বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
মেলবোর্ন, ২০ আগষ্ট- দীর্ঘ ৩৫ বছর পর সংসদ সদস্যদের সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ভোটে বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে…
মেলবোর্ন, ২০ আগষ্ট- ভারতের সঙ্গে ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ আগামী ডিসেম্বরে শেষ হচ্ছে। এর আগে নতুন চুক্তিতে শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশকে গঙ্গার পানির ন্যূনতম প্রবাহ নিশ্চিত করতে একটি ‘গ্যারান্টি ক্লজ’ অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছে ঢাকা।
বাংলাদেশের পানি সম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানী মঙ্গলবার ঢাকায় আয়োজিত ‘গঙ্গা পানি চুক্তি: পুনঃআলোচনার বিষয়’ শীর্ষক এক সেমিনারে এ দাবি জানান। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ল অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স এই সেমিনারের আয়োজন করে।
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।
বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে ভারতের সঙ্গে গঙ্গার পানি বণ্টন নিয়ে আলোচনা করে আসছে। ১৯৯৬ সালের চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে ঢাকা নতুন একটি চুক্তি করতে চায়। তবে ভারত জানিয়েছে, চুক্তি নবায়ন নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা এখনো শুরু হয়নি।
পানি সম্পদমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ নতুন একটি চুক্তি করার বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আগামী মাসে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বাংলাদেশ ও ভারতের পতাকা। ছবিঃ সংগৃহীত
শুষ্ক মৌসুমে ন্যূনতম পানি নিশ্চিত করতে চায় ঢাকা
বাংলাদেশের প্রস্তাবিত ‘গ্যারান্টি ক্লজ’র মূল উদ্দেশ্য হলো শুষ্ক মৌসুমে নদীর পানির প্রবাহ কমে গেলে বাংলাদেশ যেন একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ পানি পায়, তা নিশ্চিত করা।
১৯৭৭ সালের গঙ্গা পানি চুক্তিতে এ ধরনের একটি নিশ্চয়তার ব্যবস্থা ছিল। তবে ১৯৯৬ সালের চুক্তিতে সেই ব্যবস্থা রাখা হয়নি।
বাংলাদেশের পানি সম্পদমন্ত্রী বলেন, নতুন চুক্তিতে এই নিশ্চয়তা ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি পানি বণ্টনসংক্রান্ত তথ্য পাওয়ার অধিকারও নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের জন্য একটি চুক্তি করা জরুরি। চুক্তি ছাড়া সামনে এগিয়ে যাওয়ার কোনো পথ নেই এবং পানি পাওয়া বাংলাদেশের অধিকার।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, বর্তমান পানি বণ্টন ব্যবস্থা এমন কিছু জলপ্রবাহের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি, যা বর্তমান পরিস্থিতিকে পুরোপুরি তুলে ধরে না। শুষ্ক মৌসুমে গঙ্গার পানির প্রবাহ কমে যাওয়া এবং এর পরিমাণে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়েছে। এর সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবও পানির প্রবাহ নিয়ে বাংলাদেশের উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
ফারাক্কা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ
গঙ্গার পানি বণ্টন নিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের মতপার্থক্যের অন্যতম প্রধান বিষয় পশ্চিমবঙ্গের ফারাক্কা ব্যারাজ।
হুগলি নদী ব্যবস্থায় পানি প্রবাহিত করার উদ্দেশ্যে ফারাক্কায় এই স্থাপনা তৈরি করা হয়। বাংলাদেশের অভিযোগ, শুষ্ক মৌসুমে ফারাক্কার কারণে ভাটিতে গঙ্গার পানির প্রবাহ কমে যায়।
সেমিনারে বাংলাদেশের পানি সম্পদমন্ত্রী ফারাক্কাকে বাংলাদেশের জন্য ‘মৃত্যুফাঁদ’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর অভিযোগ, গঙ্গা নদী ব্যবস্থায় ব্যারাজ এবং প্রায় ৯০০টি বাঁধ বা বাঁধসদৃশ স্থাপনা নির্মাণ দুই দেশের মধ্যে পানি নিয়ে উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে।
তবে ভারত ফারাক্কাকে বাঁধ হিসেবে উল্লেখ করার বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করে আসছে। ভারতের বক্তব্য, এটি মূলত পানি সরিয়ে নেওয়ার একটি স্থাপনা। এর মাধ্যমে গঙ্গা থেকে প্রায় ৪০ হাজার কিউসেক পানি ফারাক্কা খালে প্রবাহিত করা হয়। বাকি পানি বাংলাদেশের দিকে প্রবাহিত হয়।
ভারতের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, পানি প্রবাহের তথ্য নিয়মিতভাবে বাংলাদেশের সঙ্গে যৌথ নদী কমিশনের মাধ্যমে বিনিময় করা হয়।
ভারতও দ্রুত আলোচনা শুরু করতে চায়
গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি নবায়নের বিষয়টি ভারতের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। গত জুলাইয়ে ভারতের পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটি চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে দ্রুত নবায়ন নিয়ে আলোচনা শুরু করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
কমিটি বলেছে, নতুন চুক্তি করার সময় হালনাগাদ নদীর পানির প্রবাহসংক্রান্ত তথ্য, জলবায়ু পরিবর্তনের পূর্বাভাস এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারের উদ্বেগ বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ভারতের সরকার দেশটির সংসদকে জানিয়েছিল, গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি নবায়ন নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনা এখনো শুরু হয়নি। তবে ভারতের অবস্থান তৈরির সময় পশ্চিমবঙ্গসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের মতামত বিবেচনা করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ও ভারত মোট ৫৪টি অভিন্ন নদী ভাগ করে নেয়। এসব নদীর পানি ব্যবস্থাপনা দুই দেশের সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ফলে গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে নতুন চুক্তি নিয়ে আলোচনা দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এখন শুষ্ক মৌসুমে ন্যূনতম পানি নিশ্চিত করার গ্যারান্টি এবং পানি বণ্টনসংক্রান্ত তথ্য পাওয়ার ব্যবস্থা নতুন চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে ভারতও চুক্তি নবায়নের আলোচনা দ্রুত শুরু করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলছে। ফলে ডিসেম্বরের আগে দুই দেশ কীভাবে নতুন চুক্তির কাঠামোতে পৌঁছায়, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সূত্রঃ এএফপি ও ফার্স্টপোস্ট
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au