জম্মু-কাশ্মীরে সহকর্মীর গুলিতে সিআইএসএফের ৪ সদস্য নিহত
ভারতের জম্মু-কাশ্মীরের কাঠুয়া জেলায় সহকর্মীদের লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনায় কেন্দ্রীয় শিল্প নিরাপত্তা বাহিনীর (সিআইএসএফ) চার সদস্য নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বাহিনীর একজন কর্মকর্তাও রয়েছেন।…
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে আবারও আলোচনা শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর বৈঠকের পর সফরটি নিয়ে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্কের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
নভেম্বরে তারেক রহমান ভারত সফরে যেতে পারেন কি না, এ নিয়ে চলমান গুঞ্জন সম্পর্কে জানতে চাইলে হুমায়ুন কবির বলেন, তিনি এ বিষয়ে গুঞ্জনের ভিত্তিতে মন্তব্য করতে চান না। তবে ভারতের হাইকমিশনারের সঙ্গে সফর নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং নিকট ভবিষ্যতে ইতিবাচক ফল আসতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেছেন, তারেক রহমানের ভারত সফরের আমন্ত্রণ খোলা রয়েছে। সফরের জন্য তাড়াহুড়োর প্রয়োজন নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। দুই দেশের দুই প্রধানমন্ত্রীর সুবিধাজনক সময়ে সফরটি হবে বলে জানান ভারতীয় হাইকমিশনার।
তবে কূটনৈতিক পরিভাষায় এখনো এটিকে ‘সম্ভাব্য সফর’ হিসেবে দেখা হলেও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক তৎপরতায় ধারণা পাওয়া যাচ্ছে, সফরকে সামনে রেখে বাংলাদেশ প্রস্তুতিমূলক কাজ শুরু করেছে। বিশেষ করে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের আলোচ্য বিভিন্ন ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থান কী হবে, তা নির্ধারণের কাজ চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে।
সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সী ফয়েজ আহমেদ মনে করেন, প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ভারত সফরের অনেক আগেই কোন কোন ইস্যুকে বাংলাদেশ গুরুত্ব দেবে এবং সেসব বিষয়ে দেশের অবস্থান কী হবে, তা নির্ধারণ করে প্রস্তুতি চূড়ান্ত করা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এখন সেই কাজই করছেন বলে ধারণা তার।
তিনি বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক যে সিদ্ধান্তহীনতার মধ্যে পড়েছে, সেখান থেকে উত্তরণই সফর প্রস্তুতির অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।
মঙ্গলবার সকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। পরে সাংবাদিকদের ভারতীয় হাইকমিশনার জানান, প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ায় হুমায়ুন কবিরকে অভিনন্দন জানাতেই মূলত এ সৌজন্য সাক্ষাৎ।
বৈঠকের বিষয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক আরও অনুকূল পর্যায়ে পৌঁছানোর পর প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের তারিখ ও সময় নিয়ে আলোচনা হবে।
তিনি বলেন, বৈঠক ফলপ্রসূ হয়েছে। দুই দেশের সামনে কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে এবং আলোচনার মাধ্যমে সেগুলো কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা চলছে।
তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়েও আলোচনা হয়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সফর নিয়ে কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে, যেগুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।
নভেম্বরে সফর হতে পারে বলে যে গুঞ্জন রয়েছে, সে বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে হুমায়ুন কবির বলেন, গুঞ্জন নিয়ে তিনি কথা বলতে চান না। তিনি বাস্তবতার ভিত্তিতে কথা বলতে চান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে ওই দিনের বৈঠক ভালো ও ফলপ্রসূ হয়েছে এবং আন্তরিক পরিবেশে আলোচনা হয়েছে।
ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীও বৈঠককে ইতিবাচক হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, কোনো নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়নি, তবে আলোচনা খুব ভালো হয়েছে এবং দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে সবসময় ইতিবাচকতার জায়গা রয়েছে।
তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভারতের পক্ষ থেকে আমন্ত্রণ খোলা রয়েছে। তবে সফর নিয়ে তাড়াহুড়োর প্রয়োজন নেই। সময় হলে সফর হবে এবং দুই দেশের দুই প্রধানমন্ত্রীর সুবিধাজনক সময়েই এটি অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান তিনি।
ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজেও বৈঠকের বিষয়ে একটি পোস্ট দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়, হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ায় তাকে অভিনন্দন জানান হাইকমিশনার। বৈঠকে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে অব্যাহত সহযোগিতা এবং দুই দেশের জনগণের পারস্পরিক কল্যাণে ইতিবাচক ফল অর্জনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারত সফরে যাবেন, এমন সম্ভাবনা সামনে রেখেই বাংলাদেশ প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। বিশেষ করে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় থাকা তিস্তার পানি বণ্টন, গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি নবায়নসহ বিভিন্ন ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থান নির্ধারণের কাজ চলছে।
সফরটি হলে এসব দ্বিপক্ষীয় ইস্যু আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।
এর বাইরে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে সামনে আসতে পারে ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইস্যু। তবে এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান রাজনৈতিক নেতৃত্বই চূড়ান্ত করবে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
এর আগে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরির সঙ্গে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ এবং শরীফ ওসমান হাদী হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্তদের বাংলাদেশে হস্তান্তরের বিষয়টি সামনে আনা হয়েছিল।
সাবেক কূটনীতিক মুন্সী ফয়েজ আহমেদের মতে, অভ্যন্তরীণ জনমতের বিষয়টিও ভারত সফর নিয়ে সরকারের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে। তার মতে, গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোতে বাংলাদেশের অবস্থান স্পষ্ট করে তা সফরে তুলে ধরা যেতে পারে।
তিনি বলেন, ভূ-রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে কার্যকর ও সহজ সম্পর্ক থাকা প্রয়োজন। দুই দেশের মধ্যে টানাপড়েন থাকলে উভয় দেশই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে তিনি মনে করেন।
তার মতে, বাংলাদেশ কোন বিষয়গুলো চায় তা স্পষ্ট থাকা প্রয়োজন। সব দাবি পূরণ নাও হতে পারে, কিন্তু দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে আলোচনা ও পারস্পরিক যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ।
এর আগে আগস্টেও তারেক রহমানের ভারত সফরের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। তবে গত ১৬ আগস্ট বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন।
সেসময় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এ কে এম শহীদুল করিম বলেছিলেন, দ্বিপক্ষীয় প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় শেখ হাসিনা ও অন্যান্য পলাতক অপরাধীকে দ্রুত ফেরত পাঠানো এবং শরীফ ওসমান হাদী হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্তদের বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তরের জন্য ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। বাংলাদেশ এ বিষয়ে ভারতের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।
তবে একই সময়ে তিনি জানিয়েছিলেন, তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে দুই দেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে পরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে আলোচনা রয়েছে। তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ঢাকায় আসা ভারতের লোকসভার স্পিকার দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পক্ষ থেকে তাকে ভারত সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান।
এ ছাড়া চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনেও তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সে সময় জানিয়েছিল, ওই আমন্ত্রণ তারেক রহমানকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নয়, বরং বিমসটেকের বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে দেওয়া হয়েছিল।
তবে তিনি সেই আমন্ত্রণে দিল্লি সফর করেননি।
এখন মঙ্গলবারের বৈঠকের পর আবারও তারেক রহমানের ভারত সফরের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। নভেম্বরে সফর হতে পারে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তারিখ ঘোষণা হয়নি। তবে বাংলাদেশ ও ভারতের কর্মকর্তাদের বক্তব্যে সফরের সম্ভাবনা এবং তা নিয়ে প্রস্তুতিমূলক আলোচনা চলার বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর সুবিধাজনক সময়েই সফরের তারিখ চূড়ান্ত হবে বলে ভারতীয় হাইকমিশনার জানিয়েছেন।
সূত্রঃ বিবিসি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au