রামু হামলার ১৪ বছর, বিচার না হওয়ায় ক্ষোভ বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের
কক্সবাজারের রামুতে বৌদ্ধ বিহার ও বসতিতে ভয়াবহ হামলার ১৪ বছর পূর্ণ হলেও এখনো শেষ হয়নি বিচারপ্রক্রিয়া। দীর্ঘ সময়েও মামলাগুলোর নিষ্পত্তি না হওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশা…
ভারতে বিদেশি পর্যটকের আগমন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। দেশটিতে ২০২৬ সালের আগস্টে প্রায় ৬ লাখ ৯১ হাজার বিদেশি পর্যটক (Foreign Tourist Arrivals বা FTA) প্রবেশ করেছেন। গত বছরের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল প্রায় ৬ লাখ ২৫ হাজার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে বিদেশি পর্যটক আগমন বেড়েছে ১০ দশমিক ৬ শতাংশ।
ভারতের পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক পরিসংখ্যানের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।
আগস্টে ভারতের বিদেশি পর্যটক আগমনের প্রবৃদ্ধিতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে প্রতিবেশী বাংলাদেশ। মাসটিতে বাংলাদেশ থেকে ৭৪ হাজারের বেশি পর্যটক ভারতে গেছেন, যা ২০২৫ সালের আগস্টের তুলনায় প্রায় ৮০ শতাংশ বেশি।
চীন থেকেও পর্যটক আগমনে বড় ধরনের বৃদ্ধি দেখা গেছে। আগস্টে চীন থেকে ভারতে আসা পর্যটকের সংখ্যা ৯ হাজার ছাড়িয়েছে। গত বছরের একই মাসের তুলনায় এই সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি।
তবে পশ্চিমা দেশগুলোর ঐতিহ্যবাহী বাজার থেকে পর্যটক বৃদ্ধির হার তুলনামূলকভাবে কম। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য থেকে ভারতে পর্যটক আগমন বছরে প্রায় ৩ শতাংশ করে বেড়েছে।
অন্যদিকে কানাডা, জার্মানি, মালয়েশিয়া ও শ্রীলঙ্কা থেকে পর্যটক আগমনে তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এসব দেশ থেকে পর্যটক সংখ্যা প্রায় ১০ থেকে ১৫ শতাংশের মধ্যে বেড়েছে।
বাংলাদেশ ও চীন থেকে বড় প্রবৃদ্ধি
ভারতের পর্যটন খাতে আগস্টের পরিসংখ্যানে বাংলাদেশ ও চীন থেকে পর্যটক আগমনের প্রবৃদ্ধি বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। কারণ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উভয় দেশের পর্যটন বাজার থেকেই ভারতে পর্যটক আসার ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের বাধা ও বিঘ্ন তৈরি হয়েছিল।
এবারের পরিসংখ্যান ইঙ্গিত দিচ্ছে, ভারতের বিদেশি পর্যটন খাতের পুনরুদ্ধার শুধু যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ প্রচলিত পশ্চিমা বাজারনির্ভর নয়। বাংলাদেশ ও চীনের মতো এশীয় বাজার থেকেও পর্যটক আগমন বাড়ছে।
পর্যটন নীতি নিয়ে কাজ করা থিংক ট্যাংক অতিথি ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী হেমন্ত যোশি এনডিটিভিকে বলেন, এই পরিসংখ্যান উৎসাহব্যঞ্জক। বিশেষ করে বাংলাদেশ ও চীনের মতো বাজারে পর্যটক আগমন পুনরুদ্ধার হওয়ায় ভারতের আন্তর্জাতিক পর্যটন বাজারের পরিধি আরও বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।
তবে শুধু এক মাসের তথ্যের ভিত্তিতে ভারতের বিদেশি পর্যটন বাজারে স্থায়ী পরিবর্তন হয়েছে বলে ধরে নেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করেছেন তিনি।
হেমন্ত যোশির ভাষায়, এক মাসের পরিসংখ্যানকে কাঠামোগত পরিবর্তনের প্রমাণ হিসেবে দেখার জন্য সময়টা খুব কম। পর্যটন একটি মৌসুমি খাত হওয়ায় বিভিন্ন দেশ থেকে পর্যটকদের ভ্রমণের ধরন ও সময়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য থাকতে পারে।
তার মতে, আগস্টে বাংলাদেশ ও চীন থেকে পর্যটক বৃদ্ধির পেছনে সময়ের পার্থক্য এবং গত বছরের তুলনামূলক কম সংখ্যার কারণে তৈরি হওয়া ‘বেস ইফেক্ট’ও ভূমিকা রাখতে পারে। কয়েক মাসের ধারাবাহিক তথ্য বিশ্লেষণ করলেই ভারতের বিদেশি পর্যটন বাজারের প্রকৃত প্রবণতা আরও পরিষ্কার হবে।
বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা বাড়া ভারতের পর্যটন খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও শুধু আগমনের সংখ্যা দিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যটনের অর্থনৈতিক মূল্যায়ন করা যথেষ্ট নয় বলে মনে করেন হেমন্ত যোশি।
তার মতে, একজন বিদেশি পর্যটক ভারতে কত দিন অবস্থান করছেন, কত অর্থ ব্যয় করছেন এবং দেশের কোন কোন এলাকায় সেই অর্থ ব্যয় করছেন, সেগুলোও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
কারণ কোনো দেশে পর্যটক সংখ্যা বাড়লেও তারা যদি অল্প সময় অবস্থান করেন এবং সীমিত কয়েকটি পর্যটনকেন্দ্রেই অর্থ ব্যয় করেন, তাহলে সেই প্রবৃদ্ধির অর্থনৈতিক সুফল দেশের বিস্তৃত পর্যটন খাতে ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ কম থাকে।
ভারতের জন্য বড় সুযোগ হবে বিদেশি পর্যটকদের ক্রমবর্ধমান আগ্রহকে দীর্ঘমেয়াদি ও একাধিক গন্তব্যভিত্তিক ভ্রমণে পরিণত করা। এতে দিল্লি, মুম্বাই বা অন্যান্য প্রচলিত পর্যটনকেন্দ্রের বাইরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলেও পর্যটন ব্যয় ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হবে।
হেমন্ত যোশি বলেন, আন্তর্জাতিক পর্যটকদের বাড়তে থাকা চাহিদাকে দীর্ঘ সময়ের এবং একাধিক গন্তব্যের ভ্রমণে রূপান্তর করাই ভারতের বড় সুযোগ। এর মাধ্যমে দেশের প্রচলিত পর্যটন প্রবেশদ্বারগুলোর বাইরে বিভিন্ন অঞ্চলেও পর্যটনের অর্থনৈতিক সুফল পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।
ভারতের পর্যটন মন্ত্রণালয়ের আগস্টের প্রাথমিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সামগ্রিকভাবে বিদেশি পর্যটক আগমনে ১০ দশমিক ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হলেও দেশভেদে প্রবৃদ্ধির চিত্রে বড় পার্থক্য রয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ ও চীন থেকে পর্যটক আগমনের দ্রুত বৃদ্ধি ভারতের বিদেশি পর্যটন বাজারে এশীয় দেশগুলোর গুরুত্ব বাড়ার একটি সম্ভাব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে এই প্রবণতা স্থায়ী কি না, তা বোঝার জন্য আগামী কয়েক মাসের তথ্য বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।
সূত্রঃ এনডিটিভি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au