সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান কি ক্ষমতা হারানোর ঝুঁকিতে?
সামরিক কৌশল, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক রূপান্তরের পরিকল্পনা নিয়ে একসঙ্গে চাপে সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে দীর্ঘ সংঘাত, আঞ্চলিক মিত্রদের…
বাংলাদেশে চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী ও চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠানের ওপর সহিংসতা বন্ধে সরকারকে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বিশ্ব মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (ডব্লিউএমএ)। সংগঠনটি সতর্ক করে বলেছে, স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর হামলা এখন বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়, বরং এটি একটি বৃহত্তর ও গভীরভাবে উদ্বেগজনক ধারার অংশ হয়ে উঠেছে।
৩০ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রীর কাছে পাঠানো এক চিঠিতে ডব্লিউএমএর প্রেসিডেন্ট ডা. জ্যাকলিন কিটুলু এ উদ্বেগের কথা জানান।
চিঠিতে বলা হয়, বাংলাদেশের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর ‘উদ্বেগজনক মাত্রায়’ সহিংসতার ঘটনা ঘটছে বলে বিশ্বজুড়ে জাতীয় চিকিৎসক সংগঠনগুলোর সমন্বয়ে গঠিত এই আন্তর্জাতিক ফেডারেশন অবগত হয়েছে।
ডব্লিউএমএ জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন এলাকায় স্বাস্থ্যকর্মীরা শারীরিক হামলা ও হুমকির শিকার হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। একই সঙ্গে জরুরি বিভাগসহ বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটছে।
সংগঠনটি বলেছে, এসব হামলার অনেকগুলোই রোগীর মৃত্যুর পর তাদের স্বজনদের মাধ্যমে সংঘটিত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে চিকিৎসাধীন রোগীর মৃত্যু বা চিকিৎসার ফল নিয়ে অসন্তোষের পর চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক এই চিকিৎসক সংগঠন।
বাংলাদেশে পরিচালিত বিভিন্ন গবেষণার কথাও চিঠিতে উল্লেখ করেছে ডব্লিউএমএ। সংগঠনটির ভাষ্য, এসব গবেষণায় দেখা গেছে, স্বাস্থ্যসেবা খাতে কর্মরত উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ব্যক্তি কর্মস্থলে সহিংসতার শিকার হয়েছেন অথবা সহিংসতার ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছেন।
ডব্লিউএমএর মতে, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর সহিংসতার প্রভাব শুধু আহত হওয়া কিংবা মানসিক আঘাতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। এর প্রভাব সরাসরি স্বাস্থ্যসেবার ওপরও পড়ে।
চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তাহীনতা রোগীদের চিকিৎসাসেবার মান, ধারাবাহিকতা ও সহজলভ্যতাকে প্রভাবিত করতে পারে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা কমে যেতে পারে। এর ফলে আগে থেকেই অতিরিক্ত চাপের মধ্যে থাকা স্বাস্থ্য খাতের ওপর আরও চাপ তৈরি হয়।
চিঠিতে ডব্লিউএমএ বলেছে, রোগী, চিকিৎসক এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারের। কর্মক্ষেত্রে সহিংসতা প্রতিরোধ এবং চিকিৎসাসেবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়ে ডব্লিউএমএর বিভিন্ন নীতিগত বক্তব্যের কথাও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ সরকারের প্রতি একাধিক নির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। এর মধ্যে রয়েছে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের পাশাপাশি হাসপাতাল ও অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানকে সুরক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা দ্রুত তদন্ত এবং হামলার সঙ্গে জড়িতদের জবাবদিহির আওতায় আনা।
এ ছাড়া স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে সহিংসতা প্রতিরোধ, অভিযোগ বা ঘটনা জানানোর ব্যবস্থা এবং সহিংসতার ঘটনাগুলো পর্যবেক্ষণের জন্য আরও শক্তিশালী ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছে ডব্লিউএমএ।
সংগঠনটি মনে করে, শুধু হামলার পর ব্যবস্থা নিলেই সমস্যার সমাধান হবে না। স্বাস্থ্য খাতের বিদ্যমান কাঠামোগত সমস্যাগুলোর দিকেও নজর দিতে হবে। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর হামলার পেছনে থাকা বিভিন্ন কারণ চিহ্নিত করে সেগুলো মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছে সংগঠনটি।
ডব্লিউএমএ বাংলাদেশ সরকারকে বিষয়টিকে জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য অংশীজনের সঙ্গে পরামর্শ করে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছে।
সংগঠনটির মতে, স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শুধু তাদের ব্যক্তিগত সুরক্ষার বিষয় নয়। নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা নির্বিঘ্নে রোগীর সেবা দিতে পারবেন এবং সামগ্রিকভাবে স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থাও বজায় থাকবে।
বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর হামলা, হুমকি এবং হাসপাতাল ভাঙচুরের অভিযোগের মধ্যে বিশ্ব মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের এই আহ্বান এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের উদ্বেগকে সামনে এনেছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au