অস্ট্রেলিয়া

শুকিয়ে আসছে অস্ট্রেলিয়ার গুরুত্বপূর্ণ নদী, খাদ্য উৎপাদন নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

  • 9:15 pm - September 28, 2026
  • পঠিত হয়েছে:৭১ বার
অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ মারে নদী। ছবি: আইস্টক

মারে নদীর পানির ওপর নির্ভর করে অস্ট্রেলিয়ার প্রায় ৪০ শতাংশ খাদ্য উৎপাদন। সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে নদীর প্রবাহ কিছুটা বাড়লেও দীর্ঘমেয়াদে পানির স্তর কমে যাওয়ার প্রবণতা নিয়ে সতর্ক করেছেন বিজ্ঞানীরা। তাঁদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তন, অতিরিক্ত পানি উত্তোলন ও নদী ব্যবস্থাপনার চাপ একসঙ্গে মিলে হুমকিতে ফেলছে কৃষি, জনবসতি ও বিভিন্ন শিল্পকে।

অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নদীগুলোর একটি মারে নদী। দেশটির খাদ্য উৎপাদন, শহর ও জনপদের পানির সরবরাহ, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় নদীটির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তবে দীর্ঘমেয়াদে নদীটির পানির স্তর কমে যাওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে।

নিউ সাউথ ওয়েলস, ভিক্টোরিয়া ও সাউথ অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে মারে নদীর পানি ভাগাভাগি করে ব্যবহার করা হয়। নদীর শুষ্ক ও অর্ধশুষ্ক অঞ্চলগুলো থেকেই অস্ট্রেলিয়ার প্রায় ৪০ শতাংশ খাদ্য উৎপাদিত হয়। ফলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও পানির প্রাপ্যতায় বড় ধরনের পরিবর্তন হলে তার প্রভাব পুরো দেশের খাদ্যব্যবস্থায় পড়তে পারে।

সম্প্রতি বৃষ্টিপাতের কারণে মারে নদীতে পানির প্রবাহ বেড়েছে। তবে গবেষকদের মতে, এতে দীর্ঘমেয়াদি সংকট কেটে যায়নি।

ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি সিডনির (UTS) গবেষক ড. মিল্টন স্পিয়ার বলেন, সাম্প্রতিক বৃষ্টির পর মারে নদীকে প্রবাহমান ও স্বাভাবিক মনে হলেও দীর্ঘমেয়াদি চিত্রটি উদ্বেগজনক।

তিনি বলেন, গবেষণায় দেখা গেছে, নদীর নিচের দিকে পানি পৌঁছানোর আগেই আপার মারে অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব পড়ছে এবং পানির স্তর কমছে। এমনকি কিছু সময়ে নদীর পানির উচ্চতা ছয় মিটারের প্রয়োজনীয় ন্যূনতম স্তরেও পৌঁছাচ্ছে না, যে স্তরের নিচে গেলে ওয়াইকারি পর্যন্ত পর্যাপ্ত পানি প্রবাহিত হওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

স্পিয়ারের মতে, বিষয়টি শুধু নদী ব্যবস্থাপনার সমস্যা নয়। আপার মারে অঞ্চলে, যেখানে পানি উত্তোলন খুবই সীমিত বা নেই, সেখানেও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

তিন দশক ধরে কমছে পানির স্তর

UTS-এর আরেক গবেষক অধ্যাপক ল্যান্স লেসলি বলেন, মারে নদীর নিম্নাঞ্চল বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ। এই অংশে জলবায়ু পরিবর্তনের পাশাপাশি পানি উত্তোলন এবং মানুষের নদী ব্যবস্থাপনার চাপও রয়েছে।

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বৃষ্টিপাত ও পানির প্রবাহ স্বস্তি দিলেও তিন দশকের বেশি সময় ধরে নদীর পানির স্তর কমে যাওয়ার যে প্রবণতা তৈরি হয়েছে, তা এতে পাল্টে যায়নি।

গবেষকদের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ১৯৯০-এর দশকের শুরু থেকে আপার মারে নদীর পানির স্তরে উল্লেখযোগ্য পতন ঘটেছে। কম বৃষ্টিপাতের সঙ্গে এই প্রবণতার সামঞ্জস্য রয়েছে বলে জানিয়েছেন তারা।

লেসলির মতে, মারে নদী ব্যবস্থায় শুষ্ক বছরগুলোকে এখন আর বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে নদীটির পানির স্বাভাবিক ভিত্তিই বদলে যাচ্ছে।

বাড়ছে পানির চাহিদা

একদিকে নদীতে পানির প্রাপ্যতা কমছে, অন্যদিকে জনসংখ্যা বৃদ্ধি, সেচের চাহিদা এবং পানি-নির্ভর বিভিন্ন স্থাপনার কারণে ভবিষ্যতে পানির চাহিদা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

গবেষকদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইভিত্তিক ডেটা সেন্টারের মতো পানি-নির্ভর স্থাপনাও ভবিষ্যতে পানির ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করতে পারে।

স্পিয়ার বলেন, এটি শুধু পরিবেশগত সংকট নয়; মারে নদীর ওপর নির্ভরশীল শহর, কৃষক, আদিবাসী জনগোষ্ঠী বা Traditional Owners এবং বিভিন্ন শিল্পের জন্য এটি পানি নিরাপত্তারও প্রশ্ন।

পানি ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তনের আহ্বান

মারে নদীর ওপর বাড়তে থাকা চাপের মধ্যে ফেডারেল, রাজ্য ও স্থানীয় সরকারগুলোর ওপর পর্যাপ্ত পরিবেশগত প্রবাহ নিশ্চিত করার চাপও বাড়ছে। একই সঙ্গে মানুষের পানির চাহিদা পূরণ করেও নদীর স্বাভাবিক পরিবেশগত ভারসাম্য কীভাবে বজায় রাখা যায়, সেটিই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।

মারে নদীর পানির স্তর কমায় খাদ্যনিরাপত্তায় বাড়ছে ঝুঁকি। ছবি: সংগৃহীত

অধ্যাপক লেসলি বলেন, মারে-ডার্লিং বেসিন প্ল্যানের আসন্ন পর্যালোচনা জলবায়ু পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অস্ট্রেলিয়ার পানি নীতিকে নতুন করে সাজানোর গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করতে পারে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমান পানি ব্যবস্থাপনা কাঠামো মারে নদীর স্বাস্থ্য ধরে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশগত পানিপ্রবাহ নিশ্চিত করতে পারছে না।

নদীর পরিবেশগত স্বাস্থ্য রক্ষা এবং একই সঙ্গে ক্রমবর্ধমান পানির চাহিদা পূরণ করতে হলে আরও কার্যকর ও ব্যয়-সাশ্রয়ী পানি ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি প্রয়োজন বলেও মনে করছেন গবেষকেরা।

খাদ্য উৎপাদনের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ মারে নদী?

মারে নদী অস্ট্রেলিয়ার কৃষি ও খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান ভিত্তি। নদীর পানি সেচ, জনপদের পানি সরবরাহ এবং বিভিন্ন শিল্পে ব্যবহৃত হয়। ফলে দীর্ঘমেয়াদে নদীর পানির স্তর কমতে থাকলে শুধু পরিবেশ নয়, কৃষি উৎপাদন ও পানি নিরাপত্তার ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে।

সূত্র: নাইন.কম.এইউ

এই শাখার আরও খবর

রামু হামলার ১৪ বছর, বিচার না হওয়ায় ক্ষোভ বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের

কক্সবাজারের রামুতে বৌদ্ধ বিহার ও বসতিতে ভয়াবহ হামলার ১৪ বছর পূর্ণ হলেও এখনো শেষ হয়নি বিচারপ্রক্রিয়া। দীর্ঘ সময়েও মামলাগুলোর নিষ্পত্তি না হওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশা…

শেষ মুহূর্তের গোলে বেলজিয়ামকে হারিয়ে শীর্ষে ফ্রান্স

বেলজিয়ামের বিপক্ষে ম্যাচজুড়ে দাপট দেখিয়েও গোলের দেখা পাচ্ছিল না ফ্রান্স। একের পর এক আক্রমণ, কয়েকটি সহজ সুযোগ এবং ক্রসবারে বল লাগার পরও কাঙ্ক্ষিত গোলটি আসছিল…

মধ্যরাতেও বিক্ষোভে উত্তপ্ত চুয়েট

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) উপাচার্য পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর চাপ, ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়ার…

বাংলাদেশি পাটপণ্যে নতুন শুল্ক আরোপের ঘোষণা ভারতের

বাংলাদেশ থেকে আমদানি করা পাটপণ্যের ওপর নতুন করে অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক আরোপ করেছে ভারত। দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয়ের ২৪ সেপ্টেম্বরের এক প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত ৩৬টি বাংলাদেশি পাটপণ্য…

জামায়াতের উত্থান দেশকে ধর্মযুদ্ধের দিকে নিয়ে যেতে পারে: নুরুল হক নূর

জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক উত্থান বাংলাদেশকে ধর্মযুদ্ধের দিকে নিয়ে যেতে পারে এবং দেশের অস্তিত্বকে সংকটের মুখে ফেলতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান…

নিয়ন্ত্রণহীন এআই বিস্তার বাংলাদেশের জন্য ডেকে আনতে পারে বিপর্যয়

বাংলাদেশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির ব্যবহার দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। সম্প্রতি দেশের দুটি টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠান এমন সেবা চালু করেছে, যার মাধ্যমে মানুষ সহজেই একাধিক এআই…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au