পিটার ডাটন ও অ্যান্থনি আলবানিজ দুইজনই একমত যে হাউসিং সমস্যার সমাধানে মাল্টি বিলিয়ন ডলারের অতিরিক্ত অর্থায়ন প্রয়োজন।
মেলবোর্ন, ১৬ এপ্রিল ২০২৫- অস্ট্রেলিয়ায় দীর্ঘদিন ধরেই বাড়ির দাম তরুণদের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছো। এই বাস্তবতায় প্রথমবারের মতো বাড়ি কিনতে চাওয়া নাগরিকদের সহায়তায় এবার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে জোর দিয়েছে লেবার ও কোয়ালিশন—দেশের দুই প্রধান রাজনৈতিক দল।
দুই দলই এখন বড় মাপের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে, যা থেকে বোঝা যাচ্ছে তারা কীভাবে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা হাউজিং অ্যাফোর্ডেবিলিটির সংকট সমাধান করতে চায়।
দুই পক্ষই চায় অর্থ ঢালতে, কিন্তু ট্যাক্স সংস্কারে চুপচাপ
দুই দলই একমত যে হাউসিং সমস্যার সমাধানে মাল্টি বিলিয়ন ডলারের অতিরিক্ত অর্থায়ন প্রয়োজন। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উভয় পক্ষের পরিকল্পনায় হাউজিংয়ের চাহিদা ও সরবরাহে প্রভাব ফেলবে—তবে প্রকৃত চ্যালেঞ্জ হলো, কেউই করছাড় ও বিনিয়োগ উৎসাহে গঠনতান্ত্রিক সংস্কারের কথা বলছে না, ফলে বর্তমান সমস্যা সমূহ অব্যাহত থাকতে পারে।
নিউ সাউথ ওয়েলস বিশ্ববিদ্যালয়ের হাউজিং গবেষক অধ্যাপক হ্যাল পসন বলছেন, “আলো আছে টানেলের শেষ প্রান্তে।”
এক নজরে লেবার পার্টির হাউজিং পরিকল্পনা:
- ১ লক্ষ বাড়ি নির্মাণ: প্রথমবারের মতো বাড়ি কিনতে চাওয়া নাগরিকদের জন্য $১০ বিলিয়ন বিনিয়োগে আগামী আট বছরে ১০০,০০০টি বাড়ি নির্মাণ করবে লেবার।
- ৫% জমার স্কিম সম্প্রসারণ: আয়ের সীমা তুলে নেওয়া হবে এবং প্রথমবারের মতো ক্রেতারা মাত্র ৫% ডাউনপেমেন্টে বাড়ি কিনতে পারবেন, লেন্ডারস মর্টগেজ ইনস্যুরেন্স ছাড়াই।
- ‘হেল্প টু বাই’ স্কিম সম্প্রসারণ: সরকার বাড়ির মূল্যের ৪০% পর্যন্ত অংশ কিনে রাখবে, যা পরবর্তীতে ক্রেতা কিনে নিতে পারবেন।
- বিল্ড টু রেন্ট ও করছাড়: ডেভেলপাররা করছাড় পাবেন যদি তারা বাজার মূল্যের নিচে ভাড়া নির্ধারণ করেন।
- $৫,০০০ অ্যাপ্রেন্টিস বোনাস: নির্মাণ খাতে প্রথম বর্ষের শিক্ষানবিসদের জন্য প্রণোদনা।
- বিদেশিদের জন্য নিষেধাজ্ঞা: ২ বছরের জন্য বিদেশিদের হাউজিং বাজারে অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করা হবে।
- হাউজিং অস্ট্রেলিয়া ফিউচার ফান্ড: $১০ বিলিয়নের মাধ্যমে ৩০,০০০ সামাজিক ও সাশ্রয়ী মূল্যের বাসস্থান নির্মাণের পরিকল্পনা অব্যাহত থাকবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বল্পমেয়াদে এই উদ্যোগগুলো বাড়ির দাম বাড়াতে পারে, তবে দীর্ঘমেয়াদে সরবরাহ বাড়াবে।
এক নজরে কোয়ালিশনের হাউজিং পরিকল্পনা:
- মর্টগেজ সুদ করছাড়: নতুন বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে মর্টগেজের সুদের টাকা করযোগ্য আয় থেকে বাদ দেওয়া যাবে।
- সুপার থেকে $৫০,০০০ উত্তোলন: প্রথমবারের ক্রেতারা সুপারঅ্যানুয়েশন থেকে $৫০,০০০ পর্যন্ত উত্তোলন করতে পারবেন।
- হাউজিং অবকাঠামো ফান্ড: $৫ বিলিয়ন তহবিল থাকবে রাস্তা, পয়ঃনিষ্কাশন ইত্যাদি উন্নয়নে। এর মাধ্যমে ৫ লক্ষ বাড়ি নির্মাণ সম্ভব বলে আশা করা হচ্ছে।
- ‘HAFF’ বাতিল: লেবারের হাউজিং অস্ট্রেলিয়া ফিউচার ফান্ড বাতিল করা হবে।
- নতুন নির্মাণের কোড ফ্রিজ: নির্মাণের নিয়ম-কানুন ১০ বছরের জন্য অপরিবর্তিত রাখা হবে।
- মাইগ্রেশন হ্রাস: বিদেশি শিক্ষার্থীদের সংখ্যা কমিয়ে নেট মাইগ্রেশন ১ লক্ষ কমানো হবে।
- $১২,০০০ ট্রেডি বোনাস: দুই বছরের জন্য নির্মাণ শ্রমিক নিয়োগে নিয়োগকর্তাদের ১২ হাজার ডলার ভর্তুকি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিকল্পনাগুলোর অনেকটাই উচ্চ আয়ভুক্তদের বেশি সুবিধা দেবে। যেমন, মর্টগেজ সুদ করছাড় প্রকল্পে উচ্চ আয়ভুক্তদের কর সাশ্রয় অনেক বেশি হবে।
অধ্যাপক পসন বলছেন, “এই সুবিধা এমন মানুষদেরই বেশি যাচ্ছে, যারা যেকোনোভাবেই বাড়ি কিনতে সক্ষম।”
লেবার মূলত সরবরাহ ও প্রথমবারের ক্রেতাদের সহায়তা বাড়াতে চায়, আর কোয়ালিশনের জোর বেশি করছাড় এবং উচ্চ আয়ভুক্তদের সুবিধার দিকে। যদিও কিছু নীতিমালা তাৎক্ষণিক সুবিধা দিতে পারে, কিন্তু হাউজিং বাজারে কাঠামোগত পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজন আরও গভীর সংস্কার—বিশেষ করে বিনিয়োগ ও করনীতিতে।
এবিসি নিউজ, রাজনৈতিক প্রতিবেদক জ্যাক ইভান্সের লেখা অবলম্বনে- প্রদীপ রায়, সম্পাদক