বাংলাদেশ

মৃত্যুর আগে দেওয়া জবানবন্দিতে যা বলেছিলেন নুসরাত

  • 6:40 pm - August 24, 2026
  • পঠিত হয়েছে:১৯৯ বার
মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি। ছবি: সংগৃহীত

মেলবোর্ন, ২৪ আগষ্ট- ফেনীর সোনাগাজীর আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি মৃত্যুর আগে দেওয়া জবানবন্দিতে তার ওপর ঘটে যাওয়া নির্যাতন ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা তুলে ধরেছিলেন। হাইকোর্টে নুসরাত হত্যা মামলার রায় ঘোষণার পর তার সেই জবানবন্দি আবারও আলোচনায় এসেছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ নুসরাত হত্যা মামলায় দুই আসামি সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা ও শাহাদাত হোসেন শামীমের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। একই মামলায় চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ১০ জনকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে নুসরাতের শ্লীলতাহানি করেন। এর প্রতিবাদ করে নুসরাত তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। পরে এ ঘটনায় সিরাজ উদদৌলাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

নুসরাতের মৃত্যুকালীন জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করেছিলেন তৎকালীন শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের চিকিৎসা কর্মকর্তা মো. ওবায়দুল ইসলাম। পরে তিনি ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে নুসরাতের দেওয়া বক্তব্য পড়ে শোনান।

জবানবন্দিতে নুসরাত জানান, ২৭ মার্চ অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা তার গায়ে হাত দেন এবং তিনি এর প্রতিবাদ করেন। প্রতিদিন তার বড় ভাই তাকে মাদ্রাসায় নিয়ে যেতেন এবং নিয়ে আসতেন। ঘটনার দিনও বড় ভাই তাকে মাদ্রাসায় নিয়ে গেলেও তাকে ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি।

নুসরাতের সেই জবানবন্দিটি তুলে ধরা হলো:

জবানবন্দিতে নুসরাত বলেন, ‘২৭ মার্চ প্রিন্সিপাল স্যার আমার গায়ে হাত দেন এবং আমি এর প্রতিবাদ করি। প্রতিদিন আমার (নুসরাত) বড় ভাই আমাকে মাদ্রাসায় নিয়ে যায় এবং নিয়ে আসে। ঘটনার দিন আমাকে মাদ্রাসায় নিয়ে এলে আমার বড় ভাইকে ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। এরপর বোরকা ও নেকাব পরা চারজন আমাকে ছাদে ডেকে নিয়ে যায়। মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল স্যারের বিরুদ্ধে আমার দেওয়া অভিযোগগুলো মিথ্যা বলে চাপ দিতে থাকে। কিন্তু আমি বলি, আমার মৃত্যু পর্যন্ত অন্যায়ের প্রতিবাদ করে যাব।’

নুসরাত আরও বলেন, ‘একপর্যায়ে চারজন আমাকে ওড়না দিয়ে বেঁধে ফেলার চেষ্টা করে। এ সময় গ্লাসে থাকা তরলজাতীয় কিছু আমার দিকে ছুড়ে দেয়। এরপর গ্লাসটি আমার হাতে ধরিয়ে দেয়। তারা আমার গায়ে আগুন ধরিয়ে দ্রুত চলে যায়। ২৭ মার্চ প্রিন্সিপাল স্যার আমার গায়ে হাত দেন এবং আমি এর প্রতিবাদ করি।’

