সুজানগরে নিখোঁজের পর হলুদখেত থেকে হোটেল হিন্দু মালিকের মরদেহ উদ্ধার
পাবনার সুজানগরের আমিনপুরে নিখোঁজের কয়েক ঘণ্টা পর বাবু সুপ্রভাত মোদক (৩৫) নামে এক হোটেল ব্যবসায়ীর ক্ষতবিক্ষত ও আগুনে পোড়া মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (৬…
সংস্কারের ঘাটতি, ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা, জ্বালানি সংকট ও দুর্বল রাজস্ব আহরণের কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতির গতি আরও কমে যাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটির সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ ও ২০২৭ অর্থবছরে দেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৪ শতাংশে নেমে আসতে পারে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) প্রকাশিত ‘বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট’ প্রতিবেদনে বিশ্বব্যাংক বলেছে, ২০২৩ সাল থেকেই বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি মন্থর হচ্ছে। দীর্ঘস্থায়ী কাঠামোগত সমস্যা, জ্বালানি খাতের সংকট, আর্থিক খাতের ভঙ্গুরতা ও অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণের দুর্বলতার পাশাপাশি বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিনিয়োগ কার্যক্রম মন্থর হয়ে পড়েছে, রপ্তানি গতি হারিয়েছে এবং মূল্যস্ফীতি এখনো উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমার পাশাপাশি ব্যবসার পরিচালন ব্যয় বেড়েছে। একই সঙ্গে আর্থিক খাতের দুর্বলতা ঋণপ্রবাহ ও বিনিয়োগকারীদের আস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি দেখা গেছে ব্যাংকিং খাতে। ডিসেম্বর ২০২৫-এ খেলাপি ঋণের হার ৩০ দশমিক ৬ শতাংশ থাকলেও জুন ২০২৬-এ তা বেড়ে ৩৩ দশমিক ২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। বিশ্বব্যাংক বলছে, ব্যাংক খাতে দ্রুত ও কার্যকর সংস্কার না হলে অর্থনীতির পুনরুদ্ধার আরও কঠিন হবে।
রাজস্ব আহরণেও বড় ঘাটতি রয়েছে। ২০২৬ অর্থবছরে দেশের রাজস্ব আদায় জিডিপির মাত্র ৮ দশমিক ৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা বিশ্বের অন্যতম সর্বনিম্ন। এর ফলে সরকারের প্রয়োজনীয় ব্যয় ও উন্নয়ন বিনিয়োগের সক্ষমতা সংকুচিত হয়েছে। একই সময়ে অর্থনৈতিক চাপের প্রভাব পড়েছে মানুষের জীবনযাত্রায়।
বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, ২০২৬ অর্থবছরে দেশে দারিদ্র্য ও বৈষম্য বেড়েছে এবং আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২১ লাখ মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমেছে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি প্রায় থমকে গেছে এবং উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নারী চাকরি হারিয়েছেন।
বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানের কান্ট্রি ডিরেক্টর জ্যাঁ পেসম বলেছেন, অর্থনৈতিক মন্দা এড়াতে এবং বেসরকারি বিনিয়োগনির্ভর অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধিতে ফিরতে ব্যাংকিং খাত, অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণ ও জ্বালানি খাতে দ্রুত ও সাহসী সংস্কার প্রয়োজন। দরিদ্রদের সুরক্ষা এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য এখনই পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন তিনি।
বিশ্বব্যাংক অবশ্য আশা করছে, জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি এবং সংস্কার কার্যক্রমে গতি এলে ২০২৮ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৯ শতাংশে উঠতে পারে। তবে বর্তমান পরিস্থিতি থেকে বের হতে সরকারের সামনে ব্যাংকিং খাত পুনর্গঠন, জ্বালানি সংকট মোকাবিলা ও রাজস্ব আদায় বাড়ানোর মতো বড় চ্যালেঞ্জই রয়ে গেছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au