কয়েকজন খেলোয়াড় রাতে বাইরে খাওয়া ও পানীয় গ্রহণের পর হোটেলে ফিরে যান এবং পরে কয়েকজন নারীকে হোটেলের একটি কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়।
বুধবার প্রকাশিত নতুন এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, খেলোয়াড়েরা ওই নারীদের ‘ল্যাপ ড্যান্স’-এর জন্য হোটেলে নিয়ে গিয়েছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, এক খেলোয়াড় নারীদের হোটেলে আসার ব্যবস্থা করেছিলেন। এরপর একটি কক্ষে এমন একটি পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, যেখানে এক নারী অভিযোগ করেন, আগে থেকে নির্ধারিত ব্যক্তিগত সীমা লঙ্ঘন করা হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের প্রকৃত ঘটনা এখনো নিশ্চিত হয়নি। বিষয়টি বর্তমানে ভিক্টোরিয়া পুলিশের যৌন অপরাধ দপ্তর তদন্ত করছে। পুলিশ জানিয়েছে, ১৭ আগস্ট পূর্ব মেলবোর্নের একটি হোটেলে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ পাওয়ার পর তারা তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে থাকা কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলেছে। এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার বা আনুষ্ঠানিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি এবং কোনো অভিযোগও দায়ের করা হয়নি।

Sydney Swans Chairman Andrew Pridham (right) and CEO Matthew Pavlich address the press. Picture: Gaye Gerard/Newswire
সিডনি সোয়ান্সের প্রধান নির্বাহী ম্যাথিউ পাভলিচ বলেন, ক্লাব অত্যন্ত হতাশ ও বিব্রত। পাঁচ খেলোয়াড়ের সিদ্ধান্তের কারণে নারীদের ওপর যে প্রভাব পড়েছে, সেটি নিয়েও তারা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।
তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট নারীদের নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিয়ে ক্লাব গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। তবে পুলিশি তদন্ত চলমান থাকায় তাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে তদন্তে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করতে চায় না ক্লাব।
পাভলিচ জানান, খেলোয়াড়েরা মদ্যপান করেছিলেন, গভীর রাত পর্যন্ত বাইরে ছিলেন এবং পরে হোটেলে নারীদের নিয়ে এসেছিলেন। ক্লাবের প্রত্যাশিত আচরণ ও মানদণ্ডের তুলনায় এসব কর্মকাণ্ড অনেক নিচে ছিল বলেই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার রাতে সিডনি সোয়ান্সের পরিচালনা পর্ষদ জরুরি বৈঠক করে। বৈঠকের পর ক্লাব জানায়, একাধিক খেলোয়াড় ক্লাবের আচরণবিধি ও প্রত্যাশিত মানদণ্ডের গুরুতর লঙ্ঘন করেছেন। বুধবার সকালে ক্লাব আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়, রাইলি বাইস, নিক ব্লেকি, আইজ্যাক হিনি, জেমস জর্ডান ও চ্যাড ওয়ার্নার ২০২৬ এএফএল মৌসুমের বাকি সময়, এমনকি ফাইনাল সিরিজেও খেলতে পারবেন না।
এএফএল কর্তৃপক্ষও সিডনি সোয়ান্সের এই শাস্তিমূলক সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছে। পাশাপাশি জানানো হয়েছে, চলমান পুলিশি তদন্তের সঙ্গে ক্লাবের এই সিদ্ধান্তের কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই। পাঁচ খেলোয়াড়কে এ বছর অল-অস্ট্রেলিয়ান দলের ৪৬ সদস্যের চূড়ান্ত তালিকার জন্যও বিবেচনা করা হবে না।
এই সিদ্ধান্তে সিডনি সোয়ান্সের এবারের শিরোপা জয়ের সম্ভাবনাও বড় ধাক্কা খেয়েছে। দলটি ঘরোয়া ও অ্যাওয়ে পর্বের মৌসুম পয়েন্ট তালিকার দ্বিতীয় স্থানে শেষ করবে বলে আশা করা হচ্ছিল। বিশেষ করে নিক ব্লেকি, আইজ্যাক হিনি ও চ্যাড ওয়ার্নার দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হওয়ায় তাদের অনুপস্থিতি ফাইনাল সিরিজে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
ক্লাবের নিজস্ব তদন্ত এবং ভিক্টোরিয়া পুলিশের তদন্ত দুটি আলাদা প্রক্রিয়া। পুলিশি তদন্তে এখনো পাঁচ খেলোয়াড়ের কাউকে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযুক্ত করা হয়নি। তাদের কেউই গ্রেপ্তার হননি। পুলিশ এখনো ঘটনার সঠিক পরিস্থিতি নির্ধারণের চেষ্টা করছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিযোগের কেন্দ্রীয় নারী মঙ্গলবার পুলিশের কাছে লিখিত বক্তব্য দিয়েছেন। এদিকে পাঁচ খেলোয়াড় সোমবার রাতে মেলবোর্ন থেকে সিডনিতে ফেরার আগে সিডনি সোয়ান্স কর্তৃপক্ষ মেলবোর্নের অপরাধবিষয়ক আইনজীবী টনি হারগ্রিভসের সহায়তা নেয় বলেও জানা গেছে।