নুসরাতের মৃত্যুর পর ‘তাকে হত্যার মামলায়’ বিচারিক আদালতের রায়ের পর ডেথ রেফারেন্সের জন্য রায়সহ নথিপত্র ২০১৯ সালের ২৯ অক্টোবর হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এসে পৌঁছায়, যা ১৪০/১৯ ডেথ রেফারেন্স হিসেবে নম্বরভুক্ত হয়। চাঞ্চল্যকর মামলা হিসেবে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ডেথ রেফারেন্সের জন্য পেপারবুক তৈরি করা হয়। আসামিরাও পৃথক আপিল ও জেল আপিল করেন।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনসংক্রান্ত ডেথ রেফারেন্স, আপিল ও বিবিধ বিষয়াদি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনতে গত ১০ জুন হাইকোর্টের সুনির্দিষ্ট বেঞ্চ গঠন করে দেন প্রধান বিচারপতি। বেঞ্চটি ১৪ জুন কার্যক্রম শুরু করেন। এ বেঞ্চে চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলায় গত ২৮ জুলাই শুনানি শুরু হয়েছিল। শুনানি শেষ হয় ২০ আগস্ট। সেদিন রায়ের জন্য ২৪ আগস্ট তারিখ ধার্য করেন হাইকোর্ট। সে অনুযায়ী আজ রায় দিলেন আদালত।

গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় নুসরাতকে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০১৯ সালের ১০ এপ্রিল তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। পরে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।

২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল এ মামলায় রায় দেন। ওই রায়ে মাদ্রাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

পরে বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আসামিরা পৃথক আপিল ও জেল আপিল করেন। একই সঙ্গে মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য মামলার নথি হাইকোর্টে আসে, যা ডেথ রেফারেন্স হিসেবে নথিভুক্ত হয়।

চাঞ্চল্যকর মামলা হিসেবে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ডেথ রেফারেন্সের পেপারবুক প্রস্তুত করা হয়। এরপর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনসংক্রান্ত ডেথ রেফারেন্স, আপিল ও অন্যান্য বিষয় দ্রুত শুনানির জন্য প্রধান বিচারপতি একটি নির্দিষ্ট হাইকোর্ট বেঞ্চ গঠন করেন।

গত ২৮ জুলাই নুসরাত হত্যা মামলার শুনানি শুরু হয়। দীর্ঘ শুনানি শেষে ২০ আগস্ট তা শেষ হয়। ওই দিন হাইকোর্ট ২৪ আগস্ট রায়ের তারিখ নির্ধারণ করেন। নির্ধারিত দিনেই আদালত রায় ঘোষণা করে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন।

এই শাখার আরও খবর

বন্ডাই হামলার অভিযুক্তের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগ, মুক্তি পাচ্ছেন দণ্ডিত আইএস সদস্য

অস্ট্রেলিয়ার বন্ডাই বিচে ভয়াবহ হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত নাভিদ আকরামের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগ থাকা দণ্ডিত ইসলামিক স্টেট (আইএস) সদস্য আইজ্যাক এল মাতারি আগামী রোববার কারাগার থেকে…

বছরে এক লাখ বাংলাদেশি কর্মী নেওয়ার সম্মতি দেয়নি জাপান

বাংলাদেশ থেকে বছরে এক লাখ কর্মী নেওয়ার বিষয়ে জাপান সরকার সম্মতি দিয়েছে বলে দেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া খবর নাকচ করেছে টোকিও।…

সৌদি আরবে ছয়টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি হুতিদের

সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থানে তেল স্থাপনা, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও একটি সামরিক কমান্ড সেন্টার লক্ষ্য করে এক দিনে ছয়টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে…

তাহসিফ সৌরির মৃত্যু: কিছু প্রশ্ন, প্রোপাগান্ডার অভিযোগ এবং বিচারের দাবি

সজীব ওয়াজেদ জয় :  রহস্যজনক মৃত্যুর মাত্র তিন মাস আগে এক পডকাস্টে তাহসিফ সৌরি ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে তার ওপর নেমে আসা ভয়াবহ…

এবার আওয়ামী লীগ নেত্রীর মরদেহ উদ্ধার, হত্যা করলো কারা?

ওটিএন বাংলা রিপোর্ট : চট্টগ্রাম নগরীর সদরঘাট এলাকার বাসা থেকে আওয়ামী লীগের নেত্রী নুর নাহার বেগমের (৭৫) মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বাসার পেছনের দরজা খোলা…

তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় বন্ধু দীপকে হেফাজতে নিল পিবিআই

বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সৌরির মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর জুনিয়র বন্ধু দীপকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) সদস্যরা। নিখোঁজ হওয়ার আগে…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au