আসন্ন বড় খাদ্য সংকটের জন্য কতটা প্রস্তুত বাংলাদেশ?
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর সতর্ক করে বলেছেন, আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই বিশ্ব বড় ধরনের খাদ্য সংকটের মুখে পড়তে পারে। যুদ্ধ, জ্বালানি ও সার সরবরাহে চাপ,…
আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক দল বা সংগঠন হিসেবে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত চলছে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা এখনো জানাতে পারেনি ট্রাইব্যুনাল। ফলে দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কথিত এই মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্ত কবে শেষ হবে, পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ কী হবে এবং ভবিষ্যতে দলটি কীভাবে রাজনীতির মাঠে ফিরতে পারবে—এসব প্রশ্ন এখন সামনে এসেছে।
রোববার (৪ অক্টোবর) ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম বলেন, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে চলমান তদন্ত ‘কোল্ড স্টোরেজে’ চলে যায়নি। দেশজুড়ে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হচ্ছে। তদন্তের পরিধি বিস্তৃত হওয়ায় এতে সময় লাগবে। তবে কবে নাগাদ তদন্ত শেষ হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময় তিনি জানাননি।
দুই বছরে মামলা ও তদন্ত
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের পর আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী, এমপি, নেতা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে একাধিক মামলা ও তদন্ত শুরু হয়। এর মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের বিরুদ্ধে পৃথক মামলায় বিচারিক কার্যক্রম এগিয়েছে।
২০২৫ সালের ৭ অক্টোবর দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কথিত মানবতাবিরোধী অপরাধের আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হওয়ার কথা জানানো হয়। তদন্তের আওতায় জুলাই-আগস্টের আন্দোলন দমনে দলটির ভূমিকা এবং সংগঠন হিসেবে সম্ভাব্য দায় খতিয়ে দেখার কথা বলা হয়।
এরপর ব্যক্তিবিশেষের বিরুদ্ধে তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া এগোলেও দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে তদন্ত এখনো শেষ হয়নি। চলতি বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনের বিরুদ্ধে জুলাই-আগস্টের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ট্রাইব্যুনাল মৃত্যুদণ্ডের রায় দেয়। তবে এটি ব্যক্তি আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা; রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে চলমান তদন্তটি আলাদা প্রক্রিয়া।
এদিকে ৫ জুলাই চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানিয়েছিলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও সন্ত্রাসের অভিযোগে রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেলে বিদ্যমান আইনে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলেও তিনি জানান।
তদন্ত শেষ না হলে কী হবে?
এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ রয়েছে। ২০২৫ সালের ১২ মে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ দলটির যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। পরে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিচারিক প্রক্রিয়া চলাকালে দলটির মাঠপর্যায়ের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ থাকবে।
সরকারের কয়েকজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছিলেন, আওয়ামী লীগকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে ফিরতে দেওয়া হবে না। অন্যদিকে তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেছিলেন, দলটি মানবতাবিরোধী অপরাধে যুক্ত ছিল কি না, তা বিচারিক প্রক্রিয়ার পর নির্ধারিত হবে।
ফলে এখানে দুটি বিষয় আলাদা করে দেখার সুযোগ রয়েছে—একটি হলো ব্যক্তিবিশেষের বিরুদ্ধে কথিত অপরাধের বিচার, অন্যটি হলো রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের দায় নির্ধারণ। দ্বিতীয় বিষয়টির তদন্ত এখনো শেষ হয়নি।
আওয়ামী লীগ কীভাবে রাজনীতিতে ফিরবে?
আইনিভাবে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের প্রশ্নটি এখন মূলত তিনটি বিষয়ের সঙ্গে যুক্ত—দল হিসেবে চলমান তদন্তের ফল, আদালতের সিদ্ধান্ত এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞার ভবিষ্যৎ। তদন্তে দল হিসেবে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেলে আইনি প্রক্রিয়া আরও এগোতে পারে। আবার তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় দলটির বিরুদ্ধে কী সিদ্ধান্ত আসে, সেটিও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হবে।
ঘুরে দাঁড়ানোর বিকল্প পথ
আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ শুধু আদালত বা ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে না। দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিবেশ, জনমত এবং দলের সাংগঠনিক সক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাস ও দেশজুড়ে বিস্তৃত সাংগঠনিক কাঠামোকে কাজে লাগিয়ে দলটি ভবিষ্যতে নতুন বাস্তবতার সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে।
এ ক্ষেত্রে নতুন নেতৃত্ব সামনে আনা, পুরোনো রাজনৈতিক বক্তব্য ও কর্মসূচি পুনর্মূল্যায়ন, তরুণ প্রজন্মকে নেতৃত্বে যুক্ত করা এবং মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নতুন করে যোগাযোগ গড়ে তোলা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
একই সঙ্গে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ঘটনাকে ঘিরে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক বিতর্কের বিষয়ে দলের নিজস্ব ব্যাখ্যা তুলে ধরা এবং ভবিষ্যৎ কর্মসূচিতে মানুষের প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
আওয়ামী লীগের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলোর সঙ্গে ভবিষ্যৎ সম্পর্ক এবং বৃহত্তর রাজনৈতিক সমীকরণ। দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি পরিবর্তিত হলে দলটির সঙ্গে অন্য রাজনৈতিক পক্ষগুলোর অবস্থানও বদলাতে পারে। ফলে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় সমঝোতা, রাজনৈতিক সংলাপ এবং গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি হওয়াও দলটির ভবিষ্যৎ পথকে প্রভাবিত করতে পারে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au