সৌদির তেল অবকাঠামোয় হামলা, বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ল ৩%
সৌদি আরবের পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইনে হামলা এবং হরমুজ প্রণালিতে ইরানি একটি কার্গো জাহাজে হামলার পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৩ শতাংশ বেড়েছে। সোমবার…
অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরের সময়ে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, তাঁর উপদেষ্টা ও ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ দুর্নীতি ও অর্থপাচারের অভিযোগ জমা পড়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এসব অভিযোগের মধ্যে কয়েকটি ইতোমধ্যে প্রাথমিকভাবে যাচাই করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা এখনো তদন্তাধীন এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি।
একটি মতামতধর্মী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইউনূস সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে দুদকে প্রায় দুই হাজার অভিযোগ জমা পড়েছে। এর মধ্যে অর্থপাচার, বিদেশে সম্পদ কেনা, সরকারি পদে নিয়োগ ও বদলিকে কেন্দ্র করে অর্থ লেনদেনসহ নানা ধরনের অভিযোগ রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
প্রতিবেদনে সবচেয়ে বেশি আলোচিত অভিযোগগুলোর একটি করা হয়েছে সাবেক ছাত্র উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে। তাঁর বিরুদ্ধে প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি ও অর্থপাচারের অভিযোগে দুদক তদন্ত শুরু করেছে বলে দাবি করা হয়েছে। অভিযোগে পর্তুগালে জমি কেনা, দুবাইয়ের ‘গ্রিন গ্রুপে’ বিনিয়োগ এবং সুইস ব্যাংকে অর্থ জমা রাখার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, দুবাইয়ে প্রায় ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, সিঙ্গাপুরে ৩ হাজার কোটি টাকা, অস্ট্রেলিয়ায় ২ হাজার কোটি টাকা এবং সুইজারল্যান্ডে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা পাচার করা হয়েছে। এ ছাড়া তাঁর দুই বোনজামাই ও এক ভাগ্নের মাধ্যমে বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এগুলোকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে বিবেচনা করা যাচ্ছে না।
প্রতিবেদনে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধেও বিদেশে অর্থ পাচার ও তাঁর মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানে অর্থ বিনিয়োগের অভিযোগ থাকার দাবি করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড ও নরওয়েতে বিপুল অর্থ পাচারের অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। নরওয়েতে ইউনূসের একটি অ্যাকাউন্টে বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩৭৪ কোটি টাকা জমা হওয়ার অভিযোগও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। এসব অভিযোগেরও স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা হয়নি।
এ ছাড়া আইন উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ জমা পড়েছে বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। বিচারক, আইন কর্মকর্তা ও সাব-রেজিস্ট্রার নিয়োগ এবং বদলির মাধ্যমে অর্থ আদায়, জামিন ও বদলি বাণিজ্য এবং বিদেশে সম্পদ গড়ার অভিযোগও উল্লেখ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক ও ফ্লোরিডায় তাঁর সম্পদের বিষয়ে দুদকে লিখিত অভিযোগ থাকার কথাও বলা হয়েছে।
সাবেক পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের বিরুদ্ধেও প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ জমা পড়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তাঁর স্বামী আবু বকর সিদ্দিকীর মাধ্যমে দুবাই ও লন্ডনে ব্যবসা পরিচালনা এবং সাবেক বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর সম্পদ বিক্রির অর্থ বিদেশে নেওয়ার অভিযোগও সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।
প্রতিবেদনে উপদেষ্টা নুরজাহান বেগমের বিরুদ্ধেও অভিযোগের কথা বলা হয়েছে। তাঁর এক নিকটাত্মীয়ের নামে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে বিলাসবহুল বাড়ি কেনার অভিযোগ দুদকে জমা পড়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে ইউনূস সরকারের বিভিন্ন উপদেষ্টা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি ও অর্থপাচারের অভিযোগ জমা পড়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। দুদকের একজন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, প্রাথমিক যাচাইয়ে যেসব অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, সেগুলো পর্যায়ক্রমে অনুসন্ধানের আওতায় আনা হবে।
এরই মধ্যে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে প্রাথমিক যাচাইয়ের পর আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, ২০২৫ সালে সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের জমা অর্থের পরিমাণ আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৪১ শতাংশ বেড়েছে। ২০২৪ সালে যেখানে বাংলাদেশিদের জমা অর্থের পরিমাণ প্রায় ৫৯ কোটি সুইস ফ্রাঁ ছিল, ২০২৫ সালে তা বেড়ে ৮৩ কোটি ৪১ লাখ সুইস ফ্রাঁ হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। তবে এই অর্থ বৃদ্ধির সঙ্গে ইউনূস সরকার বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা প্রতিবেদনে প্রমাণসহ দেখানো হয়নি।
লেখাটিতে বাংলাদেশের সুশীল সমাজের ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা করা হয়েছে। লেখকের দাবি, অতীতেও সুশীল সমাজের একটি অংশ বিভিন্ন সময়ে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার কাছাকাছি গিয়ে নিজেদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডে যুক্ত হয়েছে। ইউনূস সরকারের সময়ও দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে বলে মতামতধর্মী প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে দুদকের তদন্তের ফলাফলই এসব অভিযোগের প্রকৃত সত্যতা নির্ধারণ করবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে অভিযোগ প্রমাণিত না হলে অভিযুক্তদেরও আইনি ও সামাজিকভাবে দায়মুক্ত হওয়ার সুযোগ রয়েছে।
প্রতিবেদনের শেষাংশে ইউনূস সরকারের বিভিন্ন উপদেষ্টার বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতি ও অর্থপাচারের অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে এবং দুদকের চলমান অনুসন্ধান ও তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য সামনে আসবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au