মরক্কোর প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হলেন ফাতিমা ইজ্জাহরা এল মানসুরি
মরক্কোর প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ফাতিমা ইজ্জাহরা এল মানসুরি। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দেশটির রাজা ষষ্ঠ মোহাম্মদ তাকে সরকারপ্রধান হিসেবে নিয়োগ দেন। একই সঙ্গে…
দুই দশকেরও বেশি সময় পর ইরাক থেকে পুরোপুরি বিদায় নিয়েছে মার্কিন সেনাবাহিনী। ২০০৩ সালে সাদ্দাম হোসেনের সরকার উৎখাতের লক্ষ্যে সামরিক অভিযান শুরুর পর দীর্ঘ ২৩ বছর দেশটিতে অবস্থানের অবসান ঘটল বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর।
ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক জোটের সামরিক মিশন শেষ হওয়ার পাশাপাশি দেশটির শেষ মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো থেকেও সেনা প্রত্যাহার সম্পন্ন হয়েছে। ২০২৪ সালে ওয়াশিংটন ও বাগদাদ এ প্রত্যাহারের সময়সূচিতে সম্মত হয়েছিল। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের সময়ে নেওয়া সেই সিদ্ধান্ত পরবর্তী সময়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের অধীনে বাস্তবায়িত হলো।
ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি গত ১২ আগস্ট জানিয়েছিলেন, ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আন্তর্জাতিক জোটের সামরিক মিশন শেষ করে বিদেশি সেনাদের প্রত্যাহার সম্পন্ন করা হবে। তিনি ওই সময়সীমাকে ‘চূড়ান্ত’ বলে উল্লেখ করেন। ১ অক্টোবর থেকে ইরাকে নতুন পর্যায়ের যাত্রা শুরু হবে বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।
মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পর ইরাক ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতার নতুন কাঠামোর দিকে যাবে বলে দুই দেশ জানিয়েছে। একই সঙ্গে ইরাকের সার্বভৌমত্ব ও পারস্পরিক স্বার্থের প্রতি সম্মান রেখে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথা বলা হয়েছে।
২০০৩ সালের ১৯ মার্চ ইরাকে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বাহিনী। লক্ষ্য ছিল তৎকালীন প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনের সরকারকে উৎখাত করা। অভিযানের প্রায় নয় মাস পর সাদ্দাম হোসেন গ্রেপ্তার হন। পরে বিচার শেষে ২০০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
তবে সাদ্দাম সরকারের পতনের পরও ইরাকে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি শেষ হয়নি। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট বা আইএসের উত্থানের পর গোষ্ঠীটির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা আবারও ইরাকে সামরিকভাবে সক্রিয় হয়।
২০১৪ সালে আইএসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক জোট গঠিত হয়। ২০১৭ সালে ইরাক আইএসের বিরুদ্ধে সামরিক বিজয় ঘোষণা করলেও মার্কিন ও জোট বাহিনীর সদস্যরা ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেওয়ার কাজে দেশটিতে অবস্থান করতে থাকেন।
মার্কিন সেনাদের বিদায়ের ফলে ইরাকের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের আশঙ্কা, মার্কিন বাহিনীর গোয়েন্দা তথ্য, নজরদারি ও সামরিক সহায়তা কমে গেলে আইএস আবারও সক্রিয় হওয়ার সুযোগ পেতে পারে। একই সঙ্গে ইরানের ঘনিষ্ঠ সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রভাব বাড়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
অন্যদিকে ইরাকি কর্তৃপক্ষ বলছে, দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী এখন নিজস্ব নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সক্ষমতা অর্জন করেছে। ইরাকি সামরিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিদেশি সেনাদের প্রত্যাহারের পরও দেশের বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন থাকবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক নতুন ধরনের দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতায় রূপ নেবে।
২৩ বছর ধরে ইরাকে অবস্থানের সময়ে মার্কিন বাহিনী দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীকে প্রশিক্ষণ, সরঞ্জাম ও বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দিয়েছে। এখন সেই দায়িত্বের বড় অংশ ইরাকের নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর বর্তাবে।
মার্কিন সেনাদের বিদায়কে ইরানের ঘনিষ্ঠ কয়েকটি গোষ্ঠী নিজেদের জন্য সাফল্য হিসেবে দেখছে। তবে একই সঙ্গে ইরাকের অভ্যন্তরে নিরাপত্তা শূন্যতা তৈরি হবে কি না এবং ভবিষ্যতে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ভূমিকা কী হবে, তা নিয়ে উদ্বেগও রয়েছে।
সূত্র : রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au