আসিফ মাহমুদ ও স্ত্রীর দেশ-বিদেশের সম্পদের তথ্য চেয়েছে দুদক
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও তার স্ত্রীর দেশ-বিদেশে থাকা সম্পদ, ব্যাংক হিসাব এবং আর্থিক লেনদেনের…
রাশিয়া থেকে তেল ও গ্যাস কেনা অব্যাহত রাখলে ভারতসহ বড় ক্রেতা দেশগুলোর পণ্যে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা পেতে যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ বিষয়ে মার্কিন কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদে পাস হয়েছে নতুন একটি নিষেধাজ্ঞা ও শুল্কসংক্রান্ত বিল। এখন বিলটি ট্রাম্পের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
‘লিন্ডসে ও. গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অব ২০২৬’ নামের বিলটি বুধবার মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে ২৬২-১৫৯ ভোটে পাস হয়। এর আগে আগস্টে বিলটি সিনেটেও ৮৬-১১ ভোটে পাস হয়েছিল। ফলে এখন এটি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের স্বাক্ষরের জন্য পাঠানো হয়েছে।
বিলের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধানে রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল বা প্রাকৃতিক গ্যাস কেনা এবং রাশিয়ার জ্বালানি বাণিজ্যে নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সহায়তা করা দেশগুলোর পণ্যে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের সুযোগ রাখা হয়েছে। বিলের আওতায় ভারত ও চীনসহ কয়েকটি বড় রুশ জ্বালানি ক্রেতা দেশ রয়েছে। তবে শুল্ক আরোপ করা হবে কি না এবং হলে কত শতাংশ হবে, সে সিদ্ধান্ত প্রেসিডেন্টের হাতে থাকবে।
এই পরিস্থিতিতে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে ভারত। বৃহস্পতিবার দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ১৪০ কোটি মানুষের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই ভারতের প্রধান অগ্রাধিকার। আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি ও সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে বিভিন্ন উৎস থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী অপরিশোধিত তেল ও অন্যান্য জ্বালানি সংগ্রহ চালিয়ে যাবে নয়াদিল্লি।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন পদক্ষেপের কারণে দেশটির বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক স্বার্থে কোনো প্রভাব পড়লে তা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ জন্য ভারতীয় বাণিজ্য ও শিল্প খাতের সঙ্গে সরকার ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে বলেও জানানো হয়েছে।
নয়াদিল্লি এর আগে যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়েছিল, রাশিয়া থেকে তেল ও গ্যাস কেনার ক্ষেত্রে কোনো শুল্ক বা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলে তা ভারত-যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও প্রভাব ফেলতে পারে। ভারতের বক্তব্য, দেশের বিপুল জনসংখ্যার জন্য নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা তাদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।
ভারতের রুশ তেলের ওপর নির্ভরতার পেছনে রয়েছে দেশটির বিপুল জ্বালানি চাহিদা। বিশ্বের অন্যতম বড় তেল আমদানিকারক ভারত সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাশিয়ার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল কিনছে। চীনের পর ভারত রুশ তেলের অন্যতম বড় ক্রেতা।
২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর পর পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়ার ওপর একের পর এক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। একই সময়ে রাশিয়া তুলনামূলক কম দামে তেল বিক্রির দিকে যায়। ভারতসহ কয়েকটি দেশ তখন রুশ তেল কেনা বাড়িয়ে দেয়। এর ফলে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও রাশিয়ার জ্বালানি রপ্তানি থেকে আয় অব্যাহত থাকে।
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন আইনের মূল লক্ষ্যও রাশিয়ার জ্বালানি বিক্রি থেকে আয় কমানো। মার্কিন আইনপ্রণেতাদের যুক্তি, রাশিয়ার জ্বালানি রপ্তানি থেকে পাওয়া অর্থ ইউক্রেনে যুদ্ধ চালানোর সক্ষমতা বজায় রাখতে সহায়তা করছে। তাই রাশিয়ার তেলের বড় ক্রেতা দেশগুলোর ওপর অর্থনৈতিক চাপ তৈরির মাধ্যমে মস্কোর ওপর চাপ বাড়াতে চায় ওয়াশিংটন।
বিলের আওতায় শুধু ভারত ও চীন নয়, রাশিয়ার জ্বালানি কেনা বা নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সহায়তার সঙ্গে যুক্ত আরও কয়েকটি দেশের ওপরও শুল্ক আরোপের সুযোগ রাখা হয়েছে। প্রতিনিধি পরিষদের নথিতে ভারত, চীন, তুরস্ক, আজারবাইজান, হাঙ্গেরি, স্লোভাকিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, কাজাখস্তান ও কিরগিজস্তানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে বিল পাস হওয়া মানেই ভারতের পণ্যে তাৎক্ষণিকভাবে ১০০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হচ্ছে না। প্রথমে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে বিলে স্বাক্ষর করতে হবে। এরপর আইনে দেওয়া ক্ষমতা অনুযায়ী তিনি শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। কত শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে এবং কোন কোন দেশের ওপর তা কার্যকর হবে, সেটিও নির্বাহী সিদ্ধান্তের বিষয়।
এই আইনকে ঘিরে ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য সম্পর্কেও নতুন চাপ তৈরি হতে পারে। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য নিয়ে আলোচনা চলমান রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে রাশিয়ার তেল কেনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ এবং ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তার অবস্থান ভবিষ্যৎ আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠতে পারে।
ভারতের অবস্থান থেকে আপাতত যে বিষয়টি স্পষ্ট, তা হলো দেশটি রাশিয়াসহ বিভিন্ন উৎস থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী জ্বালানি কেনার নীতি বজায় রাখতে চায়। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন আইন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে রাশিয়ার বড় জ্বালানি ক্রেতা দেশগুলোর ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের আইনি ক্ষমতা দিচ্ছে।
ফলে এখন মূল বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে, ট্রাম্প এই ক্ষমতা বাস্তবে ব্যবহার করবেন কি না এবং করলে ভারতের ওপর কী ধরনের শুল্ক আরোপ করবেন। এর পাশাপাশি ভারত রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনার বর্তমান মাত্রা বজায় রাখবে কি না, সেটিও সামনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। এ সিদ্ধান্তের প্রভাব ভারত-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য সম্পর্কের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও পড়তে পারে।
সূত্রঃ আনন্দবাজার
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au