সপরিবারে আত্মগোপনে থাকা চাঁদপুরের স্বর্ণ ব্যবসায়ী পিন্টু আটক
চাঁদপুরে নিখোঁজ হওয়ার পর সপরিবারে আত্মগোপনে থাকা স্বর্ণ ব্যবসায়ী পিন্টু দাসকে চট্টগ্রামের পটিয়া এলাকা থেকে আটক করেছে চাঁদপুর সদর মডেল থানা পুলিশ। শুক্রবার (২৮ আগস্ট)…
দেশের ৬৪ জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদক ও চোরাচালান নিয়ন্ত্রণ, দুর্নীতি দমন এবং সুশাসন নিশ্চিত করতে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের হুইপদের দায়িত্ব দিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে এসব জেলার উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড তদারকি ও সমন্বয়ের দায়িত্বও পালন করবেন তারা।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনোত্তর গঠিত সরকারের মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বিগত সরকারের আমলে দেশের বিভিন্ন জেলায় উন্নয়ন বরাদ্দের নামে ব্যাপক দুর্নীতি ও অর্থ লুটপাটের অভিযোগ রয়েছে। এসব অর্থের একটি অংশ বিদেশে পাচার এবং অন্য অংশ মাদকসহ বিভিন্ন সামাজিক অবক্ষয় ও জননিরাপত্তার জন্য ক্ষতিকর কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের অভিযোগও তুলে ধরা হয়েছে।
সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে দুর্নীতি দমন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে প্রজ্ঞাপনে। একই সঙ্গে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সঠিক বাস্তবায়ন এবং জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করতেও জোর দেওয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, সংবিধানের ৫৫(২) অনুচ্ছেদ এবং রুলস অব বিজনেস অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর নির্বাহী ক্ষমতার আওতায় মন্ত্রিসভা এ দায়িত্ব বণ্টনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। হাইকোর্ট বিভাগের একটি রিট মামলার রায়ের মর্ম অনুযায়ী এ ধরনের দায়িত্ব বণ্টন সরকারের এখতিয়ারভুক্ত বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ইকবাল হাসান মাহমুদকে রাজশাহী ও নাটোর; আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেনকে লালমনিরহাট, নীলফামারী ও পঞ্চগড়; আবদুল আউয়াল মিন্টুকে লক্ষ্মীপুর এবং নিতাই রায় চৌধুরীকে চুয়াডাঙ্গার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। খন্দকার আবদুল মুক্তাদির পেয়েছেন হবিগঞ্জের দায়িত্ব।
আরিফুল হক চৌধুরী মৌলভীবাজার; মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি চট্টগ্রাম; এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা; আসাদুল হাবিব দুলু ঠাকুরগাঁও ও দিনাজপুর এবং মো. আসাদুজ্জামান খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট জেলার দায়িত্ব পেয়েছেন।
জাকারিয়া তাহেরকে ফেনী ও নোয়াখালী; সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুলকে মানিকগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জ; সাচিং প্রুকে কক্সবাজার এবং মো. শরীফুল আলমকে টাঙ্গাইল ও নরসিংদীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
শামা ওবায়েদ ইসলাম দায়িত্ব পেয়েছেন মাদারীপুর ও শরীয়তপুরের। অনিন্দ্য ইসলাম অমিতকে মেহেরপুর, কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ; আব্দুল বারীকে বগুড়া ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ এবং সুলতান সালাউদ্দিনকে ঢাকা জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
পার্বত্য তিন জেলা খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও রাঙামাটির দায়িত্ব পেয়েছেন মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। হাবিবুর রশিদকে গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ; মো. রাজীব আহসানকে বরগুনা, পটুয়াখালী ও পিরোজপুর এবং মীর শাহে আলমকে রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
ফারজানা শারমিন সিরাজগঞ্জ ও পাবনা; শেখ ফরিদুল ইসলাম যশোর, মাগুরা ও নড়াইল; ইমরান খান চৌধুরী জামালপুর ও কিশোরগঞ্জ এবং আহমেদ সোহেল মঞ্জুর বরিশাল, ভোলা ও ঝালকাঠির দায়িত্ব পেয়েছেন।
এ ছাড়া মোহাম্মদ শামীম কায়সারকে জয়পুরহাট ও নওগাঁ; মো. জি কে গউছকে সিলেট ও সুনামগঞ্জ; মিয়া নূরুদ্দিন আহমেদকে রাজবাড়ী, ফরিদপুর ও গোপালগঞ্জ এবং এ বি এম আশরাফ উদ্দিনকে (নিজান) ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা ও চাঁদপুরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের হুইপরা জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও সমুন্নত রাখতে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিতে পারবেন।
বিশেষ করে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার নিয়ন্ত্রণ, চোরাচালান প্রতিরোধ এবং গুরুতর অপরাধ দমনে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কার্যক্রমে পরামর্শ দেওয়ার সুযোগ থাকবে তাদের।
এ ছাড়া সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি এবং বিভিন্ন উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম তদারকি ও পরামর্শ দেওয়ার দায়িত্বও থাকবে তাদের ওপর।
প্রয়োজনে দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও হুইপরা সংশ্লিষ্ট জেলার বিভিন্ন জেলা পর্যায়ের সভায় অংশ নিতে এবং সেখানে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিতে পারবেন।
তবে প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট করা হয়েছে, এই দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসহ অন্যান্য সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ সংস্থার আইনগত ক্ষমতা খর্ব হবে না।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au