ইউনূস সরকারের আমলে দুর্নীতির অভিযোগের পাহাড় তদন্তে দুদক
অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরের সময়ে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, তাঁর উপদেষ্টা ও ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ দুর্নীতি ও অর্থপাচারের অভিযোগ জমা পড়েছে বলে…
কুমিল্লার বাঙ্গরা উপজেলায় মো. আনোয়ার হোসেন (৪৫) নামে এক যুবলীগ নেতাকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের দাবি, রোববার দিবাগত রাতের শেষভাগে নিজ বাড়িতে স্ত্রী ও সন্তানদের সামনে তাকে হামলা করে হত্যা করা হয়। ঘটনার পর মসজিদের মাইকে এলাকায় ‘ডাকাত পড়েছে’ বলে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেছে নিহতের পরিবার।
নিহত আনোয়ার হোসেন বাঙ্গরা উপজেলার শ্রীকাইল ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য এবং একই ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি ছিলেন। তিনি উত্তর পেন্নাই গ্রামের মৃত মনু মিয়ার ছেলে।
স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আনোয়ার হোসেন ও সাবেক ইউপি সদস্য ফিরোজ হোসেনের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। ওই নির্বাচনে আনোয়ার আওয়ামী লীগের প্রার্থী ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুনের পক্ষে এবং ফিরোজ দলের বিদ্রোহী প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম সরকারের পক্ষে কাজ করেছিলেন বলে স্থানীয়রা জানান। নির্বাচনে জাহাঙ্গীর আলম সরকার জয়ী হওয়ার পর দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ আরও বাড়ে বলে স্থানীয়দের দাবি।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, ওই বিরোধের জেরে আনোয়ার দীর্ঘদিন এলাকা থেকে দূরে ছিলেন। শনিবার গভীর রাতে তিনি গোপনে বাড়িতে ফিরে একটি কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন। পরে রাত সাড়ে ৩টার দিকে একদল লোক দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে বাড়িতে হামলা চালায় বলে অভিযোগ পরিবারের।
নিহতের স্ত্রী মোমেনা বেগম বলেন, হামলাকারীরা তার স্বামীকে ঘর থেকে বের করে পিটিয়ে ও কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। স্বামীকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তাকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মোমেনা বেগমের আরও অভিযোগ, হামলার পর ঘটনাটিকে অন্যদিকে নেওয়ার জন্য মসজিদের মাইকে এলাকায় ডাকাত পড়েছে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়। আহত আনোয়ারকে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাদের আটকে রাখা হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। পরে পুলিশের সহায়তায় সকাল ৬টার দিকে আনোয়ারকে উদ্ধার করে মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক নাজমুস শাকিল জানান, হাসপাতালে নেওয়ার পর পরীক্ষা করে আনোয়ারকে মৃত পাওয়া যায়। হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করেন তিনি।
নিহতের চাচাতো ভাই মো. জসিম উদ্দিনের অভিযোগ, কিছুদিন আগে আনোয়ার এলাকায় ফেরার চেষ্টা করলে ফিরোজ হোসেনের লোকজন তার কাছে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করেছিল। টাকা না দিলে এলাকায় ফিরলে তাকে হত্যা করা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। তার অভিযোগ, পূর্বপরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়ে আনোয়ারকে হত্যা করা হয়েছে।
নিহতের মেয়ের জামাতা মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, আনোয়ার দীর্ঘদিন এলাকা থেকে দূরে ছিলেন। রাতে বাড়িতে ফিরে একটি কক্ষে ঘুমিয়ে পড়ার পর একদল লোক দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে তাকে মারধর করে হত্যা করে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তার দাবি, হামলাকারীরা সাবেক সংসদ সদস্য জাহাঙ্গীর আলম সরকারপন্থী লোকজন।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাবেক ইউপি সদস্য ফিরোজ হোসেন। তিনি বলেন, আনোয়ার হোসেন আগে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করতেন বলে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ছিল। গভীর রাতে আনোয়ার বাড়িতে ফিরেছেন জানতে পেরে ক্ষুব্ধ লোকজন তার ঘরে ঢুকে তাকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করেছে বলে দাবি করেন ফিরোজ। তবে তিনি নিজে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন বলে জানান।
বাঙ্গরা বাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শফিউল আলম বলেন, আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ঘটনায় থানায় ছয়টি মামলা রয়েছে। প্রাথমিকভাবে পূর্ববিরোধের জেরে হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে বলে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কারা জড়িত তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au