এর আগে ১৭ আগস্ট ভোরে হোটেলে দুই নারী ফিরে এসে তাদের এক বন্ধুকে নিয়ে যাওয়ার জন্য একটি কক্ষে প্রবেশের অনুমতি চান বলে অভিযোগ ওঠে। হোটেল কর্তৃপক্ষ তাদের ওই কক্ষে ঢুকতে না দিলে তারা লবিতে সিডনি সোয়ান্সের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে আরও একজন নারী হোটেলে আসেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময় এক নারীকে কান্নারত ও অত্যন্ত উত্তেজিত অবস্থায় দেখা যায়। তিনি হোটেল কর্মীদের কাছে অভিযোগ করেছিলেন যে তার বন্ধুর সঙ্গে কক্ষে থাকা অবস্থায় অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ করা হয়েছে। তবে ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি এখনো পুলিশের তদন্তে নিশ্চিত হয়নি।
সিডনি সোয়ান্স এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা নারীদের প্রতি সব ধরনের নির্যাতন ও অসম্মানজনক আচরণের নিন্দা করে। কোনো ধরনের আচরণ যদি অন্যের ক্ষতি বা অপমানের কারণ হয়, তা ক্লাবের কাছে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ক্লাবের ভাষ্য, সব নারীর সম্মান ও নিরাপদ বোধ করার অধিকার রয়েছে।
ক্লাব আরও জানিয়েছে, তাদের এএফএলডব্লিউ খেলোয়াড় ও নারী কর্মীদের নিরাপত্তা এবং কল্যাণও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অভিযোগের কারণে নারী খেলোয়াড়, কর্মী এবং বৃহত্তর সম্প্রদায়ের ওপর যে প্রভাব পড়েছে, সে বিষয়েও ক্লাব সচেতন।
পুলিশি তদন্ত শেষ হওয়ার পর পরিস্থিতির ভিত্তিতে আরও কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, সে সিদ্ধান্ত পরে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সিডনি সোয়ান্স। তদন্ত চলাকালে সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়, তাদের সঙ্গী ও পরিবারের সদস্যদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার কথাও জানিয়েছে ক্লাব।
এদিকে টেলস্ট্রার ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর আইজ্যাক হিনি ও চ্যাড ওয়ার্নারকেও তদন্ত চলাকালে টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠানটির সব ধরনের অ্যাম্বাসেডর কার্যক্রম থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। টেলস্ট্রা জানিয়েছে, তারা ঘটনাটি নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন এবং পুলিশি তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়েরা কোনো অ্যাম্বাসেডর কার্যক্রমে অংশ নেবেন না।
ফুটবল বিশ্লেষক ও সাবেক কলিংউড সভাপতি এডি ম্যাকগুইয়ারও ঘটনাটি নিয়ে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, সিডনি সোয়ান্স বিষয়টিকে দুটি আলাদা দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছে। একদিকে রয়েছে যৌন অপরাধ দপ্তরের পুলিশি তদন্ত, অন্যদিকে রয়েছে ক্লাবের নিজস্ব আচরণবিধি ও খেলোয়াড়দের কাছ থেকে প্রত্যাশিত মানদণ্ড।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত খেলোয়াড়েরা যা-ই করে থাকুন না কেন, মধ্যরাতের পর তাদের আচরণ, মদ্যপান কিংবা দলের নিয়মের বাইরে যাওয়া নিয়ে সিডনি সোয়ান্স আলাদাভাবে ব্যবস্থা নিতে পারে। একই সঙ্গে তিনি মনে করিয়ে দেন, পুলিশি তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সবাই আইনগতভাবে নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।
এএফএল প্রধান নির্বাহী অ্যান্ড্রু ডিলনও এর আগে ঘটনাটিকে গভীরভাবে উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেন। তিনি জানান, তদন্ত থেকে আরও তথ্য সামনে এলে সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়দের আচরণ নিয়ে লিগ কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে।
ভিক্টোরিয়া পুলিশ জানিয়েছে, ১৭ আগস্ট ভোরে পূর্ব মেলবোর্নের ওয়েলিংটন প্যারেডের একটি হোটেলে ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার সঠিক পরিস্থিতি এখনো স্পষ্ট নয় এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। পুলিশ হোটেলে থাকা বেশ কয়েকজনের সঙ্গে কথা বললেও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার বা আনুষ্ঠানিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au