নির্বাচনের আগে নেতানিয়াহুবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল তেল আবিব
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সরকারের বিরুদ্ধে রাজপথে নেমেছেন হাজারো বিক্ষোভকারী। শনিবার (২৪ অক্টোবর) দেশটির রাজধানী তেল আবিবে অনুষ্ঠিত এ বিক্ষোভে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলা…
ওটিএন বাংলা, মেলবোর্ন: প্রবাসে দুর্গাপূজা শুধু দেবীর আরাধনার উপলক্ষ নয়; শিকড়ের কাছে ফিরে যাওয়া, নিজের ভাষা ও সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের হাতে তুলে দেওয়ারও এক আপন পরিসর। সেই ভাবনা নিয়ে মেলবোর্নের এপিং মেমোরিয়াল হলে তিন দিনের দুর্গোৎসব আয়োজন করেছে সার্বজনীন পূজা উৎসব অব ভিক্টোরিয়া এসপিইউভিক (SPUVIC)। শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর শুরু হওয়া এই আয়োজন ২৪ অক্টোবরের পর আজ রোববার, ২৫ অক্টোবর শেষ দিনের আনুষ্ঠানিকতায় পৌঁছেছে।
ধর্মীয় আচার, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, ঐতিহ্যবাহী পোশাক আর একসঙ্গে খাওয়াদাওয়ার আয়োজন—সব মিলিয়ে এই উৎসব প্রবাসী বাঙালির মিলনমেলা। আয়োজকদের ভাষ্য, তাঁদের পূজায় মানুষের অংশগ্রহণ ক্রমেই বাড়ছে। বাঙালি সম্প্রদায়ের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশ ও ধর্মের মানুষের উপস্থিতি আয়োজনের সর্বজনীন চরিত্রকে আরও অর্থবহ করে তুলছে।
এসপিইউভিকের বার্ষিক আয়োজনগুলোর মধ্যে দুর্গোৎসব প্রধান। তিন দিনের নির্ধারিত সূচিতে ষষ্ঠী থেকে দশমীর আচারগুলো সম্পন্ন করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
প্রথম দিন ষষ্ঠীর আয়োজনে ছিল বিল্বনিমন্ত্রণ, কল্পারম্ভ, অকালবোধন, আমন্ত্রণ ও অধিবাস। পরবর্তী পর্বে সপ্তমীর নবপত্রিকা ও কলাবউ পূজার পাশাপাশি অষ্টমীর দুর্গাপূজা, কুমারী পূজা ও সন্ধিপূজার আয়োজন রাখা হয়।

এপিংয়ে সার্বজনীন দুর্গোৎসব। ছবি: ওটিএন বাংলা
শেষ দিনের সূচিতে রয়েছে মহানবমী পূজা, ধর্মীয় আচার হিসেবে বলিদান ও নবমী হোম। এরপর দশমীর বিসর্জন-আচার, বিজয়াদশমী ও সিঁদুর উৎসবের মধ্য দিয়ে তিন দিনের আয়োজন সমাপ্ত হয়। পুরোহিত ড. জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ের পৌরোহিত্যে বৈদিক রীতি অনুসরণ করে পূজার আনুষ্ঠানিকতা পরিচালিত হয়।
দুর্গোৎসবের অন্যতম আকর্ষণ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। স্থানীয় কমিউনিটির প্রতিভাবান শিল্পীদের পাশাপাশি আমন্ত্রিত পেশাদার শিল্পীদের পরিবেশনা এই আয়োজনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আয়োজকদের কাছে এই মঞ্চ বিনোদনের সঙ্গে বাংলা ভাষা, শিল্প ও সংস্কৃতিচর্চারও সুযোগ তৈরি করে।
প্রবাসে বেড়ে ওঠা শিশু-কিশোরদের জন্য এমন উৎসবের আলাদা তাৎপর্য রয়েছে। পরিবারের সঙ্গে পূজায় আসা, আচার-অনুষ্ঠানের সঙ্গে পরিচিত হওয়া এবং সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশ নেওয়ার মধ্য দিয়ে তারা নিজেদের ঐতিহ্যকে কাছ থেকে জানার সুযোগ পায়।

