ফিল ওয়াহর বড় ছেলে জ্যাক (বাঁয়ে) মারা গেছেন। | ছবি: ইনস্টাগ্রাম
অস্ট্রেলিয়ার রাগবি অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। রাগবি অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও সাবেক ওয়ালাবিস তারকা ফিল ওয়াহর বড় ছেলে জ্যাক ওয়াহ মারা গেছেন। গত শুক্রবার মাত্র ২১ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু হয়।
কোড স্পোর্টসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুর্ঘটনাজনিত অতিরিক্ত মাদক গ্রহণের কারণে জ্যাকের মৃত্যু হয়েছে। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে মৃত্যুর কারণ নিয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
জ্যাকের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রাগবি অঙ্গনের সাবেক ও বর্তমান খেলোয়াড়সহ অনেকেই পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। এক বিবৃতিতে ওয়াহ পরিবার বলেছে, প্রিয় সন্তানকে হারানোর বেদনা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।
পরিবারের বিবৃতিতে বলা হয়, “প্রিয় ছেলে জ্যাককে হারানোর গভীর বেদনা আমরা অনুভব করছি। এই শোকের কথা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়।”
“জ্যাক ছিল প্রাণবন্ত ও হাসিখুশি এক তরুণ। তাঁর উষ্ণতা ও প্রাণবন্ত ব্যক্তিত্ব যাঁরা তাঁকে চিনতেন, তাঁদের সবার হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। তিনি চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবেন।”
পরিবার আরও বলেছে, “এই আকস্মিক মৃত্যুর ধাক্কা সামলে ওঠার সময়ে আমরা তাঁর পরিবার ও বন্ধুদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার প্রতি সম্মান জানানোর অনুরোধ করছি। আমরা ভালোবাসা ও সমর্থনের যে বার্তা পেয়েছি, তার জন্য গভীরভাবে কৃতজ্ঞ।”
ফিল ওয়াহর সাবেক স্ত্রী মিশেলের ঘরে জন্ম জ্যাকের। তাঁদের আরেক ছেলে চার্লি। বড় ভাইয়ের মৃত্যুতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন চার্লি। ভাইয়ের সঙ্গে নিজের একটি ছবি পোস্ট করে তিনি লেখেন, “আমার বড় ভাই, তোমাকে আমি যতটা ভালোবাসি, তা কোনো শব্দ দিয়ে প্রকাশ করা সম্ভব নয়।”
চার্লি আরও লেখেন, “তুমি আমাকে আজকের মানুষ হয়ে উঠতে সাহায্য করেছ। যখনই প্রয়োজন হয়েছে, তুমি আমার পাশে থেকেছ, আমাকে দেখাশোনা করেছ এবং রক্ষা করেছ।”
“তুমি আমাকে যা কিছু শিখিয়েছ, তা আমি সারাজীবন সঙ্গে নিয়ে চলব। তুমি যেখানেই থাকো, সেখান থেকে আমাকে দেখবে এবং আমার জন্য গর্বিত হবে বলে আমি জানি। আশা করি, আমি তোমাকে গর্বিত করতে পারব। শান্তিতে থেকো জ্যাক। তোমাকে সবসময়, চিরকাল ভালোবাসব।”

চার্লি ওয়াহ তাঁর ভাইকে স্মরণ করে আবেগঘন শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। | ছবি: ইনস্টাগ্রাম
চার্লির ওই পোস্টের নিচে বন্ধুবান্ধব ও সাধারণ মানুষ শোক প্রকাশ করে তাঁকে সমবেদনা জানিয়েছেন।
জন্মের পর দীর্ঘ সময় হাসপাতালে
জ্যাকের জন্মও ছিল বেশ কঠিন পরিস্থিতিতে। নির্ধারিত সময়ের ১৩ সপ্তাহ আগে জন্ম নেওয়ায় তাঁকে জীবনের প্রথম তিন মাসের বড় একটি সময় নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) কাটাতে হয়েছিল।
২০১৯ সালের এক সাক্ষাৎকারে সেই কঠিন সময়ের কথা জানিয়েছিলেন ফিল ওয়াহ। 2GB রেডিওকে তিনি বলেছিলেন, জন্মের সময় জ্যাকের ওজন ছিল মাত্র ১ হাজার ৪০ গ্রাম। জন্মের পর ওজন কমে তা ৯৭০ গ্রামে নেমে গিয়েছিল।
ওয়াহ বলেছিলেন, “আপনি যখন একটি সুস্থ নবজাতকের প্রত্যাশা করছেন, তখন ১৩ সপ্তাহ আগে এবং এত কম ওজন নিয়ে সন্তানের জন্ম হওয়া যেকোনো বাবা-মায়ের জন্যই অত্যন্ত ভীতিকর।”
তিনি আরও জানান, জ্যাককে প্রায় ১২ সপ্তাহ নিবিড় পরিচর্যায় রাখতে হয়েছিল। তখন সন্তানের স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিণতি কী হতে পারে, তা নিয়ে পরিবারকে অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকতে হয়েছিল।
সূত্র-নিউজ.কম.এইউ