রামু হামলার ১৪ বছর, বিচার না হওয়ায় ক্ষোভ বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের
কক্সবাজারের রামুতে বৌদ্ধ বিহার ও বসতিতে ভয়াবহ হামলার ১৪ বছর পূর্ণ হলেও এখনো শেষ হয়নি বিচারপ্রক্রিয়া। দীর্ঘ সময়েও মামলাগুলোর নিষ্পত্তি না হওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশা…
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) উপাচার্য পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর চাপ, ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগের প্রতিবাদে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য পদে পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছেন তারা।
রাত সাড়ে ১১টার দিকে চুয়েটের বিভিন্ন আবাসিক হল থেকে শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে স্লোগান দিতে দিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা চত্বরে জড়ো হতে থাকেন। পরে রাত ১২টার দিকে সেখান থেকে মূল বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক এলাকার গোলচত্বর প্রদক্ষিণ করে আবার স্বাধীনতা চত্বরে এসে শেষ হয়।
মিছিলে শিক্ষার্থীরা ‘প্রত্যাখ্যান, প্রত্যাখ্যান, অনলাইন ভিসি প্রত্যাখ্যান’, ‘মোদের দাবি একটাই, সায়েম স্যারকে ভিসি চাই’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। আন্দোলনকারীরা বলেন, হুমকি বা চাপ সৃষ্টি করে তাঁদের কর্মসূচি বন্ধ করা যাবে না।
যন্ত্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সাকিব হাসান বলেন, অনেকে মনে করতে পারেন আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ কমে যাচ্ছে। মধ্যরাতের মিছিলে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি সেই ধারণার জবাব বলে তিনি মন্তব্য করেন।
একই বর্ষের পেট্রোলিয়াম ও মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী আসাদুল্লাহ হিল গালিব অভিযোগ করেন, চলমান আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মহল থেকে শিক্ষার্থীদের হুমকি ও ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। এমনকি পরিবারের সদস্যদের ক্ষতি করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন। তাঁর ভাষ্য, এসব হুমকি দিয়ে আন্দোলন থামানো যাবে না।
আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবির মধ্যে রয়েছে চুয়েটের নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে নিয়োগের প্রজ্ঞাপন বাতিল এবং অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহাল করা।
এর আগে ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে চুয়েটের উপাচার্য পদ থেকে সরিয়ে অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করেন। ২৭ জুলাই সায়েমকে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল এবং ২৮ জুলাই তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। অর্থাৎ দায়িত্ব নেওয়ার প্রায় ৫৬ দিনের মাথায় তাঁকে সরিয়ে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়।
এরপর থেকে শিক্ষার্থীরা শাটডাউন, বিক্ষোভ মিছিল, মশাল মিছিল ও বিভিন্ন প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে আসছেন। শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একটি অংশও আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি জানিয়েছে। ফলে চুয়েটের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম চালু রাখা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এদিকে, নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম ২৫ সেপ্টেম্বর আন্দোলনের মধ্যেই অনলাইনে চুয়েটে যোগদান করেন বলে যুগান্তরের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর নিয়োগের বিরোধিতা করে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au