জম্মু-কাশ্মীরে সহকর্মীর গুলিতে সিআইএসএফের ৪ সদস্য নিহত
ভারতের জম্মু-কাশ্মীরের কাঠুয়া জেলায় সহকর্মীদের লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনায় কেন্দ্রীয় শিল্প নিরাপত্তা বাহিনীর (সিআইএসএফ) চার সদস্য নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বাহিনীর একজন কর্মকর্তাও রয়েছেন।…
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ ‘খুব শিগগিরই’ শেষ হবে বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এ সংঘাতে জয়ী হবে এবং যুদ্ধ শেষ হলে জ্বালানি তেলের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।
ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পর মঙ্গলবার বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম কমেছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ দশমিক ৮৬ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ১০৩ দশমিক ৩২ ডলারে নেমেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআইয়ের দাম কমেছে ২ দশমিক ১১ শতাংশ, ব্যারেলপ্রতি ৯০ দশমিক ৬৫ ডলারে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় তেলের দাম এখনো যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।
ওয়াশিংটন ডিসিতে এআই-চালিত একটি সরকারি প্ল্যাটফর্মের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ট্রাম্প ইরানের পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন। তিনি দাবি করেন, ইরান অত্যন্ত কঠিন অবস্থার মধ্যে রয়েছে এবং দেশটি কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে পারবে না।
ইরান যুদ্ধের পরিণতি সম্পর্কে ট্রাম্প বলেন, সংঘাতটি ‘খুব শিগগিরই’ শেষ হতে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র পাবে না এবং যুদ্ধ শেষ হলে তেলের দামও কমে যাবে।
ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যেভাবেই হোক জয়ী হবে এবং পরিস্থিতি দ্রুত শেষ হবে। তবে যুদ্ধ ঠিক কবে বা কী প্রক্রিয়ায় শেষ হতে পারে, সে বিষয়ে তিনি কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা দেননি। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প একই সময়ে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে সংঘাত অবসানের বিষয়ে যোগাযোগ চলার কথাও জানিয়েছেন।
ট্রাম্পের বক্তব্য এমন সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত যুদ্ধ শেষ করার বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি।
ইরান সম্প্রতি হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং আটকে থাকা অর্থ ছাড়সহ বিভিন্ন শর্ত সামনে রেখে সংঘাত অবসানের প্রস্তাব দিয়েছে। তবে প্রস্তাবটির বিষয়ে ওয়াশিংটনের অবস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
২৯ সেপ্টেম্বর রয়টার্স জানায়, ট্রাম্প ইরানকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার বা আটকে থাকা অর্থ ছাড়ের কোনো প্রস্তাব দেওয়ার কথা অস্বীকার করেছেন। অন্যদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, তেহরান আলোচনায় আগ্রহী হলেও চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচিও কূটনৈতিক সমাধানের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন।
আল জাজিরার ২৯ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি নিউইয়র্কে কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলার বিষয়ে ইরানের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার পর কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা তেহরানের বার্তা ওয়াশিংটনের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কথা রয়েছে। একই প্রতিবেদনে এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সমঝোতা না হলে যুদ্ধ অবসানের কোনো চুক্তি হবে না।
যুদ্ধ দ্রুত শেষ হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্যের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য থেকে অপরিশোধিত তেল সরবরাহ বাড়ার খবরও মঙ্গলবারের বাজারে প্রভাব ফেলেছে।
রয়টার্স জানিয়েছে, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে তেল রপ্তানি বাড়ায় সেপ্টেম্বর মাসে মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান উৎপাদকদের সম্মিলিত অপরিশোধিত তেল রপ্তানি দৈনিক ১২ দশমিক ৮ মিলিয়ন ব্যারেলে পৌঁছেছে। যুদ্ধ শুরুর পর এটি সর্বোচ্চ মাত্রা। তবে ফেব্রুয়ারির দৈনিক ১৮ দশমিক ৮ মিলিয়ন ব্যারেলের তুলনায় তা এখনো অনেক কম।
হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতিও তেলের বাজারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে রয়েছে। যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হতো। সংঘাতের পর সেখানে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বাজারে অনিশ্চয়তা থাকার আশঙ্কা রয়েছে।
এর আগে ইরানের হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার প্রস্তাবের বিষয়ে ট্রাম্পের অবস্থান নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। ২৭ সেপ্টেম্বর রয়টার্স জানিয়েছিল, ইরানের প্রস্তাবের পর তেলের দাম একপর্যায়ে বেড়ে গেলেও পরে মধ্যস্থতার মাধ্যমে আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় বাজার কিছুটা স্থিতিশীল হয়।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে যুদ্ধ দ্রুত শেষ হওয়ার আশাবাদ প্রকাশ করা হলেও ইরানের কর্মকর্তাদের বক্তব্যে এখনো কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত রয়েছে।
ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিটির চেয়ারম্যান এব্রাহিম আজিজি এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতির সমালোচনা করে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে মার্কিন বাহিনীকে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। আল জাজিরার প্রতিবেদনে তার বক্তব্য অনুযায়ী, উপসাগরের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা ইরানকেন্দ্রিকভাবেই পরিচালিত হওয়া উচিত বলে তিনি দাবি করেছেন।
এদিকে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে যোগাযোগ চললেও দুই পক্ষের অবস্থানের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং অর্থ ছাড়ের বিষয়গুলো সম্ভাব্য সমঝোতার প্রধান প্রশ্ন হয়ে রয়েছে।
ট্রাম্পের বক্তব্যে যুদ্ধ দ্রুত শেষ হওয়ার সম্ভাবনার কথা বলা হলেও মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি এবং কূটনৈতিক আলোচনায় এখনো চূড়ান্ত সমঝোতার ঘোষণা আসেনি। ২৯ সেপ্টেম্বর আল জাজিরা জানিয়েছে, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যোগাযোগ অব্যাহত থাকলেও পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে মতপার্থক্য সমাধানের পথে বড় বাধা হয়ে রয়েছে।
ফলে ট্রাম্পের ‘খুব শিগগিরই’ যুদ্ধ শেষ হওয়ার বক্তব্যকে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক আশাবাদ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। যুদ্ধের প্রকৃত সমাপ্তি নির্ভর করবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান পরোক্ষ আলোচনা, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সমঝোতা এবং হরমুজ প্রণালিসহ আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে দুই পক্ষের অবস্থানের ওপর।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au