ঐতিহ্যবাহী পোশাকে উৎসবের আনন্দে এক ফ্রেমে বিভিন্ন প্রজন্ম—এপিংয়ে এসপিইউভিকের সার্বজনীন দুর্গোৎসব ২০২৬। ছবি: ওটিএন বাংলা
পোশাকেও ফুটে ওঠে উৎসবের বাঙালিয়ানা। শাড়ি ও নানা ঐতিহ্যবাহী পোশাকে অংশগ্রহণকারীরা তুলে ধরেন বাঙালির রুচি ও সাংস্কৃতিক পরিচয়। প্রবাসের ব্যস্ত জীবনে এই কয়েকটি দিন তাই অনেকের কাছে হয়ে ওঠে আত্মপরিচয় উদ্যাপনের সময়।
এই পূজার আয়োজনের সঙ্গে শুরু থেকেই যুক্ত ব্যক্তিদের একজন প্রজাপতি রায়। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে উৎসবের উন্মুক্ত চরিত্র এবং নতুন প্রজন্মের মাধ্যমে সংস্কৃতিকে এগিয়ে নেওয়ার ভাবনা।
তিনি বলেন, “এই পূজা সর্বজনীন। এখানে বিভিন্ন ধর্মের এবং বিভিন্ন দেশের মানুষ আসছেন।” তাঁর কথায়, নতুন প্রজন্মও এই আয়োজনের মাধ্যমে বাঙালি সংস্কৃতিকে তুলে ধরছে। পূজা ও সংস্কৃতিচর্চার এই সম্মিলিত পরিসর ঐতিহ্য লালনের সুযোগ করে দিচ্ছে।
এসপিইউভিকের পূজা, উৎসব ও সাংস্কৃতিক আয়োজন সদস্য ও অ-সদস্য সবার জন্য উন্মুক্ত। ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল যে কেউ অতিথি হিসেবে অংশ নিতে পারেন; চাইলে সদস্য হয়ে সংগঠনের কার্যক্রমেও যুক্ত হতে পারেন।
তিন দিনের আয়োজনে খাবারের ব্যবস্থাও মিলনমেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। শুক্রবার রাতের খাবার, শনিবার দুপুর ও রাতের খাবার এবং রোববার দুপুর ও সন্ধ্যার ভোজের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
একসঙ্গে বসে খাওয়ার এই পরিসরে পুরোনো পরিচিতদের সঙ্গে দেখা হয়, নতুন মানুষের সঙ্গে আলাপ জমে। পূজার আনুষ্ঠানিকতার বাইরেও এভাবেই গড়ে ওঠে পারস্পরিক সম্পর্ক ও কমিউনিটির বন্ধন।
২০১৮ সালের এপ্রিলে প্রতিষ্ঠিত এসপিইউভিকের লক্ষ্য ছিল ভিক্টোরিয়ায় এমন একটি স্থায়ী পরিসর গড়ে তোলা, যেখানে সদস্য ও তাঁদের সন্তানেরা সনাতন ধর্মের মূল্যবোধ এবং বাংলা ভাষা, ঐতিহ্য, শিল্প ও সংস্কৃতিকে লালন করতে পারবেন।
দুর্গোৎসব ছাড়াও সংগঠনটি মহালয়া, সরস্বতী পূজা, কালীপূজা, বাংলা নববর্ষ ও কৃষ্ণ জন্মাষ্টমী উদ্যাপন করে। বিভিন্ন আয়োজনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, চিত্রকলা ও পরিবেশনাশিল্পের প্রতিযোগিতা এবং কমিউনিটি সাময়িকী প্রকাশের মাধ্যমে সদস্য ও শিশু-কিশোরদের সৃজনশীলতা প্রকাশের সুযোগ দেওয়া হয়।
আয়োজকেরা কমিউনিটির সবাইকে তাঁদের উৎসবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এপিংয়ের এই দুর্গোৎসবে দেবীর আরাধনার সঙ্গে তাই জড়িয়ে রয়েছে আরও একটি প্রত্যাশা—প্রবাসের মাটিতে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি বেঁচে থাকুক চর্চায়, সম্পর্কের উষ্ণতায় এবং নতুন প্রজন্মের সক্রিয় অংশগ্রহণে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au